

বিজেপির সিল যুক্ত ইলেকশন কমিশনের সেই বিতর্কিত চিঠি প্ল্যাটফর্ম থেকে সরিয়ে ফেলার জন্য এক্স-কে (পূর্বতন টুইটার) নোটিশ পাঠাল কেরালা পুলিশ। নোটিশে পুলিশ নির্বাচন কমিশনকে (ECI) “সম্মানিত জাতীয় প্রতিষ্ঠান” হিসেবে অভিহিত করেছে। কেরালা পুলিশের মতে, এই পোস্টগুলো নির্বাচন কমিশনের প্রকাশ্যে অবমাননা করছে এবং এমন বিষয়বস্তু প্রচার করছে যা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিকে ক্ষুণ্ণ করে।
উল্লেখ্য, কেরলে ক্ষমতাসীন ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী)-ই প্রথম নিজেদের এক্স হ্যান্ডেলে ওই চিঠিটি প্রকাশ করে কমিশনের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল। সাত বছর আগে ২০১৯ সালের ১৯ মার্চ মুখ্য নির্বাচন কমিশনের দফতর থেকে জারি করা হয়েছিল ওই চিঠি। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়েছিল। চিঠিতে প্রার্থীদের অপরাধমূলক অতীত সংক্রান্ত বিভিন্ন নিয়মাবলির বিস্তারিত বিবরণ ছিল; নীচে বিজেপির কেরালা শাখার সিলমোহর এবং কমিশনের এক আধিকারিকের স্বাক্ষর ছিল।
চিঠিটি মুহূর্তে ভাইরাল হয়েছিল। রাজনৈতিক নেতাদের পাশাপাশি আমজনতাও এই নিয়ে নিজেদের সোশ্যাল মিডিয়ায় নানা মন্তব্য করেছিলেন।
তাই তাঁরা যখন এক্স-এর তরফ থেকে চিঠি এবং সেই সংক্রান্ত পোস্ট সরিয়ে ফেলার নোটিশ পেলেন, যেখানে লেখা ছিল কেরালা পুলিশের নির্দেশের ভিত্তিতে এই নোটিশ তাঁদের দেওয়া হচ্ছে, তখন রীতিমতো অবাকই হয়েছিলেন অনেকে। কেরল পুলিশের সাইবার সেলের তরফেও সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলিকে নোটিস পাঠানোর কথা স্বীকার করা হয়েছে। এক আধিকারিক জানিয়েছেন, ফেসবুক এবং ইনস্টাগ্রাম সমস্ত অ্যাকাউন্ট থেকে নোটিসটি সরিয়ে ফেললেও, এক্স তা করেনি।
সাংবাদিক পীযূষ রাই এক্স-এর পাঠানো ইমেইল পেয়েছেন। তিনি সেই ইমেইলের স্ক্রিনশট সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করেছেন। যেখানে লেখা ছিল, “যেহেতু ‘X’ তার ব্যবহারকারীদের কণ্ঠস্বরকে রক্ষা ও সম্মান করার বিষয়ে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাসী, তাই কোনো আইন প্রয়োগকারী সংস্থা বা সরকারি সংস্থার কাছ থেকে যদি আমরা ব্যবহারকারীদের অ্যাকাউন্ট থেকে কোনো বিষয়বস্তু (content) সরিয়ে ফেলার অনুরোধ পাই, তবে সেই বিষয়ে ব্যবহারকারীদের অবহিত করাই আমাদের নীতি।“
কংগ্রেস নেত্রী রুচিরা চতুর্বেদী, যিনিও এক্স-এর কাছ থেকে একটি ইমেল পেয়েছিলেন, তিনি বলেন, “সোশ্যাল মিডিয়া সেন্সর করার জন্য এধরনের নোটিশ পাঠানো নিত্যনৈমিত্তিক অস্ত্রে পরিণত হয়েছে। কেরালা পুলিশের মতে, আমার টুইটটি নির্বাচন কমিশনকে অপমান করেছে এবং এমন বিষয়বস্তু প্রচার করছে যা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিকে ক্ষুণ্ণ করে।”
উল্লেখ্য, চিঠিটি ভাইরাল হওয়ার পর নির্বাচন কমিশন সোমবার সাফাইয়ের সুরে জানিয়েছিল, এটি সম্পূর্ণরূপে 'ক্ল্যারিকাল এরর’। চিঠিটি প্রকাশের দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্ট আধিকারিককে সাসপেন্ডও করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কমিশন।
অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, যেখানে কমিশন জানিয়েছে এটি ‘ক্যারিকাল এরর’, সেখানে এই চিঠি শেয়ার করার জন্য কেরালা পুলিশ কেন মনে করছে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ক্ষুণ্ণ হবে?
কংগ্রেস নেত্রী সুপ্রিয়া সুলে কেরল পুলিশের এই বিজ্ঞপ্তিকে “বিজেপি ও এলডিএফ-এর আঁতাত" হিসেবে উল্লেখ করেছে। ভোটমুখী কেরালায় শাসক বামফ্রন্টের বিরোধী পক্ষ কংগ্রেস এই ইস্যুকে হাতিয়ার করে নির্বাচনে ফায়দা তোলার চেষ্টা করছে।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন