Nasik: যৌন নির্যাতনের অভিযোগ গ্রেপ্তার জ্যোতিষী; বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে একাধিক মহিলার সঙ্গে প্রতারণা

People's Reporter: নির্যাতিতার দাবি, ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের নাম করে তাকে নেশাজাতীয় দ্রব্য সেবন করানো হয় এবং সম্মোহিত অবস্থায় তার উপর যৌন নির্যাতন চালানো হয়।
নাসিক থেকে আটক জ্যোতিষী
নাসিক থেকে আটক জ্যোতিষী ছবি মারাঠা নিউজ থেকে সংগৃহীত
Published on

মহারাষ্ট্রের নাসিকে আধ্যাত্মিকতার আড়ালে গুরুতর অপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হল প্রভাবশালী জ্যোতিষী অশোক খারাটকে। ৬৭ বছর বয়সী এই ব্যক্তির বিরুদ্ধে একাধিক মহিলাকে প্রতারণা, নেশাজাতীয় দ্রব্য প্রয়োগ এবং সম্মোহনের মাধ্যমে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ৩৫ বছর বয়সী এক মহিলা অভিযোগ দায়ের করার পরই পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু হয়। নির্যাতিতার দাবি, ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের নাম করে তাকে নেশাজাতীয় দ্রব্য সেবন করানো হয় এবং সম্মোহিত অবস্থায় তার উপর যৌন নির্যাতন চালানো হয়। তার বিশ্বাস ও দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে এই অপরাধ করা হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

তদন্তে উঠে এসেছে, এই নির্যাতন শুধু একজন মহিলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। পুলিশের এফআইআর অনুযায়ী, খারাট নিজেকে ‘ক্যাপ্টেন’ হিসেবে পরিচয় দিতেন। কারণ তিনি একসময় মার্চেন্ট নেভিতে কর্মরত ছিলেন। ব্যক্তিগত সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়ে তিনি বহু মহিলাকে তার অফিসে ডেকে আনতেন। সেখানে নিয়ে গিয়ে তাদের নেশাজাতীয় দ্রব্য খাইয়ে সম্মোহিত করা হতো বলে অভিযোগ।

পুলিশের দাবি, এরপর ওই মহিলাদের মনে ভয় ঢুকিয়ে তাদের উপর যৌন নির্যাতন চালানো হতো। অনেক ক্ষেত্রে তাদের স্বামীর মৃত্যুর হুমকি দেওয়া বা তন্ত্র-মন্ত্রের আতঙ্ক দেখানো হতো, যাতে তারা কাউকে কিছু বলতে সাহস না পান।

তদন্তকারীরা আরও জানিয়েছেন, অভিযুক্ত তার অফিসে গোপন সিসিটিভি ক্যামেরা বসিয়েছিল। সেখান থেকে উদ্ধার হওয়া একটি পেনড্রাইভে ৫৮ জন ভিন্ন ভিন্ন মহিলার আপত্তিকর ভিডিও ক্লিপ পাওয়া গেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে রাজ্য সরকার আইপিএস অফিসার তেজস্বিনী সাতপুতের নেতৃত্বে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (এসআইটি) গঠন করেছে। নাসিক ক্রাইম ব্রাঞ্চ ইউনিট–১ উদ্ধার হওয়া ভিডিও ও নথিপত্র খতিয়ে দেখছে।

জানা গেছে, নাসিকের অভিজাত কানাডা কর্নার এলাকায় ‘ওকাস প্রপার্টি ডিলার্স অ্যান্ড ডেভেলপার্স’ নামে একটি অফিস চালাতেন খারাট। অভিযোগ রয়েছে, সেখানে মূলত রিয়েল এস্টেটের ব্যবসার আড়ালে অপরাধমূলক কার্যকলাপ চলত। সমাজে তিনি নিজেকে একজন দক্ষ জ্যোতিষী ও দৈবশক্তির অধিকারী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

তদন্তে আরও জানা গেছে, মিরগাঁও এলাকায় তার মালিকানাধীন ঈশান্যেশ্বর মন্দির এবং একটি বিলাসবহুল অবকাশযাপন কেন্দ্র রয়েছে। সেখানে প্রায়ই প্রভাবশালী ব্যক্তি ও বিশিষ্টজনদের আসা–যাওয়া ছিল বলে দাবি করা হচ্ছে। সিন্নারে অবস্থিত শ্রী ঈশান্যেশ্বর টেম্পল ট্রাস্টের চেয়ারম্যান হিসেবেও তিনি পরিচিত ছিলেন।

গ্রেপ্তারের ঘটনাটিও ছিল নাটকীয়। পুলিশের একটি বিশেষ দল গোপনে নাসিকের ফার্মহাউস থেকে তাকে আটক করে। অভিযানের সময় বাইরে “চোর, চোর” বলে চিৎকার করে বিশৃঙ্খলা তৈরি করা হয়, যাতে অভিযুক্ত কিছু বুঝে ওঠার আগেই পুলিশ তার বাড়িতে ঢুকে পড়তে পারে। শেষ পর্যন্ত শোবার ঘর থেকেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তল্লাশিতে তার ফার্মহাউস থেকে একটি পিস্তল, তাজা কার্তুজ এবং বেশ কয়েকটি ব্যবহৃত কার্তুজ উদ্ধার হয়েছে। এছাড়াও মিরগাঁওয়ের মন্দির ও আশ্রমে তল্লাশি চালিয়ে বেশ কিছু সন্দেহজনক নথি পাওয়া গেছে।

পুলিশ জানিয়েছে, মহারাষ্ট্র জুড়ে তার মালিকানাধীন একাধিক সম্পত্তিও এখন তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।

এই ঘটনার পর রাজনৈতিক মহলেও ব্যাপক বিতর্ক শুরু হয়েছে। কারণ বিভিন্ন রাজনীতিবিদ, সেলিব্রিটি এবং ব্যবসায়ীদের সঙ্গে অভিযুক্ত জ্যোতিষীর যোগাযোগ ছিল বলে জানা যাচ্ছে। ফলে তদন্তের অগ্রগতির দিকে এখন সবার নজর।

নাসিক থেকে আটক জ্যোতিষী
'মুখ্য অর্থনৈতিক জ্যোতিষী নিয়োগ করুন', দেশের অর্থনীতি নিয়ে নির্মলাকে খোঁচা চিদম্বরমের
নাসিক থেকে আটক জ্যোতিষী
Koraput: তীব্র সমালোচনার মুখে প্রজাতন্ত্র দিবসে আমিষ নিষিদ্ধের নির্দেশ প্রত্যাহার কোরাপুট প্রশাসনের

SUPPORT PEOPLE'S REPORTER

ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন

Related Stories

No stories found.
logo
People's Reporter
www.peoplesreporter.in