রাষ্ট্রপতি শাসনের অবসান ঘটিয়ে মণিপুরে নতুন মুখ্যমন্ত্রী এবং উপমুখ্যমন্ত্রীর শপথ গ্রহণের পরেই ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজ্যের পরিস্থিতি। কুকি জনগোষ্ঠীর বিজেপি বিধায়কদের এক অংশ সরকারে যোগ দিতে চাইবার পরেই বিভিন্ন কুকি সংগঠনের পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে শুক্রবার চুড়াচন্দ্রপুরে কুকি-জো জনগোষ্ঠীর পক্ষ থেকে এক বিশাল মিছিল বের করা হয়।
মণিপুরে সরকার গঠনের চেষ্টা শুরুর পরেই কুকি-জো অধ্যুষিত অঞ্চলে অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভকারীদের মতে মেইতেইদের হাতে অবর্ণনীয় অত্যাচারের শিকার হওয়া কুকি জনগোষ্ঠীর ভাবাবেগকে গুরুত্ব না দিয়ে বিজেপির কুকি জনগোষ্ঠীর কয়েকজন বিধায়ক সরকারে শামিল হয়েছেন। যা বিশ্বাসঘাতকতার সমান।
জানা গেছে, কুকি-জো জনগোষ্ঠীর ৩ বিজেপি বিধায়ক সরকারে যোগ দিতে ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। সাধারণ মানুষের বিক্ষোভ তাঁদের বিরুদ্ধেই। বিক্ষুব্ধরা এদিন ওই তিন বিধায়কের কুশপুতুল পোড়ান। এই তিনজনের মধ্যে আছেন উপমুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নেওয়া নেমচা কিপগেন, এল এম খাউতে এবং এঙ্গুরুসাংলুর। এঁদের মধ্যে নেমচা কিপগেন দিল্লি থেকে উপমুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নিয়েছেন এবং বাকি দুই বিধায়ক ইম্ফলে মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। তাঁকে অবিলম্বে উপ মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দিতে হবে।
এক্ষেত্রে কুকি-জো জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের বক্তব্য, তাঁদের মতামতের গুরুত্ব না দিয়েই এই তিন কুকি বিজেপি বিধায়ক তাঁদের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বিভিন্ন কুকি সংগঠনের পক্ষ থেকে আগেই জানানো হয়েছিল, একমাত্র তাঁদের দাবি আদায়ের লিখিত প্রতিশ্রুতি পাবার পরেই কুকি-জো জনগোষ্ঠীর কেউ মন্ত্রীসভায় যোগ দেবেন এবং শপথ নেবেন। এঁদের মূল দাবি কুকি অধ্যুষিত অঞ্চলকে আলাদা ভাবে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করতে হবে। একমাত্র তাহলেই কুকি-মেইতেই বিরোধের মীমাংসা হবে।
বিভিন্ন কুকি-জো সংগঠনের যৌথ মঞ্চ কুকি-জো কাউন্সিলের (KZC) পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আজকের মিছিলই বুঝিয়ে দিয়েছে তিন কুকি বিজেপি বিধায়কের সিদ্ধান্তে সাধারণ মানুষ কতটা ক্ষুব্ধ। তাঁরা সাধারণ মানুষের ভাবাবেগকে অস্বীকার করে সরকারের শামিল হতে চাইছেন।
কেজেসি-র পক্ষ থেকে বৃহস্পতিবার ৭ কুকি বিজেপি বিধায়কের মধ্যে ৫ জনের বিরুদ্ধে সামাজিক বয়কটের ডাক দিয়েছে। এই পাঁচজনই দিল্লিতে গিয়ে বৃহস্পতিবার বৈঠকে অংশ নিয়েছিলেন। এই বৈঠক থেকে মণিপুরের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী এবং উপমুখ্যমন্ত্রীর নাম চূড়ান্ত হয়।
প্রসঙ্গত ভার্চুয়ালি গত ৪ ফেব্রুয়ারি নেমচা কিপগেন শপথ নেবার পরে দিল্লিতেই বিক্ষোভ দেখায় কেএসও-র সদস্যরা। তাঁরা নয়াদিল্লীর মণিপুর ভবনের বাইরে বিক্ষোভ দেখায় এবং নেমচা কিপগেনের কুশপুতুল দাহ করে।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন