

মহারাষ্ট্রের বদলাপুরে দুই শিশুকে যৌন নিগ্রহের প্রতিবাদে এবার রাজ্যে বনধের ডাক দিল বিরোধী জোট মহা বিকাশ আঘাদি। আগামী ২৪ আগষ্ট শনিবার বনধের ডাক দিয়েছে এনসিপি, শিবসেনা এবং কংগ্রেসের জোট।
অন্যদিকে, বুধবার বদলাপুরের এই প্রতিবাদকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে মন্তব্য করেছেন মুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডে। তিনি জানিয়েছেন, ‘লড়কি বহিন যোজনা’র সাফল্য মেনে নিতে পারেনি বিরোধীরা। তাই সরকারের বদনাম করতে এই প্রতিবাদ করছে তাঁরা। শিন্ডের এই মন্তব্যের পরেই বিরোধীরা শনিবার বনধের ডাক দেয়।
মহারাষ্ট্রের বিধানসভা নির্বাচনের আগে আসন সমঝোতা নিয়ে বুধবার বৈঠক ছিল বিরোধী জোট মহা বিকাশ আঘাদির। তবে মহারাষ্ট্রের চলমান পরিস্থিতির জন্য আপাতত সেই বৈঠক স্থগিত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
বৈঠকের পরে, কংগ্রেসের রাজ্য সভাপতি নানা পাটোলে ঘোষণা করেন, "এমভিএ ২৪ আগস্ট মহারাষ্ট্র বনধের ডাক দিয়েছে। জোটে থাকা তিনটি দল বনধে অংশ নেবে। এই বনধের লক্ষ্য, বদলাপুরের ঘটনা এবং নারী ও মেয়েদের বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমান অপরাধের হার বৃদ্ধির প্রতিবাদ করা।“
অন্যদিকে, বদলাপুরের ঘটনা প্রসঙ্গে বুধবার শিন্ডে বলেন, ‘‘যাঁরা বিক্ষোভ দেখিয়েছেন, তাঁদের অধিকাংশই বহিরাগত। বিক্ষোভে যে স্থানীয় বাসিন্দারা ছিলেন, তাঁদের হাতে গোনা যায়। এই বিক্ষোভের নেপথ্যে আসলে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে। সরকারের বদনাম করার চেষ্টা চলছে। এই ধরনের ঘটনা নিয়ে যাঁরা রাজনীতি করছেন, তাঁদের লজ্জিত হওয়া উচিত।’’
তিনি আরও বলেন, ‘‘আন্দোলনকারীরা যা দাবি করেছিলেন, সবই মেনে নিয়েছেন মন্ত্রী গিরিশ মহাজন। কিন্তু তাতেও আন্দোলন থামেনি। এর থেকেই পরিষ্কার, ওদের উদ্দেশ্য এই সরকারকে বদনাম করা।’’
থানের বদলাপুরে ঘটনাটি ঘটেছে গত সপ্তাহে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১৬ আগস্ট স্কুলের শৌচালয়ে দুই খুদে পড়ুয়ার উপর যৌন নির্যাতন চালানো হয়। অভিযুক্ত স্কুলেরই ২৩ বছরের সাফাইকর্মী। অভিযোগ পেয়ে তাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
অন্যদিকে, এই ঘটনার প্রতিবাদে মঙ্গলবার উত্তাল হয় গোটা মহারাষ্ট্র। রেল রোকোর ডাক দিয়ে রেললাইনে বসে প্রতিবাদ শুরু করেন আন্দোলনকারীরা। পরিস্থিতি সামাল দিতে ভিড়ের উপরে লাঠি চালায় পুলিশ। গোটা বদলাপুর জুড়ে বন্ধ করে দেওয়া হয় ইন্টারনেট পরিষেবাও। ওই ঘটনায় চারটি এফআইআর করে মোট ৭২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আহত হয়েছেন বেশ কয়েক জন পুলিশকর্মী।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন