

তামিলনাড়ুতে চরমে পৌঁছাল রাজ্য সরকার এবং রাজ্যপাল সংঘাত। রাজ্য সরকারের তৈরি করা ভাষণ দিতে অস্বীকার করে বিধানসভার অধিবেশন ছেড়ে বেরিয়ে যান রাজ্যপাল আর.এন. রবি। বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, রাজ্যপাল বিধানসভা ভবন থেকে বেরিয়ে একটি গাড়িতে উঠে চলে যাচ্ছেন। তাঁর মুখ দেখে অনুমান করা যাচ্ছিল তিনি অসন্তুষ্ট।
পরে রাজভবনের (বর্তমানে লোকভবন) তরফ থেকে এই ওয়াকআউটের কারণ হিসেবে ১৩-দফা সম্বলিত এক বিবৃতি জারি করা হয়। যেখানে অভিযোগ করা হয়েছে জাতীয় সঙ্গীতের অবমাননা করেছে এম কে স্ট্যালিনের DMK সরকার। বলা হয়েছে, সরকারের তৈরি করে দেওয়া ভাষণটিতে বিভিন্ন "ভুল তথ্য" ও "ভিত্তিহীন দাবি" ছিল। পাল্টা রাজ্যপালের বিরুদ্ধে বিধানসভার ঐতিহ্যে আঘাত হানার অভিযোগ তুলেছে DMK।
মঙ্গলবার থেকে তামিলনাড়ু বিধানসভায় অধিবেশন শুরু হয়েছে। নিয়ম মতো, রাজ্যসঙ্গীত দিয়ে অধিবেশন শুরু হয়। এরপর রাজ্যপালের বক্তৃতা দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তিনি জানান, রাজ্য সঙ্গীতের পাশাপাশি জাতীয় সঙ্গীতও পরিবেশন করা উচিত ছিল। এটা না করায় জাতীয় সঙ্গীতের অবমাননা করা হয়েছে। এরপরই সরকারের লিখে দেওয়া ভাষণ পাঠ না করেই অধিবেশন কক্ষ ছেড়ে বেরিয়ে যান তিনি।
এর কিছুক্ষণ পর রাজ্যপালের দফতর থেকে এক বিবৃতি প্রকাশ করা হয়। সেখানে ১৩ দফা অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে। বলা হয়েছে, “লিখে দেওয়া ভাষণে অসংখ্য ভিত্তিহীন দাবি এবং বিভ্রান্তিকর বক্তব্য রয়েছে। জনগণের জন্য উদ্বেগজনক বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উপেক্ষা করা হয়েছে। জাতীয় সঙ্গীতকে আবারও অপমান করা হয়েছে এবং মৌলিক সাংবিধানিক কর্তব্যকে অবজ্ঞা করা হয়েছে।"
বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়েছে, “ডিএমকে সরকারের ১২ কোটিরও বেশি টাকার বিনিয়োগ আকর্ষণের দাবিটি বাস্তব থেকে অনেক দূরে। প্রকৃত বিনিয়োগ এর একটি ক্ষুদ্র অংশ মাত্র। বিনিয়োগের তথ্য থেকে দেখা যায়, তামিলনাড়ু বিনিয়োগকারীদের কাছে আকর্ষণ হারাচ্ছে। চার বছর আগেও, রাজ্যগুলোর মধ্যে তামিলনাড়ু প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগের চতুর্থ বৃহত্তম প্রাপক ছিল। আজ এটি ষষ্ঠ অবস্থানে টিকে থাকার জন্য সংগ্রাম করছে।“
ভাষণে রাজ্যে ক্রমবর্ধমান নারীদের বিরুদ্ধে অপরাধের বিষয়টি সম্পূর্ণ উপেক্ষা করা হয়েছে বলে বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়েছে। লোক ভবনের বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, "দলিতদের বিরুদ্ধে নৃশংসতা এবং দলিত নারীদের বিরুদ্ধে যৌন সহিংসতা তীব্রভাবে বাড়ছে। অথচ এই বিষয়টি সম্পূর্ণ উপেক্ষা করা হচ্ছে। শিক্ষার মানের ধারাবাহিক অবনতি এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ব্যাপক অব্যবস্থাপনা আমাদের তরুণদের ভবিষ্যৎকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করছে। ৫০ শতাংশেরও বেশি শিক্ষক পদ বছরের পর বছর ধরে শূন্য রয়েছে।. মনে হচ্ছে এটি সরকারকে বিন্দুমাত্র ভাবাচ্ছে না এবং এই বিষয়টিও সম্পূর্ণ উপেক্ষা করা হচ্ছে।‘’
রাজ্যপালের আরও অভিযোগ, অধিবেশন কক্ষে তিনি যখন কথা বলছিলেন, তাঁর মাইক্রোফোন বার বার বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছিল।
লোকভবনের এই বিবৃতির পর পাল্টা নিজেদের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তামিলনাড়ুর শাসকদল ডিএমকে। দলের প্রধান তথা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এমকে স্ট্যালিন রাজ্যপালের এই কাজের নিন্দা জানিয়ে বলেন, “গভর্নর বিধানসভার ১০০ বছরের ঐতিহ্য ও রীতিনীতি লঙ্ঘন করে ওয়াকআউট করেছেন। রাজ্য সরকার কর্তৃক প্রস্তুতকৃত ভাষণে গভর্নরের নিজের মতামত অন্তর্ভুক্ত করার বা অন্য কিছু বলার কোনো সুযোগ নেই।"
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন