

মণিকর্ণিকা ঘটের পুনর্নির্মাণ প্রসঙ্গিত বিতর্কে এবার মুখ খুললেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যতনাথ। গতকাল বারাণসীতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এই ঘটনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বারাণসীতে কোনও মন্দির ভাঙা হয়নি। যারা মণিকর্ণিকা ঘাটের পুনর্নির্মাণ বিষয়ে সোশ্যাল মিডিয়াতে ভুয়ো তথ্য ছড়াবে তাদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উত্তরপ্রদেশের বিজেপি শাসিত সরকারের প্রধানের এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পরেই এই বিষয়ে পাল্টা মুখ খুলেছেন রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদব।
গতকাল বারাণসীর সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন মুখ্যমন্ত্রী যোগ আদিত্যনাথ এবং বলেন, বারাণসীতে উন্নয়নের কাজ চলছে। যা কংগ্রেস এবং তার অন্যান্য সহযোগীদের পছন্দ হচ্ছে না। তাই এই বিষয়ে তারা সাধারণ মানুষের কাছে ভুয়ো তথ্য ছড়াচ্ছে। বর্তমানে কাশী অভূতপূর্ব উন্নয়নের সাক্ষী। এখানে উন্নয়নের জন্য ৫৫ হাজার কোটি টাকার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এর আগে বিশ্বনাথ মন্দির চত্বরের পুনর্নির্মাণের সময়েও একইভাবে মানুষের কাছে ভুয়ো তথ্য ছড়ানো হয়েছিল।
গতকালের সাংবাদিক সম্মেলনে যোগী আদিত্যনাথ দাবি করেন আগে কাশীতে প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫ হাজার পুণ্যার্থী দর্শন করতো। যা এখন ১ থেকে দেড় লক্ষে এসে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু কংগ্রেস এবং তার সমর্থকরা মণিকর্ণিকা ঘাটের উন্নয়ন নিয়ে ভিত্তিহীন অভিযোগ করছে। কিন্তু কাশীর মানুষ আমাদের সঙ্গে আছে। উন্নয়নের সঙ্গে আছে। এরপরেই তিনি বলেন, যারা সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে উন্নয়ন নিয়ে এই ধরণের ভুয়ো তথ্য ছড়াচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি এও দাবি করেন যে এআই দিয়ে ছবি তৈরি করে মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে।
অন্যদিকে গতকাল যোগী আদিত্যনাথ একথা বলার পর থেকেই পাল্টা আক্রমণের পথে হেঁটেছেন সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব। গতকাল থেকে একের পর বারাণসীর ছবি সহ ট্যুইট করে কার্যত মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন অখিলেশ যাদব। গতকাল নিজের এক্স হ্যান্ডেলে (পূর্বতন ট্যুইটার) যোগী আদিত্যনাথের সাংবাদিক সম্মেলনের ছবি পোষ্ট করে তিনি লেখেন, “কাশীর ঘাটে গিয়ে কাশীর মানুষের চোখের দিকে তাকিয়ে কি আপনি একথা বলতে পারবেন? এটা কোন প্রশ্ন নয়, এটা একটা চ্যালেঞ্জ। দুর্ভাগ্যজনক!”
অন্য এক এক্স বার্তায় এক ভিডিও পোষ্ট করে তিনি লেখেন, “এখন, এঁরা কি মিথ্যা বলছেন? এরকম বহু মানুষ আছেন যারা সত্য বলছেন এবং বুলডোজারকে ভয় পান না, কারণ বিজেপির তথাকথিত উন্নয়নের কারণে তাদের বাড়ি ইতিমধ্যেই বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।” অন্য এক বার্তায় তিনি হিন্দিতে লেখেন, “ভাজপা কে হর ঝুঠ কী এক দবাই, পকড় যাও তো কহো ইয়ে হ্যায় এআই।”
রবিবার সকালে মণিকর্ণিকা ঘাটের বেশ কিছু ছবি পোষ্ট করে অখিলেশ লিখেছেন, “প্রধান” বলছেন “কিছুই হয়নি”; অন্যদিকে, “সুপার” বলছেন “কিছু একটা ঘটেছে”, চোখের দিকে না তাকিয়েই অস্পষ্ট এবং এড়িয়ে যাওয়ার মতো ভঙ্গিতে। মিথ্যার সবচেয়ে বড় সমস্যা হল এর দুটি রূপ থাকতে পারে। বিজেপি সরকার এবং প্রশাসনের প্রথমে একসাথে বসে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত যে সত্য লুকানোর জন্য কোন মিথ্যা বিবৃতি দেওয়া উচিত। অন্যথায়, এই “দ্বৈত বক্তব্য” মিথ্যাকে প্রকাশ করে দেয় এবং জনসাধারণের দ্বারা তাদের উপহাস করা হয়, যার ফলে সরকার এবং প্রশাসন গোপনে কথা বলতে বাধ্য হয়। বিজেপি সরকার এবং প্রশাসনের উচিত মিথ্যা বলার জন্য একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ তৈরি করা।”
মণিকর্ণিকা ঘাট প্রসঙ্গে রবিবার সকালে এক এক্স বার্তায় আপ সাংসদ সঞ্জয় সিং জানিয়েছেন, মোদীর লোকসভা কেন্দ্রে, মণিকর্ণিকা ঘাট ভাঙচুর করা হয়েছে, মন্দির ভেঙে ফেলা হয়েছে এবং কাশী বিশ্বনাথ মন্দির সংস্কারকারী মাতা অহল্যাবাঈ হোলকরের মূর্তিও ভাঙচুর করা হয়েছে। এর প্রতিবাদ করেছিলেন কাশীর সাধুরা, অহল্যাবাঈ হোলকরের পরিবার, এমনকি প্রাক্তন লোকসভার স্পিকার সুমিত্রা মহাজনও। কিন্তু আমার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। মন্দির ধ্বংসকারী পাপীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন; আমাকে ভয় দেখানোর চেষ্টা করবেন না।”
১৮ জানুয়ারি সকালে মণিকর্ণিকা ঘাটের ঘটনা প্রসঙ্গে দশাশ্বমেধ ঘাটের এসিপি অতুল অঞ্জন সংবাদমাধ্যমে জানিয়েছেন, “সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ কিছু বিভ্রান্তিকর পোস্ট ছড়ানো হয়েছে। এ পর্যন্ত আটজনের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ার ওপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে এবং এ ধরনের পোস্টের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সঠিক শনাক্তকরণের পর জানা গেছে যে, অভিযুক্তদের কয়েকজনের সঙ্গে কংগ্রেস ও আম আদমি পার্টির রাজনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে।”
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন