

নয়াদিল্লীতে সিপিআইএম-এর সদর দফতর একেজি ভবনে দিল্লি পুলিশের একটি দল। জানা গেছে, এসএফআই নেত্রী ঐশী ঘোষকে গ্রেপ্তারের জন্যেই পুলিশের ওই দল সিপিআইএম অফিসে যায়। ২০২১ সালের একটি মামলার জেরেই এসএফআই নেত্রীকে গ্রেপ্তারের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ২০২১ সালের মামলায় পুলিশের এই তৎপরতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে রাজনৈতিক মহলে।
মঙ্গলবারের ঘটনা প্রসঙ্গে সিপিআইএম রাজ্যসভা সাংসদ জন ব্রিটাস জানিয়েছেন, অনুমতি ছাড়া পুলিশ কোনও রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ে প্রবেশ করতে পারে না। তাছাড়াও এদিন পুলিশ ইউনিফর্ম ছাড়াই এসেছিল এবং তাদের কোনও নেমপ্লেট ছিল না। যা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন সাংসদ ব্রিটাস। পরে পুলিশ ফিরে যায়।
এই ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন জন ব্রিটাস। তিনি বলেন, ঐশী ঘোষের প্রতিবাদী ভূমিকার কারণে এবং সাম্প্রতিক বিভিন্ন প্রতিবাদ আন্দোলনে তাঁর ভূমিকার জন্য প্রতিহিংসামূলক পদক্ষেপ হিসেবে তাঁকে গ্রেপ্তার করতে এসেছিল পুলিশ। এই ঘটনাকে তিনি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বলে অভিহিত করেছেন।
সিপিআইএম-এর অভিযোগ, পুলিশ একটি ব্যক্তিগত গাড়িতে করে এসেছিল, তাদের কয়েকজনের গায়ে কোনো ইউনিফর্ম ছিল না এবং জিজ্ঞাসাবাদের পর তারা চলে যায়।
এক বিবৃতিতে সিপিআইএম জানিয়েছে, একটি রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ে এই নির্লজ্জ অনুপ্রবেশ এবং ছাত্র বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে চলমান প্রতিহিংসামূলক অভিযান গণতান্ত্রিক অধিকারের ওপর মোদী সরকারের ক্রমবর্ধমান আক্রমণকে উন্মোচিত করে। ছাত্রদের ন্যায্য উদ্বেগের সমাধান করার পরিবর্তে, রাষ্ট্র ভিন্নমতকে ভয় দেখাতে, স্তব্ধ করতে এবং অপরাধ হিসেবে গণ্য করতে পুলিশি ক্ষমতা ব্যবহার করছে।
সিপিআই(এম) এই বেআইনি পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানায় এবং ন্যায়বিচার, শিক্ষা ও গণতন্ত্রের জন্য লড়াইরত ছাত্রদের পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়ায়।
সিপিআইএম-এর পক্ষ থেকে এই বেআইনি পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে এবং ন্যায়বিচার, শিক্ষা ও গণতন্ত্রের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়ানোর বার্তা দেওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, দিল্লীর সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলনে বড়ো ভূমিকা নিয়েছিলেন এসএফআই নেত্রী ঐশী ঘোষ। নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে এসএফআই নেত্রী ঐশী ঘোষ অনশনেও বসেন।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন