

বুথ স্তরের আধিকারিক অর্থাৎ বিএলও-দের কাজে গাফিলতি হলে বা কোনও নির্দেশ অমান্য করলে, তাঁদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনে এফআইআর দায়ের করা যেতে পারে। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) মনোজ আগরওয়ালকে চিঠি পাঠিয়ে একথা জানিয়ে দিল নির্বাচন কমিশন। পশ্চিমবঙ্গ ছাড়া এসআইআর হওয়া অন্যান্য রাজ্যের সিইও-কেও এই বিষয়ে জানানো হয়েছে।
বিএলও-দের গাফিলতিতে কী কী শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে, কমিশনের পক্ষ থেকে সেই বিষয়ে দু-পাতার একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে সমস্ত সিইও-দের। সেখানে বলা হয়েছে, কাজে গাফিলতি, দায়িত্ব ঠিকমতো পালন না-করা, কমিশনের নির্দেশ অমান্য করা, আইন বা নিয়ম ভাঙা এবং ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা বা বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট করলে বিএলও-দের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ করা হবে।
চিঠিতে উল্লেখ রয়েছে, কোনও বিএলও-র বিরুদ্ধে এই ধরনের অভিযোগ উঠলে, প্রথমে তাঁকে সাসপেন্ড করবেন সংশ্লিষ্ট জেলা নির্বাচন আধিকারিক (ডিইও)। এরপরে কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের কাছে বিভাগীয় তদন্তের সুপারিশ করতে হবে। এই সুপারিশ দ্রুত কার্যকর করতে হবে এবং যেন ৬ মাসের মধ্যে পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
কমিশন আরও জানিয়েছে, কোনও বিএলও-র বিরুদ্ধে যদি ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগ ওঠে, তাহলে সিইও-র অনুমতি নিয়ে অবিলম্বে ওই বিএলও-র বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করবেন ডিইও। এ ছাড়া সব রাজ্যের সিইও-রা স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে কোনও বিএলও-কে সাসপেন্ড করা, তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু করা এবং এফআইআর দায়ের করার মতো পদক্ষেপ নিতে পারবেন। ডিইও এবং ইআরও-দের রিপোর্টের ভিত্তিতেও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারবেন সিইও-রা। সিইও যা নির্দেশ দেবেন, তা-ই কার্যকর করতে হবে ডিইও-কে।
অন্যদিকে, রাজ্যের সিইও মনোজ আগরওয়াল সব জেলা শাসককে চিঠি দিয়ে জানিয়েছেন, শুনানি কেন্দ্রে কোনও অশান্তির ঘটনা ঘটলেই দ্রুত এফআইআর করতে হবে। এফআইআর-এর সেই কপি ইমেল মারফত জেলা পুলিশ সুপার এবং সিইও দফতরে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এফআইআর করার কাজে কোনও গড়িমসি কমিশনের নজরে এলে সংশ্লিষ্ট জেলাশাসকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে, একথাও বলা হয়েছে চিঠিতে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, শুনানিকেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা নিয়ে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে, সেই কেন্দ্রে শুনানি স্থগিত করে দেবে কমিশন। ফের শুনানি করতে হলে কমিশনের অনুমতি নিতে হবে।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন