

তাঁর বিরুদ্ধে করা সমালোচনা বন্ধ করতে দিল্লি আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন রামদেব। তিনি এক্ষেত্রে ব্যক্তিত্ব অধিকার (Personality Rights) মামলা দায়ের করেছেন। নিজের নাম, ভাবমূর্তি রক্ষায় এই আবেদন করেছেন বলে জানা গেছে।
গতকাল মঙ্গলবার আদালতে ওঠে এই মামলা। যেখানে তাঁর পক্ষের আইনজীবীরা রামদেবের বিরুদ্ধে করা যে কোনো প্যারোডি, ব্যাঙ্গ, রাজনৈতিক মন্তব্য, খবর পরিবেশন এবং ফ্যাক্ট চেক-এর বিষয় নিয়ে সরব হয়ে সব মোছার দাবি জানিয়েছেন।
এই মামলার শুনানিতে বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মের পক্ষ থেকে আদালতে উপস্থিত আইনজীবীরা জানিয়েছেন, এই ধরণের নির্দেশ দেওয়া হলে তা নাগরিকদের বাক স্বাধীনতার অধিকার লঙ্ঘন করবে। এর মধ্যে আছে, রামদেবের হাতিতে চড়ার ভিডিও, পেট্রোলের দাম উল্লেখ করে পোষ্ট, চিকিৎসার জন্য একজন অ্যালোপাথি ডাক্তারের সামনে তাঁর শুয়ে থাকা ইত্যাদি সংক্রান্ত পোষ্ট।
সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স-এর পক্ষ থেকে শুনানিতে উপস্থিত আইনজীবী জানিয়েছেন, তিনি যে ১৬টি ইউআরএল সরিয়ে দেবার দাবি জানিয়েছিলেন তার ১৪টি ইতিমধ্যেই মুছে দেওয়া হয়েছে।
একই মামলায় মেটার পক্ষ থেকে উপস্থিত আইনজীবী জানিয়েছেন, গুরুতর বা আপত্তিকর বিষয়বস্তু মেটা প্ল্যাটফর্ম থেকে সরিয়ে নেবার বিষয়ে তাদের আপত্তি নেই। কিন্তু ব্যক্তিত্বের অধিকারের অধীনে কোনও সংবাদ প্রতিবেদন সরিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়।
গতকাল আদালতে রামদেবের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট রাজীব নায়ার। তিনি আদালতের সামনে জানান, তাঁর মক্কেল যে পোষ্টগুলি সরিয়ে নিতে বলেছেন তা অবমাননাকর। যে যে পোষ্টে তাঁর মক্কেলকে অবমাননা করা হয়েছে তাঁরা শুধুমাত্র সেই পোষ্টগুলিই সরিয়ে নেবার কথা বলেছেন। তিনি আরও বলেন, অনেকেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং ডিপফেকের মাধ্যমে তৈরি বিভিন্ন বিষয়ে রামদেবকে ব্যবহার করে তাঁর ব্যক্তিত্বের অধিকার কাজে লাগাচ্ছেন। মামলায় রামদেবের কণ্ঠস্বর, ভাবমূর্তি, সাদৃশ্য, স্বতন্ত্র কথা বলার ধরণ এবং তার সাথে সম্পর্কিত অন্যান্য বৈশিষ্ট্যের সুরক্ষা চাওয়া হয়েছে।
যদিও গতকাল এই মামলার কোনও নিষ্পত্তি হয়নি। এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে আজ ১৮ ফেব্রুয়ারি। তার আগে বিচারপতি জ্যোতি সিং রামদেবের পক্ষের আইনজীবীকে নির্দেশ দিয়েছেন যে কোন কোন কনটেন্ট তাঁরা মুছে ফেলতে চান আদালতের কাছে তার তালিকা জমা দিতে হবে।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন