সুপ্রিম কোর্টে বিলকিস বানোর ধর্ষকদের মুক্তি মামলা থেকে আবার সরে দাঁড়ালেন গুজরাটি বিচারপতি

২০০৪ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত গুজরাট সরকারের আইন সচিব হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন গুজরাটের বাসিন্দা বেলা এম ত্রিবেদী। ২০১৬ সাল থেকে দীর্ঘ পাঁচ বছর, গুজরাট আদালতের বিচারপতি হিসাবে নিযুক্ত ছিলেন।
সুপ্রিম কোর্টে বিলকিস বানোর ধর্ষকদের মুক্তি মামলা থেকে আবার সরে দাঁড়ালেন গুজরাটি বিচারপতি

বিলকিস বানোর (Bilkis Bano) মামলার শুনানি থেকে আবার সরে দাঁড়ালেন বিচারপতি বেলা এম ত্রিবেদী (Justice Bela M Trivedi)।

বিলকিস বানোর ধর্ষকদের মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত খতিয়ে দেখার আর্জি জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন সিপিআই(এম)-র পলিটব্যুরোর সদস্য সুভাষিণী আলি, তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ মহুয়া মৈত্র, সাংবাদিক রেবতী লউল, লখনউ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য রূপরেখা বর্মা।

কিন্তু বুধবার সেই মামলার শুনানি থেকে নিজেকে আবার সরিয়ে নিলেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি বেলা ত্রিবেদী। ফলে নতুন বেঞ্চ গঠন না হওয়া পর্যন্ত শুনানি মুলতুবি হয়ে গেল।

২০২২ সালের, ১৫ আগস্ট বিলকিস বানো গণধর্ষণ কাণ্ডে দোষী সাব্যস্ত ১১ জনকে আগাম মুক্তি দেয় গুজরাট সরকার। সেই আদেশকে চ্যালেঞ্জ করে, ৩০ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেন বিলকিস বানো। কিন্তু, ১৩ ডিসেম্বর, সেই মামলার শুনানি থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন বিচারপতি বেলা এম ত্রিবেদী।

এরপর, ১৭ ডিসেম্বর, বিলকিস বানোর সেই আবেদন খারিজ করে দেয় সুপ্রিম কোর্ট। তবে, সেসময় সুভাষিণী আলি, মহুয়া মৈত্রদের মামলা গ্রহণ করে শীর্ষ আদালত। এবার, সেই মামলার শুনানি থেকেও সরে দাঁড়ালেন গুজরাট থেকে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি বিচারপতি বেলা ত্রিবেদী।

গুজরাট ও বিচারপতি বেলা এম ত্রিবেদী

বিচারপতি বেলা এম ত্রিবেদী হলেন গুজরাটের বাসিন্দা। ২০০২ সালে গুজরাট দাঙ্গার পর ২০০৪ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত গুজরাট সরকারের আইন সচিব হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন তিনি।

২০১১ সালে গুজরাট হাইকোর্টের অতিরিক্ত বিচারক হিসাবে নিযুক্ত হন তিনি। কয়েক মাসের মধ্যে রাজস্থান হাইকোর্টে তিনি বদলি হন এবং ২০১৩ সালে রাজস্থান হাইকোর্টের স্থায়ী বিচারক হিসাবে নিযুক্ত হন তিনি। তিন বছর পর, ২০১৬ সালে, আবার তিনি গুজরাট হাইকোর্টে ফিরে আসেন। দীর্ঘ পাঁচ বছর, গুজরাট আদালতের বিচারপতি হিসাবে নিযুক্ত ছিলেন। এরপর, ২০২১ সালের ৩১ আগস্ট সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি হন বেলা এম ত্রিবেদী।

উল্লেখ্য, ২০০২ সালের মার্চ মাসে, গোধরাকাণ্ডের সময় বিলকিস বানোকে গণধর্ষণ করে একদল দুষ্কৃতী। এমনকি, দাহোদ জেলায় লিমখেড়া তালুকায় রাধিকাপুর গ্রামে বিলকিস বানোর পরিবারের উপর হামলাও চালানো হয়। খুন করা হয় তাঁর পরিবারের ৭ জন সদস্যকে। আর, নারকীয় সেই কাণ্ডে দোষী সাবস্ত ১১ জনকে আগাম মুক্তি দিয়েছে গুজরাট সরকার।

শুধু তাই নয়, স্বাধীনতার দিবসের দিনে ১১ জন ধর্ষকদের কার্যত বীরের সম্মান দিয়ে বরণ করে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ। আনন্দে মিষ্টি বিতরণ করা হয়। 

গুজরাট গণধর্ষণকাণ্ডে মুক্তিপ্রাপ্ত আসামীরা হলেন - যশবন্ত নাই, গোবিন্দ নাই, শৈলেশ ভট্ট, রাধ্যেশ্যাম শাহ, বিপিন চন্দ্র জোশী, কেসারভাই ভোহানিয়া, প্রদীপ মোরধিয়া, বাকাভাই ভোহানিয়া, রাজুভাই সোনি, মিতেশ ভাট এবং রমেশ চন্দনা। 

সুপ্রিম কোর্টে বিলকিস বানোর ধর্ষকদের মুক্তি মামলা থেকে আবার সরে দাঁড়ালেন গুজরাটি বিচারপতি
মানসিক প্রতিবন্ধীর কিডনি বিক্রি! ৫ পুলিশের বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ মানবাধিকার কমিশনের
সুপ্রিম কোর্টে বিলকিস বানোর ধর্ষকদের মুক্তি মামলা থেকে আবার সরে দাঁড়ালেন গুজরাটি বিচারপতি
পুলিশের শাস্তি চেয়ে জেলের মধ্যে হওয়া নৃশংস অত্যাচারের কথা মানবাধিকার কমিশনকে জানালেন আরজুনা বিবি

GOOGLE NEWS-এ আমাদের ফলো করুন

Related Stories

No stories found.
People's Reporter
www.peoplesreporter.in