PM Cares-সহ ৩ তহবিল নিয়ে সংসদে প্রশ্ন করা যাবে না, লোকসভাকে জানালো পিএমও; কী বলেছিলেন ইয়েচুরি?

People's Reporter: দেশের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ তহবিল – পিএম কেয়ার্স ফান্ড (PM CARES Fund), প্রধানমন্ত্রী জাতীয় ত্রাণ তহবিল (PMNRF) এবং জাতীয় সামরিক তহবিল (NDF) নিয়ে সংসদে কোনও প্রশ্ন তোলা যাবে না।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও প্রয়াত সিপিআইএম সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও প্রয়াত সিপিআইএম সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরিফাইল ছবি, গ্রাফিক্স আকাশ
Published on

দেশের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ তহবিল – পিএম কেয়ার্স ফান্ড (PM CARES Fund), প্রধানমন্ত্রী জাতীয় ত্রাণ তহবিল (PMNRF) এবং জাতীয় সামরিক তহবিল (NDF) নিয়ে সংসদে কোনও প্রশ্ন তোলা যাবে না। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে এমনটাই জানিয়ে দেওয়া হয়েছে সংসদের সচিবালয়কে। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদনে একথা জানানো হয়েছে।

ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয় থেকে গত ৩০ জানুয়ারি একথা জানানো হয়েছে লোকসভার সচিবালয়কে। লোকসভার বিধির ধারা ৪১(২)(৮) এবং ধারা ৪১(২)(১৭) উল্লেখ করে একথা জানানো হয়েছে বলেও জানিয়েছে ওই প্রতিবেদন।

সংসদের কার্য বিবরণীর এই দুই ধারায় কী বলা আছে?

ধারা ৪১(২)(৮) অনুসারে লোকসভায় সাংসদদের প্রশ্ন তোলার অধিকার থাকলেও যে যে বিষয়ের সঙ্গে ভারত সরকারের প্রাথমিকভাবে কোনও সম্পর্ক নেই তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা যাবে না।

ধারা ৪১(২)(১৭) অনুসারে, ভারত সরকারের প্রতি দায়বদ্ধ নয়, এই ধরণের কোনও গোষ্ঠী বা ব্যক্তির হাতে যে সমস্ত বিষয় আছে তা নিয়ে সংসদে প্রশ্ন তোলা যাবে না আলোচনা করা যাবে না।  

জানানো হয়েছে, এই তহবিলের মূলধন সম্পূর্ণভাবে স্বেচ্ছাসেবী জনসাধারণের দানের মাধ্যমে গঠিত, এখানে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে কোনও তহবিল বরাদ্দ করা হয়নি। এক্ষেত্রে যদি জিরো হাওয়ার অথবা বিশেষ প্রশ্ন হিসেবে এই বিষয় তোলা হয় সেক্ষেত্রে ধারার শর্তাবলী প্রয়োগ করা যেতে পারে।

পি এম কেয়ারস ফান্ড

কোভিডের সময় তৈরি হওয়া পিএম কেয়ারস ফান্ড নিয়ে যদিও প্রশ্ন আজকের নয়। যে দাতব্য ট্রাষ্টের পুরো নাম, Prime Minister's Citizen Assistance and Relief in Emergency Situation Fund। এই তহবিলের চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তহবিলের ঠিকানাতে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের ঠিকানা দেওয়া রয়েছে। ওয়েবসাইটে নরেন্দ্র মোদীর ছবির সাথে জাতীয় প্রতীক অশোক স্তম্ভও রয়েছে। তহবিলের অছি পরিষদের সদস্য তালিকায় নাম রয়েছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রতিরক্ষামন্ত্রী, অর্থমন্ত্রীর। এই তহবিলের টাকা কোথায় খরচ করা হয়েছে তা নিয়ে একাধিকবার বিরোধীরা প্রশ্ন তুললেও তা নিয়ে কোনও সদুত্তর পাওয়া যায়নি। সিএজি দিয়ে অডিটের দাবিও অস্বীকার করা হয়েছে।

২০২১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে দিল্লি হাইকোর্টে দাখিল হওয়া এক পিটিশনে আবেদনকারী জানিয়েছিলেন, প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রতিরক্ষা মন্ত্রী এবং অর্থমন্ত্রীদের মতো ট্রাস্টিদের নিয়ে তৈরি তহবিলে সরকারের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই, যা দুঃখজনক। যার উত্তরে প্রধানমন্ত্রীর দফতরের আন্ডার সেক্রেটারি প্রদীপ কুমার শ্রীবাস্তব আদালতে হলফনামা জমা দিয়ে জানান, সংবিধানে তৈরি কোনো আইনে এই তহবিল তৈরি হয়নি। বাজেট থেকে কোনো অর্থ বরাদ্দ করা হয়না এই তহবিলে। স্বেচ্ছায় অনুদান জমা হয় এখানে। তৃতীয় পক্ষের কাছে এর তথ‍্য প্রকাশ করা অনুমোদিত নয়।

পি এম কেয়ারস প্রসঙ্গে কী প্রশ্ন তুলেছিলেন সিপিআইএম সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি?

এর আগে ২০২০ সালের ১৯ আগস্ট এই বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন প্রয়াত সিপিআইএম সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদন উদ্ধৃত করে ট্যুইট বার্তায় সীতারাম ইয়েচুরি জানিয়েছিলেন – “বহু আপত্তি সত্ত্বেও আগামী দু বছরের জন্য সমস্ত সাংসদদের এম পি ল্যাড থেকে ১০ কোটি টাকা করে পিএম কেয়ারস ফান্ডে জমা দেবার এক্সিকিউটিভ অর্ডার দেওয়া হয়েছে। মাননীয় সুপ্রিম কোর্টের উপসংহার অনুসারে কীভাবে এটা স্বেচ্ছাসেবী দান হতে পারে? পি এম কেয়ারস ফান্ডে কোনো স্ক্রুটিনি করা যাবে না। সরকারী কর্মচারীদেরও এই ফান্ডে টাকা জমা দিতে বলা হচ্ছে। ৩৮ টা পিএসইউ এই ফান্ডে ২,১০৫ কোট টাকা দিয়েছে। কীভাবে এই ফান্ডকে সমস্ত অডিট, স্ক্রুটিনির আওতা থেকে বাদ রাখা হয়?”

ওই সময় ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের যে প্রতিবেদন উদ্ধৃত করে সীতারাম ইয়েচুরি তাঁর মন্তব্য করেছিলেন সেই প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ৩৮ পিএসইউ-র মধ্যে পি এম কেয়ারস ফান্ডে সবথেকে বেশি টাকা দিয়েছে ওএনজিসি। যার পরিমাণ ৩০০ কোটি। এছাড়াও এনটিপিসি দিয়েছে ২৫০ কোটি, ইন্ডিয়ান অয়েল ২২৫ কোটি, পাওয়ার ফিনান্স এবং পাওয়ার গ্রিড ২০০ কোটি করে, এনএমডিসি ১৫৫ কোটি, আরইসি ১৫০ কোটি, বিপিসিএল ১২৫ কোটি, এইচপিসিএল ১২০ কোটি, কোল ইন্ডিয়া ১০০ কোটি, হাডকো এবং গেল ৫০ কোটি করে।

প্রসঙ্গত, পি এম কেয়ারস ফান্ডের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে সর্বশেষ প্রকাশিত বিবরণ অনুসারে ২০২৩ সালের মার্চ মাসে এই তহবিলে গচ্ছিত ছিল ৬,২৮৩.৭ কোটি টাকা।

প্রধানমন্ত্রী জাতীয় ত্রাণ তহবিল

প্রধানমন্ত্রী জাতীয় ত্রাণ তহবিল (PMNRF)-এর ওয়েবসাইট থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে ২০১৩-১৪ থেকে ২০২২-২৩ পর্যন্ত এই তহবিলে জমা পড়েছে ৬,৮৭৯.৭৭ কোটি টাকা এবং খরচ হয়েছে ২,৬৫১.৬৯ কোটি টাকা। অর্থাৎ এই তহবিলে থাকার কথা ৪,২৮৮.৮৮ কোটি টাকা।

প্রধানমন্ত্রী জাতীয় ত্রাণ তহবিল (PMNRF) ১৯৪৮ সালের জানুয়ারিতে পাকিস্তান থেকে আগত বাস্তুচ্যুত ব্যক্তিদের সহায়তা করার জন্য জনসাধারণের অনুদানে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এর সম্পদ এখন প্রধানত বন্যা, ঘূর্ণিঝড় ও ভূমিকম্পের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগে নিহতদের পরিবারকে এবং বড় দুর্ঘটনা ও দাঙ্গার শিকার ব্যক্তিদের তাৎক্ষণিক ত্রাণ প্রদানের জন্য ব্যবহৃত হয়।

জাতীয় সামরিক তহবিল

জাতীয় সামরিক তহবিল (NDF)-এর ওয়েবসাইটের তথ্য অনুসারে, ২০২১ থেকে ৩১.৩.২০২৫ পর্যন্ত এই তহবিলে জমা পড়েছে ৫৩৮.৬৬ কোটি টাকা এবং খরচ হয়েছে ৩৪০.২৪ কোটি টাকা। অর্থাৎ এই তহবিলে আছে ১৯৮.৪২ কোটি টাকা।

জাতীয় প্রতিরক্ষা তহবিল (NDF) সশস্ত্র বাহিনী (১৯৬২ সালে গঠিত), যার মধ্যে আধা-সামরিক বাহিনীও অন্তর্ভুক্ত, এবং তাদের নির্ভরশীলদের কল্যাণে ব্যবহৃত হয়। এর আনুষ্ঠানিক ওয়েবসাইট অনুসারে, এই তহবিলএকটি কার্যনির্বাহী কমিটি দ্বারা পরিচালিত হয়, যার চেয়ারম্যান হলেন প্রধানমন্ত্রী। প্রতিরক্ষা, অর্থ ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরা এর সদস্য।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও প্রয়াত সিপিআইএম সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি
PMCARES Fund: 'এমন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে এক পাতার জবাব!' - কেন্দ্রকে তীব্র ভর্ৎসনা দিল্লী হাইকোর্টের
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও প্রয়াত সিপিআইএম সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি
Assam: ভোটমুখী আসামে হিমন্ত বিশ্ব শর্মার এআই ভিডিও বিতর্ক; দেশজুড়ে সমালোচনায় পোষ্ট মুছলো বিজেপি

SUPPORT PEOPLE'S REPORTER

ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন

Related Stories

No stories found.
logo
People's Reporter
www.peoplesreporter.in