

আসামে বিজেপি শাসিত সরকারের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার বিরুদ্ধে প্রচার করতে গিয়ে গ্রেপ্তার হলেন চার কংগ্রেস কর্মী। নির্বাচনের মুখে এই ঘটনাকে বিরোধীদের কণ্ঠরোধ এবং ‘অগণতান্ত্রিক’ বলে অভিহিত করেছে কংগ্রেস। মুখ্যমন্ত্রী বিরুদ্ধে ছাপানো প্যামফ্লেট বিলি করার আগেই তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে অভিযোগ। আসাম কংগ্রেস সভাপতি গৌরব গগৈ এই ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।
এই ঘটনার পর নয়াদিল্লিতে এক সাংবাদিক সম্মেলনে আসাম কংগ্রেস সভাপতি গৌরব গগৈ বলেন, মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা নিজেকে একজন সাহসী ব্যক্তি বলে দাবি করেন। অথচ আসাম কংগ্রেসের লিফলেট দেখেই তিনি ভয় পেয়েছেন। পুলিশ সেগুলো বাজেয়াপ্ত করেছে। আসলে বিজেপি আসামে তাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি পালনে ব্যর্থ হয়েছে। চার্জশিটে ওই ব্যর্থতা তুলে ধরা হয়েছিল বলেই তা আটক করা হয়েছে।
ঘটনা প্রসঙ্গে গুয়াহাটির পূর্বাঞ্চলের ডিসিমি টাবু রাম পেগু জানিয়েছেন, সোমবার রাত সাড়ে বারোটা নাগাদ নিয়মিত টহল দেবার সময় দিসপুর থানার পুলিশ একটি ট্রাক আটক করে। যে ট্রাকে প্রায় ১০ লক্ষ লিফলেট ছিল। এই লিফলেটে মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ ছাপানো ছিল। যেহেতু সামনে নির্বাচন তাই পরিস্থিতি বিবেচনা করে এই লিফলেটকে উস্কানিমূলক মনে করে তা আটক করা হয়েছে। পুলিশ এই ঘটনায় মামলা দায়ের করেছে।
চার কংগ্রেস কর্মীর গ্রেপ্তারির ঘটনায় আসাম পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই প্যামফ্লেটে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার বিরুদ্ধে ‘উত্তেজক’ বক্তব্য লেখা ছিল এবং তাঁর বিরুদ্ধে বেশ কিছু অভিযোগ জানানো ছিল। তাই এঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
কংগ্রেস সূত্র অনুসারে, মুখ্যমন্ত্রী ও বিজেপি নেতা হিমন্ত বিশ্ব শর্মার বিরুদ্ধে বেশ কিছু অভিযোগ এনে ‘চার্জশিট’ ছাপিয়ে তা বিলি করার পরিকল্পনা ছিল কংগ্রেস কর্মীদের। যে চার্জশিটকে ‘উস্কানিমূলক’ বলে জানিয়েছে পুলিশ। প্রশাসনের মতে, নির্বাচনের মুখে এই লিফলেট বিলি হলে তা উত্তেজনা ছড়াতে পারে। তাই লিফলেট সহ চার কংগ্রেস কর্মীকে আটক করা হয়েছে।
কংগ্রেসের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, ওই লিফলেটে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার বিরুদ্ধে ২০ দফা অভিযোগ আনা হয়েছে। যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘চার্জশিট’। বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি আসাম কংগ্রেসের পক্ষ থেকে ওই লিফলেট প্রকাশ করা হয়।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, একটি গাড়িয়ে বহু সংখ্যক ছাপানো লিফলেট নিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশের পক্ষ থেকে ওই গাড়ি আটক করা হয় এবং চার কংগ্রেস কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়। রুক্কিণিনগর অঞ্চল থেকে গ্রেপ্তার করা কংগ্রেস কর্মীরা আপাতত বিচারবিভাগীয় হেফাজতে আছেন।
কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এই ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলা হয়েছে, কোনও মুখ্যমন্ত্রীর সমালোচনা করা কখনই কোনও দেশদ্রোহমূলক কাজ হতে পারেনা। আসাম কংগ্রেসের প্রচার বিভাগের সভাপতি বেদব্রত বোরা এই প্রসঙ্গে বলেন, কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরা আসামের মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে যে কুড়ি দফা প্রশ্ন তুলেছেন এই লিফলেটে তাই ছাপা হয়েছে। এই ঘটনার পেছনে রাজনৈতিক অভিসন্ধির অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, গত মাসে এই লিফলেট ছাপা হয়েছে। অথচ আশ্চর্যজনকভাবে সম্প্রতি এই লিফলেট আটক করা হয়েছে। এই লিফলেট যদি সত্যিই আপত্তিজনক হত তাহলে তা আরও আগেই আটক করা হত।
কংগ্রেসের লিফলেটে হিমন্ত সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের পাশাপাশি রাজ্যে সংখ্যালঘুদের ভয় দেখানোর জন্য প্রশাসনের ব্যবহার, মুখ্যমন্ত্রী এবং তাঁর ঘনিষ্ঠদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে। যদিও আসাম বিজেপির পক্ষ থেকে এই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন