রামমন্দির থেকে দানের টাকা চুরি, যন্তর মন্তরে আন্দোলনরত ছাত্রদের ওপর পুলিশি পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা চেয়ে ফের সরব হল কংগ্রেস সহ বিরোধীরা। মঙ্গলবার কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেন, রাম মন্দিরের অনুদান চুরির ঘটনা এবং যন্তর মন্তরে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে যাওয়ার ঘটনায় প্রমাণিত হয় যে, হয় তাঁরা "ভীত" অথবা তাঁরা সংসদকে অপমান করছেন।
মঙ্গলবার রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খাড়গে বলেন, সত্য উদঘাটনের লক্ষ্যে সংসদের দুই কক্ষেই এই দুটি বিষয়ে আলোচনা হওয়া উচিত। বিরোধী দলের সদস্যরা লোকসভা ও রাজ্যসভায় এই বিষয়টি নিয়ে লাগাতার প্রতিবাদ জানিয়ে আসছেন। যদিও সরকারপক্ষ বারবার বিষয়টি এড়িয়ে যেতে চাইছে।
এদিন রাজ্যসভায় এই খাড়গে বিষয়টি উত্থাপন করলেও তাঁকে বলার সুযোগ দেওয়া হয়নি। এরপরেই নিজের 'এক্স' (X) হ্যান্ডেলে (পূর্বতন ট্যুইটার) এক পোস্টে তিনি বলেন, 'শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্ট'-এ মূল্যবান দান বা অর্ঘ্য আত্মসাতের বিষয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এটি কোটি কোটি ভক্তের বিশ্বাসের বিষয়। কেন্দ্রীয় সরকার এই ট্রাস্ট গঠন করেছিল এবং প্রধানমন্ত্রী মোদী ব্যক্তিগতভাবে সংসদে এর ঘোষণা করেছিলেন।"
কংগ্রেস সভাপতি আরও বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার ট্রাস্টের হাতে ৭০ একরেরও বেশি জমি তুলে দিয়েছিল এবং ভূমিপূজা থেকে শুরু করে প্রাণ-প্রতিষ্ঠা অনুষ্ঠান—প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ আয়োজনেই প্রধানমন্ত্রী মোদী উপস্থিত ছিলেন। সুতরাং, এমন পরিস্থিতিতে, অনুদান চুরির মতো গুরুতর অভিযোগের দায় প্রধানমন্ত্রী এড়িয়ে যেতে পারেন না। তাঁর সংসদে জানানো উচিত যে, ইডি (ED), সিবিআই (CBI), আয়কর বিভাগ এবং অন্যান্য তদন্তকারী সংস্থাগুলো কোথায়?
তিনি আরও বলেন, "যারা ভগবান রামের নামে লুটপাট চালায়, তাদের উচিত সারা দেশের কাছে ক্ষমা চাওয়া এবং জাতিকে বিভ্রান্ত করা বন্ধ করা।"
পরে সংসদের বাইরে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সময় কংগ্রেস সভাপতি খাড়গে বলেন, সংসদের কাজকর্ম সচল রাখতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সংসদে আসা উচিত। তিনি বলেন, "আমরা চাই রাজ্যসভার চেয়ারম্যান এবং লোকসভার স্পিকার উভয় কক্ষেই আলোচনার অনুমতি দিন। রাম মন্দিরের দনের টাকা চুরি এবং শিক্ষার্থীদের ওপর বর্বরতার বিষয়ে আলোচনা হলে সত্য নিজেই বেরিয়ে আসবে; কিন্তু কোনো এক অজ্ঞাত কারণে সরকারকে আতঙ্কিত মনে হচ্ছে।"
খাড়গে অভিযোগ করেন, "এর ওপর আবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও সংসদে আসছেন না। হয় তাঁরা ভীত, অথবা এখানে না আসার মাধ্যমে তাঁরা সংসদকে অপমান করতে চাইছেন।" মঙ্গলবারও কংগ্রেস এবং অন্যান্য বিরোধী দল সংসদ ভবন চত্বরে বিক্ষোভ দেখায় এবং ওই দুটি বিষয়ে সরকারের কাছে জবাব চেয়ে সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান দেয়।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন