নির্বাচনী লড়াই থেকে নিজেকে সরিয়ে নিলেন কর্ণাটকের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও বিশিষ্ট কংগ্রেস নেতা সিদ্দারামাইয়া। রবিবার রাজনৈতিক মহলকে বিস্মিত করে সিদ্দারামাইয়া জানিয়েছেন, আর কখনও তিনি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন না। ভারতের রাজনীতির ওপর বীতশ্রদ্ধ হয়েই তাঁর এই সিদ্ধান্ত বলেও জানিয়েছেন বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা। নিজের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে স্বচ্ছ ভাবমূর্তির দৃঢ় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবেই তাঁর পরিচিতি।
এই মুহূর্তে কর্ণাটকে কোনও নির্বাচন নেই। রাজ্যের পরবর্তী বিধানসভা নির্বাচন ২০২৮ সালে। বয়সের হিসেবে তখন সিদ্দারামাইয়ার বয়স হবে ৮২ বছর প্রায়। এদিন সেকথা উল্লেখ করে সিদ্দারামাইয়া জানিয়েছেন, আমার এখন ৭৯ বছর বয়স। শারীরিক সক্ষমতাও কমেছে। আরও দেড় বছর পর যখন নির্বাচন হবে তখন আমার বয়স ৮০ পেরিয়ে যাবে। এখনই আর আগের মত উৎসাহ নিয়ে কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না।
রাজনৈতিক সন্ন্যাস ঘোষণা করে দেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থাকেও কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন প্রবীণ এই রাজনীতিবিদ। তাঁর মতে, এখন দেশের রাজনীতি দুর্নীতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। সততার রাজনীতির আর কোনও জায়গা নেই। নির্বাচনে প্রার্থী হতে গেলেও এখন টাকা দিতে হয়। নির্বাচনে লড়ার সময় জনগণকেও টাকা দিতে হয়। যা কখনই কাম্য নয়।
এদিন সিদ্দারামাইয়া জানান, নিজের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে কখনও দুর্নীতির সঙ্গে আপোষ করেননি। নিজের বিবেক সায় দেয়নি এমন কোনও কাজ করেননি। কিন্তু পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি সম্পূর্ণ পাল্টে গেছে। এই পরিস্থিতিতেই নিজেকে রাজনীতি থেকে সরিয়ে নেবার কথা ঘোষণা করেছেন তিনি।
রবিবার দুপুরে নিজের এক্স হ্যান্ডেলে (পূর্বতন ট্যুইটার) এক দীর্ঘ বিবৃতিতে তিনি জানিয়েছেন, "বরুণা নির্বাচনী এলাকার মানুষ আবারও আমাকে নির্বাচনে লড়ার জন্য অনুরোধ করছেন। কিন্তু আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, এখন থেকে আমি আর কোনো নির্বাচনেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করব না। অতীতে যখন আমি নির্বাচনে লড়েছিলাম, তখন সেই এলাকার মানুষই আমাদের অর্থ দিয়ে সহায়তা করতেন এবং আমাদের জয় নিশ্চিত করতেন। কিন্তু আজ আর সেই পরিস্থিতি নেই।"
চলতি বছরের মে মাসের শেষ সপ্তাহে কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দেন সিদ্দারামাইয়া। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন ডি কে শিবকুমার। মূলত কংগ্রেস হাইকম্যান্ডের নির্দেশেই তিনি ইস্তফা দিলেও রাজনৈতিক মহলের মতে তিনি ইস্তফা দিতে চাননি। যদিও ইস্তফা দিতে বাধ্য হওয়ার পরে অভিমানবশতই নিজেকে রাজনৈতিক কর্মকান্ড থেকে সরিয়ে নিলেন সিদ্দারামাইয়া।
২০২৩ থেকে মুখ্যমন্ত্রীর পদ সামলানোর আগে তিনি ২০১৩ থেকে ২০১৮ কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ছাড়াও কর্ণাটকে এস নিজলিঙ্গাপ্পা, বীরেন্দ্র পাতিল, ডি দেবরাজ আরস, রামকৃষ্ণ হেগড়ে, এইচ ডি কুমারস্বামী এবং বি এস ইয়েদুরিয়াপ্পাও একাধিকবারের জন্য মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে ১২ বার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ৯ বার জয়লাভ করেছেন সিদ্দারামাইয়া। ১৯৭৮ সালে প্রথমবার বিধানসভা নির্বাচনে চামুন্ডেশ্বরী কেন্দ্র থেকে চরণ সিং-এর লোকদলের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তিনি পরাজিত হন। ১৯৮৩ সালে তিনি জয়ী হন নির্দল প্রার্থী হিসেবে। পরবর্তী সময়ে তিনি যোগ দেন জনতা দলে। ১৯৯৯ সালে জনতা দলের বিভাজনের সময় তিনি এবং প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী এইচ ডি দেবেগৌড়া জনতা দল (সেকুলার) তৈরি করেন। পরবর্তী সময়ে জেডি(এস)-এর সঙ্গে তাঁর বিরোধ দেখা দেয় এবং ২০০৬ সালে তিনি জেডি(এস) থেকে বহিষ্কৃত হন। এর পরেই তিনি বেঙ্গালুরুর এক জনসভায় সোনিয়া গান্ধীর উপস্থিতিতে কংগ্রেসে যোগ দেন।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন