Indian Railways: বেসরকারিকরণের বিরোধিতা সহ একাধিক দাবিতে ধর্মঘটের পথে ৩৫ হাজার স্টেশন মাস্টার

আগামী ৩১শে মে সারা দেশব্যাপী ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে অল ইন্ডিয়া স্টেশন মাস্টারর্স অ্যাসোসিয়েশন (AISMA)। সংগঠনের প্রায় ৩৫ হাজার সদস্য এই ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে।
Indian Railways: বেসরকারিকরণের বিরোধিতা সহ একাধিক দাবিতে ধর্মঘটের পথে ৩৫ হাজার স্টেশন মাস্টার
ছবি - প্রতীকী

নতুন সমস্যার সম্মুখীন এবার ভারতীয় রেল। কেন্দ্রের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দিলেন রেলস্টেশন মাস্টাররা। টানা ২৪ ঘন্টার ধর্মঘটের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁরা। পাশাপাশি ঐ একইদিনে গণছুটির আবেদন জানিয়েছেন। সূত্রের খবর, স্টেশন মাস্টাররা যদি তাঁদের সিদ্ধান্ত না বদলান তাহলে বড়সড় সমস্যার মুখে পড়তে চলেছে ভারতীয় রেল।

সূত্রের খবর অনুযায়ী, আগামী ৩১শে মে সারা দেশব্যাপী ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে অল ইন্ডিয়া স্টেশন মাস্টারর্স অ্যাসোসিয়েশন (AISMA)। সংগঠনের প্রায় ৩৫ হাজার সদস্য এই ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে।

তাঁদের অভিযোগ, ২০২০ সালের অক্টোবর মাস থেকে কেন্দ্রের কাছে বেশ কিছু দাবিদাওয়া ক্রমাগত পেশ করা হলেও সরকার সে বিষয়ে কোনো গুরুত্ব দেয়নি। এ প্রসঙ্গে অল ইন্ডিয়া স্টেশন মাস্টার্স অ্যাসোসিয়েশন AISMA-এর FPJ জোনাল সেক্রেটারি ধরমবীর সিং অরোরা বলেন, ইতিমধ্যেই রেলওয়ে বোর্ডের চেয়ারম্যানকে এই বিষয়ে একটি নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, "দিনব্যাপী গণ-অফ একটি আকস্মিক সিদ্ধান্ত নয়। আমরা শান্তিপূর্ণ কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আমাদের দাবি জানিয়ে আসছি। আমরা ২০২০ সালের অক্টোবরে এক সপ্তাহের জন্য কালো ব্যাজ পরিধান করে আমাদের দায়িত্ব পালন করেছিলাম। সাথে সুস্থ স্বাভাবিক ট্রেন চলাচলের পরিচালনা নিশ্চিত করেছিলাম।"

অরোরা আরও বলেন, "দাবী পূরণ না হওয়ায় স্টেশন মাস্টাররা ৩১ অক্টোবর ২০২০-তে একটি দিনব্যাপী অনশন ধর্মঘট পালন করেছিলেন। যখন অভিযোগ জানানোর সমস্ত শান্তিপূর্ণ পদ্ধতি ব্যর্থ হয়েছে, তখন আমরা এই চরম পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হই।"

ট্রেন পরিচালনার ক্ষেত্রে স্টেশন মাস্টারের ভূমিকা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে, অরোরা বলেন, "ট্রেন পরিচালনার ক্ষেত্রে একজন স্টেশন মাস্টার কন্ট্রোল কেবিন থেকে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এবং স্টেশনে জনসাধারণের যাতায়াতের ক্ষেত্রে কোন ট্রেন কখন আসবে-যাবে তা জানানো এবং প্ল্যাটফর্মে থামানো বা ডাইভার্ট করে তাঁরা। লোকাল ট্রেন, মেইল ​​এক্সপ্রেস বা পণ্য ট্রেনই হোক না কেন, স্টেশন মাস্টার সিগন্যাল না দিলে (লাইন ক্লিয়ার) ট্রেন চালু করা যাবে না। একইভাবে, স্টেশনে, জনসাধারণের সুযোগ-সুবিধার তদারকি, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, ট্রেনের আগমন ও প্রস্থান, প্ল্যাটফর্ম নামকরণ এই ধরনের সমস্ত কাজ স্টেশন মাস্টারদের দ্বারা সঞ্চালিত হয়।"

আরোরার বক্তব্য, "১৯৯৭ সালের ধর্মঘটে যখন মাত্র ২ মিনিটের জন্য সমস্ত ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল, তখন তা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে প্রায় ৩-৪ দিন লেগেছিল এবং সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল মুম্বাই রেল পরিষেবা, কারণ সমস্ত লোকাল এবং মেল এক্সপ্রেস ট্রেনগুলি আটকে রাখা হয়েছিল।"

একজন স্টেশন মাস্টারের বক্তব্য অনুযায়ী, মূলত যে যে দাবিতে তারা ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন সেগুলি হল - ২৯শে সেপ্টেম্বর ২০২০ থেকে বন্ধ হয়ে যাওয়া রাতের ডিউটি ​​ভাতা পুনরুদ্ধার করা, বেসরকারিকরণ বন্ধ করা, অবিলম্বে স্টেশন মাস্টারদের শূন্যপদ পূরণ করা, নিরাপত্তা প্রদান এবং স্টেশন মাস্টারদের স্ট্রেস ভাতা, ০১-০১-২০২০ থেকে MACP সুবিধা দেওয়া, নতুন পেনশন স্কিম বাতিল করে পুরনো পেনশন স্কিমগুলি চালু করা ইত্যাদি।

ছবি - প্রতীকী
Rail Privatization: সিমলাগড় স্টেশনকে বেসরকারি সংস্থার হাতে তুলে দিল রেল, ক্ষুব্ধ নিত্যযাত্রীরা

GOOGLE NEWS-এ আমাদের ফলো করুন

Related Stories

No stories found.
People's Reporter
www.peoplesreporter.in