

সিপিআইএম-এর ঐতিহ্য মেনে পদ্মবিভূষণ পুরস্কার ফিরিয়ে দিতে চলেছে প্রয়াত ভি এস অচ্যুতানন্দনের পরিবার? বৃহস্পতিবার প্রয়াত অচ্যুতানন্দনের ছেলে অরুণ কুমার এক সোশ্যাল মিডিয়া পোষ্টে একথা জানিয়েছেন। এবারেই প্রজাতন্ত্র দিবসের প্রাক্কালে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে কেরালার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও প্রয়াত সিপিআইএম নেতা অচ্যুতানন্দনকে মরণোত্তর পদ্মবিভূষণ পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। গতকাল তাঁর ছেলের পোষ্টে এই পুরষ্কারের বিষয়ে বাবার আদর্শ এবং দলীয় অবস্থান মেনে সিদ্ধান্ত নেবার কথা জানানো হয়েছে।
গতকালের করা পোষ্টে ভি এ অরুণ কুমার জানিয়েছেন, “ভি.এস. এর প্রতি জনগণের ভালবাসা এবং সম্মান যিনি কয়েক দশক ধরে কেরালার জনগণের সাথে জনপ্রিয় সংগ্রাম এবং অটল রাজনৈতিক অবস্থানগুলির মধ্যে দিয়ে হেঁটেছেন তা আমাদের জন্য সর্বদা একটি বড় শক্তি। এই পুরস্কারকে তাঁর জনজীবনের প্রতি শ্রদ্ধা হিসেবে দেখা হয়।”
ওই বিবৃতিতেই তিনি আরও লেখেন, “তিনি যে আন্দোলনের প্রতিনিধিত্ব করেছেন সেখানে এই ধরনের সরকারি পুরস্কারের বিষয়ে স্পষ্ট রাজনৈতিক অবস্থান রয়েছে। একজন কমিউনিস্ট হিসেবে তিনি সবসময় সেই মূল্যবোধ এবং পার্টির সিদ্ধান্ত মেনে চলেছেন। এই বিষয়ে পিতার আদর্শ ও দলীয় অবস্থান অনুযায়ী পরিবারের সিদ্ধান্ত হবে। আমরা বিশ্বাস করি মানুষের হৃদয়ে ভি.এস. যে স্থান পেয়েছেন তা কোন পুরস্কারের চেয়েও বড়। মানুষ তাঁকে যে ভালবাসা দিয়েছে তার জন্য ধন্যবাদ।”
ভি এস-এর পুরস্কারপ্রাপ্তির পর প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছিলেন তাঁর ছেলে। সোশ্যাল মিডিয়ায় এক পোষ্টে তিনি এই সম্মান গ্রহণ করার কথা জানিয়েছিলেন। যে প্রসঙ্গে সিপিআইএম কেরালা রাজ্য সম্পাদক এম ভি গোবিন্দন জানান, “জনসেবা এবং শিল্পের মতো ক্ষেত্রগুলিতে অনুকরণীয় কাজ করা ব্যক্তিদের সরকারের পক্ষ থেকে অনেক পুরস্কার দেওয়া হয়। ইএমএস-কে যখন এই পুরস্কার দেওয়ার কথা জানানো হয়, তিনি তা গ্রহণ করতে অস্বীকার করেছিলেন। জ্যোতি বসু এবং বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটেছিল। ভিএস-এর ক্ষেত্রে এটি মরণোত্তর প্রদান করা হয়েছে। তাঁর পরিবার এটি সানন্দে গ্রহণ করেছে।”
যদিও ওই সময়েই সিপিআইএম সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবী জানিয়েছিলেন, অচ্যুতানন্দন বেঁচে থাকলে পদ্ম পুরস্কার প্রত্যাখ্যান করতেন। সংবাদমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছিলেন, “ইএমএস নাম্বুদিরিপাদ, পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু এবং বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যও রাষ্ট্রের সম্মান প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। অচ্যুতানন্দন জীবিত থাকলে, তিনিও একই পথ অনুসরণ করতেন।”
এর আগে, ১৯৯২ সালে কেরালার প্রথম মুখ্যমন্ত্রী ই. এম. এস. নাম্বুদিরিপাদ পদ্মবিভূষণ সম্মান প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। ২০০৮ সালে পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু ভারতরত্ন প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। ২০২২ সালে কেরালার প্রাক্তন স্বাস্থ্যমন্ত্রী কে. কে. শৈলজা রমন ম্যাগসাইসাই পুরস্কার প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন