

দিল্লির কলাবতী শরণ শিশু হাসপাতালে কাশির সিরাপ খেয়ে মৃত্যু হলো তিন শিশুর। সিরাপের বিষক্রিয়ায় এই মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ। মহল্লা ক্লিনিকের তিন চিকিৎসক এই ওষুধ প্রেসক্রাইব করেছিলেন বলে জানা গেছে। তিন চিকিৎসককেই দিল্লি সরকার তড়িঘড়ি বরখাস্ত করেছে এবং বিষয়টির তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজধানীর পরিস্থিতি। মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রী সত্যেন্দ্র জৈনের পদত্যাগের দাবি তুলেছে বিজেপি এবং কংগ্রেস। মৃত শিশুদের পরিবারকে আর্থিক সাহায্যের দাবিও তুলেছে তারা।
আধিকারিকরা জানিয়েছেন, গত ২৯ জুন থেকে ২১ নভেম্বর পর্যন্ত ১৬ টি শিশু শ্বাস-প্রশ্বাসের সমস্যা নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার পরিচালিত কলাবতী শরণ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এদের প্রত্যেকের বয়স ১ থেকে ৬ বছরের মধ্যে। এই তিন শিশুকেও শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যার কারণে ভর্তি করা হয়েছিল। হাসপাতালের এক সিনিয়র চিকিৎসক জানিয়েছেন, "যে তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিল।"
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সত্যেন্দ্র জৈন জানিয়েছেন, "অভিযুক্ত তিন চিকিৎসককে সাসপেন্ড করা হয়েছে। ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দোষীদের ছাড়া হবে না।"
এই ঘটনার তদন্তে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে দিল্লি সরকার। চিফ ডিস্ট্রিক্ট (সাউথ-ইস্ট দিল্লি) মেডিক্যাল অফিসার ডাঃ গীতার নেতৃত্বাধীন ওই কমিটিকে সাতদিনের মধ্যে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, শিশুদের Dextromethorphan নামক কাশির সিরাপ দেওয়া হয়েছিল। এটি একটি বহুল ব্যবহৃত সিরাপ। অতিরিক্ত মাত্রায় এই ওষুধ খেলে অনিদ্রা, মাথা ঘোরা, বমি বমি ভাব, অস্থিরতা, শ্বাসকষ্টের সমস্যা, ডায়রিয়া ইত্যাদি হয়।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন