

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের (MHA) পক্ষ থেকে ‘বন্দে মাতরম’ নিয়ে নতুন নির্দেশিকা জারি হল। বুধবার সকালে প্রকাশিত দশ পাতার এই নির্দেশিকায় স্পষ্ট বলা হয়েছে, সরকারি অনুষ্ঠানে জাতীয় সঙ্গীত (National Anthem) ‘জন গণ মন’র আগে জাতীয় গান (National Song) 'বন্দে মাতরম' বাজানো বা গাওয়া বাধ্যতামূলক। ১৯০ সেকেন্ড অর্থাৎ ৩ মিনিট ১০ সেকেন্ডের মধ্যে এই সঙ্গীতটি সম্পূর্ণ গাইতে হবে।
নির্দেশিকা অনুসারে, যখন এই জাতীয় গান বাজানো হবে তখন সেখানে উপস্থিত সকলকে মনোযোগ সহকারে উঠে দাঁড়াতে হবে। ১৯৩৭ সালে এই গানের যে চারটি স্তবক বাদ দেওয়া হয়েছিল এখন থেকে সেই চার স্তবক সহ পুরো ছ’টি স্তবকই গাওয়া হবে।
কেন্দ্রীয় নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, জাতীয় পতাকা উন্মোচনের সময়ে, সরকারি অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতির আগমন এবং প্রস্থানের সময়ে, জাতির উদ্দেশে রাষ্ট্রপতির ভাষণের আগে এবং পরে, সরকারি অনুষ্ঠানে রাজ্যপাল এবং উপরাজ্যপাল (লেফটেন্যান্ট গভর্নর)-দের আগমন এবং প্রস্থানের সময়ে, পদ্ম পুরষ্কারের মতো বেসামরিক পুরষ্কার দেওয়ার সময়ে এবং কুচকাওয়াজে জাতীয় পতাকা আনার সময়ে জাতীয় গান 'বন্দে মাতরম' পরিবেশন বাধ্যতামূলক। ওই সময়ে সকলকে অবশ্যই উঠে দাঁড়াতে হবে। জাতীয় গানের প্রতি যথাযথ মর্যাদা ও শালীনতা বজায় রাখতে হবে। কণ্ঠ মেলানোরও প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
স্কুলগুলিতেও সকালে প্রার্থনা সঙ্গীতের সময়ে বা স্কুলের কোনও অনুষ্ঠানে জাতীয় গান 'বন্দে মাতরম' সমবেত কণ্ঠে গাওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
সরকারি কর্মসূচি নয়, এমন কোনও অনুষ্ঠান যদি মন্ত্রীদের উপস্থিতির কারণে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে হয়, সেখানেও জাতীয় গান পরিবেশন করা যেতে পারে।
সিনেমা হলের মতো পাবলিক প্লেসেও এটি বাজানো হবে, যদিও এই ক্ষেত্রে দাঁড়িয়ে থাকা বাধ্যতামূলক নয়।
তবে সব ক্ষেত্রেই ‘জন গণ মন’র আগে ‘বন্দে মাতরম’ বাজানো বা গাইতে হবে।
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত এই দেশাত্মবোধক গানটির ১৫০ বছর পূর্তি উদ্যাপন চলছে। ১৮৮২ সালে প্রকাশিত ‘আনন্দমঠ’ উপন্যাসে প্রথম গানটি প্রকাশ পায়। তবে গানটি রচনা করা হয় ১৮৭৫ সালের ৭ নভেম্বর। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৮৯৬ সালে প্রথম এই গান গেয়েছিলেন। ১৯৫০ সালে এটিকে জাতীয় গানের তকমা দেওয়া হয়।
এই নতুন নির্দেশিকাগুলি বিতর্কের জন্ম দেবে বলে আশা করা হচ্ছে। বেশ কয়েকটি বিরোধী দল কেন্দ্র সরকারকে 'বন্দে মাতরম'কে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার অভিযোগ করেছে। সম্প্রতি, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দাবি করেছেন, ভারতের স্বাধীনতার আগের বছরগুলিতে মুসলিম লীগের চাপে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরু এবং কংগ্রেস দল জাতীয় গানের মর্যাদাকে হ্রাস করেছিল। কংগ্রেস পাল্টা দাবি করেছিল, বিজেপি এবং তাদের আদর্শগত পরামর্শদাতা, রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ, নিয়মিতভাবে গানটি এড়িয়ে চলেছে। বাংলায় নির্বাচনের আগে ব্রাউনি পয়েন্ট (brownie points) অর্জনের চেষ্টা করছে এখন।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন