

বিজেপি শাসিত মধ্যপ্রদেশকে ‘দুর্নীতির আঁতুড়ঘর’ হিসেবে অভিহিত করলেন কংগ্রেস সভাপতি ও রাজ্যসভা সাংসদ মল্লিকার্জুন খাড়গে। শনিবার এক এক্স বার্তায় (পূর্বতন ট্যুইটার) খাড়গে বলেন, “বিজেপি সরকারের আমলে মধ্যপ্রদেশ আজ দুর্নীতি ও লুটপাটের কেন্দ্রবিন্দু এবং দুর্নীতির সমার্থক হয়ে উঠেছে। যেখানে একটি কেলেঙ্কারি শেষ হতে না হতেই আরেকটি সামনে চলে আসে।”
কংগ্রেসের বর্ষীয়ান রাজ্যসভা সাংসদ তাঁর বার্তায় জানিয়েছেন, মধ্যপ্রদেশে ইথানলের নামে ১২০০ কোটি টাকার চাল কেলেঙ্কারি হয়েছে। তাঁর দাবি অনুসারে, “যে চাল অপুষ্টিতে ভোগা শিশু, গর্ভবতী নারী ও কিশোরীদের পুষ্টির জন্য বরাদ্দ ছিল, মুনাফার লোভে তা অন্য খাতে সরিয়ে ফেলা হয়েছে। রাইস মিল মালিক, ইথানল মাফিয়া এবং বিজেপি সরকারের ছত্রছায়ায় ৫ লক্ষ মেট্রিক টন চালকে এই দুর্নীতিচক্রের অংশ বানানো হয়েছে। বিজেপি ও সরকারি যন্ত্রের যোগসাজশে জনগণের ন্যায্য খাদ্যশস্য লুট করা হচ্ছে।”
প্রসঙ্গত, কয়েকদিন আগেই মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীর নামে জমি নিয়ে এক গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছিল। যেখানে উজ্জয়িনীতে এই জমি কেলেঙ্কারিতে মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর পরিবারের দিকে অভিযোগ উঠেছিল। সেই প্রসঙ্গের উল্লেখ করে এদিন খাড়গে তাঁর বার্তায় বলেন, “এর আগে একটি বিশাল জমি কেলেঙ্কারিও সামনে এসেছিল। উজ্জয়িনীতে ঠিক সেইসব এলাকায় জমির মালিকানা বা সীমানা বৃদ্ধির ঘটনা ঘটেছে, যেখানে সরকারি পরিকাঠামো প্রকল্প এবং হাইওয়ে করিডোর তৈরির প্রস্তাব ছিল। এই ঘটনা খোদ মুখ্যমন্ত্রীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে।”
এক্স বার্তায় খাড়গে জানিয়েছেন, "প্রতিটি দপ্তরে চলছে লুটপাট আর নিজেদের পকেট ভরার খেলা—এটাই হলো ক্ষমতায় থেকে বিজেপির লুটপাটের কাহিনী। 'ব্যাপম' (Vyapam) কেলেঙ্কারির মাধ্যমে শুরু হওয়া এই লুটপাট আজও থামেনি; অথচ এর মধ্যে অসংখ্যবার পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং অগণিত দুর্নীতির ঘটনা ঘটেছে।"
বর্ষীয়ান কংগ্রেস সভাপতি মধ্যপ্রদেশ প্রসঙ্গে বলেন, "বিজেপি মধ্যপ্রদেশকে দুর্নীতির মডেলে পরিণত করেছে, আর বরাবরের মতোই মোদীজি নির্বিকার নীরবতা পালন করে চলেছেন। মোদী-শাহ জুটি ক্ষমতার দম্ভে জনজীবনে জবাবদিহিতার ধারণাকেই পদদলিত করেছে।"
গত কয়েকদিন ধরেই চাল দুর্নীতি নিয়ে তোলপাড় মধ্যপ্রদেশের রাজনীতি। অভিযোগ, রাজ্যের তালিকাভুক্ত ইথানল প্ল্যান্টগুলিতে ভর্তুকিযুক্ত চাল পাঠানো হলেও সেই চাল ঘুরপথে বিভিন্ন বেসরকারি রাইস মিলে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং তা বেশি দামে বিক্রি করা হয়েছে। পুলিশের অভিযোগ, যে চাল ইথানল প্ল্যান্টে পাঠানোর কথা ছিল সেই চাল এফসিআই গোডাউন থেকে পাঠানো হলেও তা ইথানল প্ল্যান্টে পৌঁছায়নি।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন