

মহারাষ্ট্রের প্রথম মহিলা উপমুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন তিনদিন আগে বিমান দুর্ঘটনায় নিহত ন্যশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টি প্রধান অজিত পাওয়ারের স্ত্রী সুনেত্রা পাওয়ার। শনিবার বিকেল ৫ টায় রাজ্যপাল আচার্য দেবব্রতের কাছে শপথ নিয়েছেন তিনি। বুধবার মহারাষ্ট্রের বারামতীতে এক মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনায় অজিত পাওয়ার সহ আরও চার জনের মৃত্যু হয়েছে।
এদিন দুপুরেই সর্বসম্মতিক্রমে পরিষদীয় দলনেত্রী নির্বাচিত হয়েছেন ৬২ বছরের সুনেত্রা পাওয়ার। তাঁকে দলনেত্রী নির্বাচিত করার জন্য আজ বিধানসভা ভবনে বৈঠক ডাকা হয়। এনসিপি-র বিধায়ক এবং বিধান পরিষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন বৈঠকে। এনসিপি নেতা ছগন ভুজবল তাঁর নাম প্রস্তাব করেন এবং দিলীপ পাটিলসহ আরও অনেক বিধায়ক এতে সমর্থন জানান। এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিসকে একটি চিঠি পাঠানো হয়, তিনি সেটি রাজ্যপাল আচার্য দেবব্রতকে পাঠান।
শপথ গ্রহণের পরপরই সুনেত্রাকে শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
উল্লেখ্য, সুনেত্রা পাওয়ার বর্তমানে রাজ্যসভার সাংসদ। উপমুখ্যমন্ত্রিত্বের দায়িত্ব নেওয়ায় তাঁকে বিধানসভা অথবা বিধান পরিষদের উপনির্বাচনে জিততে হবে। মনে করা হচ্ছে, অজিত পাওয়ারের মৃত্যুতে শূন্য হওয়া বারামতী আসন থেকেই তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। বলে রাখা ভাল, বিধানসভার মতোই বিধান পরিষদেও ‘নির্বাচিত’ হতে হয়। কিন্তু সেখানে সাধারণ নাগরিকরা ভোট দেন না। সেখানে প্রাতিষ্ঠানিক ভোট দেন বিভিন্ন ক্ষেত্রভুক্ত পেশার মানুষ এবং পঞ্চায়েত-পুরসভার মতো স্থানীয় প্রশাসনে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা।
সুনেত্রা পাওয়ারের উপমুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নেওয়ার পর এখন সবার নজর আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি এনসিপি-র দুই গোষ্ঠীর প্রস্তাবিত পুনর্মিলন বৈঠকের দিকে, কোন দিকে মোড় নেয় এনসিপি-র ভবিষ্যৎ সেদিকে তাকিয়ে মহারাষ্ট্র তথা জাতীয় রাজনীতি। কারণ অজিত পাওয়ারের আকস্মিক মৃত্যুর আগেই দুই গোষ্ঠীর মিলে যাবার জল্পনা শুরু হয়েছিল।
অজিত পাওয়ারের কাকা শরদ পাওয়ার জানিয়েছেন, তিনি সুনেত্রা পাওয়ারের পরিষদীয় দলনেত্রী নির্বাচন এবং উপমুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার বিষয়ে কিছু জানতেন না। পরে অজিত পাওয়ারের ছেলে পার্থ পাওয়ার এবং এনসিপি (শরদ পাওয়ার) বিধায়ক রোহিত পাওয়ার তাঁর সাথে দেখা করেন এবং তাঁকে সাম্প্রতিক ঘটনাবলী সম্পর্কে অবহিত করেন।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন