

মহারাষ্ট্রে যৌন নির্যাতন মামলায় এক অভিযুক্তকে পদে বসালো ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP)। এই ঘটনা ঘটেছে থানে জেলার কুলগাঁও-বদলাপুর পুর পরিষদে। যেখানে যৌন নির্যাতন মামলায় অভিযুক্ত তুষার আপ্তেকে নিযুক্ত করা হয়েছে। যৌন নির্যাতনের ঘটনার সময় আপ্তে এক স্কুলের সচিব ছিলেন।
শুক্রবার কুলগাঁও-বদলাপুর পুরসভায় পাঁচজন কাউন্সিলরকে কো-অপ্ট করা হয়েছে। পাঁচজনের মধ্যে দু’জন করে বিজেপি ও শিবসেনার এবং একজন এনসিপি-র। এই নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কাউন্সিলের চেয়ার পার্সন রুচিতা ঘোরপাড়ে। নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবার পর তাঁদের অভিনন্দিত করা হয়েছে।
যে যৌন নির্যাতনের মামলায় তুষার আপ্তে অভিযুক্ত সেই মামলা এখনও বিচারাধীন। শিশুদের যৌন নির্যাতনের ওই মামলায় পকসো (POCSO) আইনের ২১(২) ধারায় অভিযোগ দায়ের করা হয় এবং যে ঘটনায় গ্রেপ্তার হয়েছিলেন আপ্তে। যদিও ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তিনি জামিন পেয়ে যান।
এই ঘটনা প্রসঙ্গে বিজেপি সূত্রের বক্তব্য, অভিযুক্ত হিসেবে আপ্তের নাম থাকলেও তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। ঘটনার প্রধান অভিযুক্ত শাস্তি পেয়েছে। যেহেতু আপ্তে দলের হয়ে সক্রিয়ভাবে কাজ করেন তাই তাঁকে পুরসভায় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
তুষার আপ্তের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠেছিল তা ২০২৪ সালের। থানে জেলার বদলাপুরের এক স্কুলের শৌচালয়ের ভেতর দুই নাবালিকাকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে। যে ঘটনায় মূল অভিযুক্ত ছিলেন অক্ষয় শিন্ডে নামের এক যুবক। ওই বছরেরই সেপ্টেম্বর মাসে থানা থেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁকে নিয়ে যাবার সময় পুলিশের গুলিতে তিনি নিহত হন।
২০২৪ সালের অক্টোবর মাসের ওই ঘটনায় থানে ক্রাইম ব্র্যাঞ্চ গ্রেপ্তার করেছিলেন স্কুলের প্রেসিডেন্ট উদয় কোটোয়াল এবং সেক্রেটারি তুষার আপ্তেকে। এর আগে বোম্বে হাইকোর্ট এই দুজনের অন্তর্বর্তীকালীন জামিনের আবেদন নাকচ করে। এঁদের গ্রেপ্তারির আগেই এই ঘটনায় মূল অভিযুক্ত অক্ষয় শিন্ডে পুলিশ এনকাউন্টারে মারা যান। যে এনকাউন্টার নিয়ে কড়া সমালোচনা করেছিল বিরোধী মহা বিকাশ আঘাদি।
এই এনকাউন্টার প্রসঙ্গে এনসিপি (এসপি) সাংসদ সুপ্রিয়া সুলে জানিয়েছিলেন, “মহাযুতি সরকার যেভাবে বদলাপুরের দুই নাবালিকার যৌন নির্যাতনের বিষয়টি সামলানোর চেষ্টা করছে তা অত্যন্ত নিন্দনীয়! প্রথমে এফআইআর দায়ের করতে দেরি করা হয়, আর এখন প্রধান অভিযুক্তকে পুলিশ হেফাজতে হত্যা করা হয়েছে! এই ঘটনা আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং বিচার ব্যবস্থার সম্পূর্ণ পতনেরই নামান্তর। এই ঘটনা অমার্জনীয় এবং এর মাধ্যমে মহারাষ্ট্রের জনগণকে তাদের প্রাপ্য ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে।”
২০২৪-এর আগস্ট মাসে মহারাষ্ট্রের বদলাপুরে দুই শিশুকে যৌন নিগ্রহের প্রতিবাদে রাজ্যে বনধের ডাক দেয় বিরোধী জোট মহা বিকাশ আঘাদি। ২৪ আগষ্ট শনিবার বনধের ডাক দেয় এনসিপি, শিবসেনা এবং কংগ্রেসের জোট। অন্যদিকে বদলাপুরের এই প্রতিবাদকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে মন্তব্য করেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডে। তিনি জানান, ‘লড়কি বহিন যোজনা’র সাফল্য মেনে নিতে পারেনি বিরোধীরা। তাই সরকারের বদনাম করতে এই প্রতিবাদ করছে তাঁরা। শিন্ডের এই মন্তব্যের পরেই বিরোধীরা বনধের ডাক দেয়।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন