

পিএম কেয়ার্স ফান্ডে খরচ হয়েছে মাত্র ০.০১ শতাংশ টাকা। যেখানে শুধুমাত্র ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষেই এই ফান্ডে অনুদান এসেছে প্রায় ৪৮০ কোটি টাকা। দ্য প্রাইম মিনিস্টার’স সিটিজেন অ্যাসিস্টেন্স অ্যান্ড রিলিফ ইন এমারজেন্সি সিচুয়েশনস (PM CARES) ফান্ডের ২০২৩-২৪ এবং ২০২৪-২৫-এর পরীক্ষিত হিসেব থেকে মঙ্গলবার ১৮ আগস্ট এই তথ্য পাওয়া গেছে। কোভিড-১৯ মহামারীর সময় গঠিত হয়েছিল এই ফান্ড।
পিএম কেয়ারস ফান্ডের সদ্য প্রকাশিত অডিট রিপোর্ট অনুসারে ২০২৪-২৫-এ অভ্যন্তরীণভাবে জমা পড়েছে ৪৭৯ কোটি টাকার কিছু বেশি। এই সময়েই এই ফান্ডে বিদেশ থেকে অনুদান এসেছে ৯২.৮ লক্ষ টাকা। ২০২৩-২৪-এ এই ফান্ডে অভ্যন্তরীণভাবে জমা পড়েছিল ৬৮১.৮ কোটি টাকা এবং বিদেশ থেকে অনুদান এসেছিল ১.১৩ কোটি টাকা। ৩১ মার্চ ২০২৫-এর হিসেব অনুসারে এই ফান্ডের মোট জমা ৮,৪৫২ কোটি টাকা। যা ৩১ মার্চ ২০২৪-এ ছিল ৭,১৭৩ কোটি টাকা।
রিপোর্ট অনুসারে, পিএম কেয়ারসের মোট টাকার ৭,৮৪৬ কোটি টাকা ফিক্সড ডিপোজিট এবং ৬০৫ কোটি টাকা সেভিংস ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে রাখা আছে। ২০২৩-২৪ সালে এই ফান্ড থেকে খরচ করা হয়েছিল ১৫.৬ কোটি টাকা এবং ২০২৪-২৫ সালে এই ফান্ড থেকে খরচ করা হয়েছে ৮৭.৮৫ লক্ষ টাকা।
পিএম কেয়ারস-এর ওয়েবসাইটের তথ্য অনুসারে, ২০২০-২১ সালে এই ফান্ডে জমা পড়েছিল ৭,১৮৪ কোটি টাকা। ২০২১-২২-এ জমা পড়ে ১,৮৯৬ কোটি টাকা এবং ২০২২-২৩ আর্থিক বছরে জমা পড়ে ৯০৯ কোটি টাকা। এই তিন আর্থিক বিদেশি অনুদান এসেছে যথাক্রমে ৪৯৫ কোটি, ৪০ কোটি এবং ২.৫৭ কোটি টাকা।
মার্চ ২০২০ তে শুরু হওয়া পিএম কেয়ারস ফান্ডে এখনও পর্যন্ত মোট জমা পড়েছে ১৪,৭৬৬.৯৫ কোটি টাকা এবং ২০২৪-২৫ পর্যন্ত মোট খরচ হয়েছে ৮,১৩৩.২৯ কোটি টাকা। যে খরচের বেশিরভাগটাই করা হয়েছিল কোভিড-১৯ মহামারীর সময়।
পিএম কেয়ারস ফান্ডের এই হিসেব প্রকাশ্যে আসার পরেই তা নিয়ে সরব হয়েছে কংগ্রেস। দলের রাজ্যসভা সাংসদ পবন খেরা তাঁর এক্স হ্যান্ডেলে (পূর্বতন ট্যুইটার) এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ৮,৪৫২ কোটি টাকার মধ্যে মাত্র ০.০১ শতাংশ টাকা খরচ করা হয়েছে। যদিও এই সময় দেশের বিভিন্ন জায়গায় একাধিক প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঘটনা ঘটেছে এবং বহু মানুষের ত্রাণ ও পুনর্বাসনের প্রয়োজন ছিল। সেই সময় বিপুল অঙ্কের এই টাকা অব্যবহৃত অবস্থায় ফেলে রাখা হয়েছিল।
পিএম কেয়ারস ফান্ডে বিশাল অঙ্কের টাকা অব্যবহৃত থাকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সমাজকর্মী অঞ্জলি ভরদ্বাজও। নিজের এক্স হ্যান্ডেলে অঞ্জলি লিখেছেন, অবশেষে পিএম কেয়ারস ফান্ডের ২০২৪-২৫-এর অডিট রিপোর্ট প্রকাশ্যে এসেছে। যার সারমর্ম ৮,৪৫২ কোটি টাকার মধ্যে মাত্র ০.০১ শতাংশ টাকা খরচ করা হয়েছে। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন কেন এই বিশাল অঙ্কের টাকা অব্যবহৃত অবস্থায় ফেলে রাখা হয়েছে?
পি এম কেয়ারস প্রসঙ্গে কী প্রশ্ন তুলেছিলেন সিপিআইএম সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি?
এর আগে ২০২০ সালের ১৯ আগস্ট এই বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন প্রয়াত সিপিআইএম সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদন উদ্ধৃত করে ট্যুইট বার্তায় সীতারাম ইয়েচুরি জানিয়েছিলেন – “বহু আপত্তি সত্ত্বেও আগামী দু বছরের জন্য সমস্ত সাংসদদের এম পি ল্যাড থেকে ১০ কোটি টাকা করে পিএম কেয়ারস ফান্ডে জমা দেবার এক্সিকিউটিভ অর্ডার দেওয়া হয়েছে। মাননীয় সুপ্রিম কোর্টের উপসংহার অনুসারে কীভাবে এটা স্বেচ্ছাসেবী দান হতে পারে? পি এম কেয়ারস ফান্ডে কোনো স্ক্রুটিনি করা যাবে না। সরকারী কর্মচারীদেরও এই ফান্ডে টাকা জমা দিতে বলা হচ্ছে। ৩৮ টা পিএসইউ এই ফান্ডে ২,১০৫ কোট টাকা দিয়েছে। কীভাবে এই ফান্ডকে সমস্ত অডিট, স্ক্রুটিনির আওতা থেকে বাদ রাখা হয়?”
ওই সময় ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের যে প্রতিবেদন উদ্ধৃত করে সীতারাম ইয়েচুরি তাঁর মন্তব্য করেছিলেন সেই প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ৩৮ পিএসইউ-র মধ্যে পি এম কেয়ারস ফান্ডে সবথেকে বেশি টাকা দিয়েছে ওএনজিসি। যার পরিমাণ ৩০০ কোটি। এছাড়াও এনটিপিসি দিয়েছে ২৫০ কোটি, ইন্ডিয়ান অয়েল ২২৫ কোটি, পাওয়ার ফিনান্স এবং পাওয়ার গ্রিড ২০০ কোটি করে, এনএমডিসি ১৫৫ কোটি, আরইসি ১৫০ কোটি, বিপিসিএল ১২৫ কোটি, এইচপিসিএল ১২০ কোটি, কোল ইন্ডিয়া ১০০ কোটি, হাডকো এবং গেল ৫০ কোটি করে।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন