
ভারতমাতার ছবি সরানোর নির্দেশ দিয়ে বিপাকে পড়লেন কেরালা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার কে এস অনিল কুমার। রাজ্যপালকে ‘অপমান করার’ অভিযোগে তাঁকে বরখাস্ত করলেন উপাচার্য মোহন কুন্নুম্মাল। উপাচার্যর এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছে কেরালার বাম সরকার। গোটা বিষয়টিকে 'অবৈধ' ও 'রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত' বলে আখ্যা দেওয়া হয়েছে।
গত ২৫ জুন তিরুবনন্তপুরমে অবস্থিত কেরালা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করে শ্রী পদ্মনাভ সেবা সমিতি। যেখানে কেরালার রাজ্যপাল রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ আরলেকারের উপস্থিতি থাকার কথা। তবে, বিশ্ববিদ্যালয় হলে গেরুয়া পতাকা হাতে থাকা ভারতমাতার ছবি প্রদর্শনের বিরোধিতা করেন রেজিস্ট্রার কে এস অনিল কুমার। পাশাপাশি ওই অনুষ্ঠান বাতিলের নির্দেশ দেন তিনি। এরপরও রাজ্যপাল সেখানে উপস্থিত হন এবং প্রদীপ জ্বালিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা করেন।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে উপাচার্য কুন্নুম্মাল রাজভবনে একটি রিপোর্ট পেশ করেন। যেখানে তিনি অভিযোগ করেন, রেজিস্ট্রার ‘বহিরাগতদের চাপে’ অনুষ্ঠান বাতিল করেছেন। এটা রাজ্যপালের প্রতি অবমাননার সামিল।
রেজিস্ট্রার বরখাস্ত হওয়ার ঘটনার কড়া সমালোচনা করেন রাজ্যের উচ্চশিক্ষামন্ত্রী আর বিন্দু। তিনি বলেন, “উপাচার্য তাঁর ক্ষমতার সীমা লঙ্ঘন করেছেন। এই ব্যক্তি আরএসএসের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেছেন এবং চ্যান্সেলরদের কেউ কেউ রাজ্যের উচ্চশিক্ষাকে গৈরিকীকরণ করতে চাইছেন।”
রেজিস্ট্রার নিজেও এই পদক্ষেপকে অবৈধ দাবি করে বলেন, “আমাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট নিযুক্ত করেছিল। উপাচার্যের একতরফা সিদ্ধান্ত আইনবহির্ভূত।”
মন্ত্রী বিন্দুর অভিযোগ, "নিয়ম অনুযায়ী উপাচার্য কেবলমাত্র সিন্ডিকেটের সামনে বিষয়টি তুলতে পারেন। সরাসরি বরখাস্ত করার কোনো অধিকার তাঁর নেই।" বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনাটি কেরালার শিক্ষাক্ষেত্রে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ও রাজ্যপালের ভূমিকা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলছে।
তবে কেরালাতে ভারতমাতার ছবিকে কেন্দ্র করে বিতর্ক নতুন নয়। এর আগে কেরালার রাজভবনে সরকারি অনুষ্ঠানে ভারতমাতার ছবি থাকা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। বিশ্ব পরিবেশ দিবসের দিন রাজভবনের অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা ছিল কেরালার কৃষিমন্ত্রী পি প্রসাদের। জানা যায়, রাজভবনে ভারতমাতার ছবি রাখার জন্য তিনি ঐ অনুষ্ঠানে যোগ দেননি। সাধারণ হিন্দুত্ববাদী সংগঠন এবং আরএসএস এই ছবি তাদের বিভিন্ন কর্মসূচিতে ব্যবহার করে থাকে। কেরালা সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ভারতীয় সংবিধান ওই ছবিকে স্বীকৃতি দেয় না। সেই কারণেই সরকারি অনুষ্ঠানে ভারতমাতার ছবি থাকার কোনও যুক্তি নেই।
স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন