

বিধানসভায় তড়িঘড়ি পাশ করিয়ে ফেললেও রাষ্ট্রপতির দপ্তরে গিয়ে ডাহা ফেল পশ্চিমবঙ্গ সরকারের গুন্ডা দমন আইন। রাজ্যের পাঠানো বিলের খসড়া ফেরত পাঠিয়েছেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদনে একথা জানানো হয়েছে। প্রতিবেদন অনুসারে, রাষ্ট্রপতি জানিয়েছেন, ১৯৮৫ সালের এনডিপিএস আইনের সঙ্গে এই আইনের সংঘাত হচ্ছে।
আপত্তি কোথায়?
যে যে বিষয়ে এই ক্ষেত্রে আপত্তি জানানো হয়েছে তার মধ্যে আছে - বিলটিতে ‘গুণ্ডা’ (goonda)-র যে সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে, তার আওতায় এমন ব্যক্তিকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে যিনি ‘নারকোটিক ড্রাগস অ্যান্ড সাইকোট্রপিক সাবস্ট্যান্সেস অ্যাক্ট, ১৯৮৫’ (NDPS Act)-এর অধীনে শাস্তিযোগ্য কোনো অপরাধ সংঘটন করেন, সংঘটনের চেষ্টা করেন, তাতে সহায়তা বা প্ররোচনা দেন, কিংবা সেই অপরাধের প্রচার, তার অর্থ যোগান বা সম্পাদনে সহায়তা করেন। শুধুমাত্র এই নির্দিষ্ট ক্ষেত্রেই আপত্তি জানানো হয়েছে।
এছাড়াও কেন্দ্রের ‘প্রিভেনশন অফ ইলিসিট ট্রাফিক ইন নারকোটিক ড্রাগস অ্যান্ড সাইকোট্রপিক সাবস্ট্যান্সেস অ্যাক্ট, ১৯৮৮’ (PITNDPS Act)-এ মাদকদ্রব্য ও সাইকোট্রপিক পদার্থের অবৈধ পাচারের সাথে জড়িত ব্যক্তিদের জন্য ইতিমধ্যেই ‘প্রিভেন্টিভ ডিটেনশন’ বা নিবর্তনমূলক আটকের আইনি কাঠামো রয়েছে। কেন্দ্রের দেওয়া নথিতে এটিকে এই বিষয়ের ওপর একটি সুনির্দিষ্ট কেন্দ্রীয় আইন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
তাই পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে যে, সংজ্ঞাসূচক ধারাটি থেকে NDPS আইনের অপরাধ সংক্রান্ত উল্লেখটি বাদ দেওয়া হোক। শুধুমাত্র ওই অংশটি বাদ দেওয়ারই প্রস্তাব করা হয়েছে এবং এর ফলে বিলের বাকি অংশ অপরিবর্তিত থাকবে।
গুন্ডা দমন বিলের খসড়ায় কী বলা হয়েছিল?
প্রসঙ্গত, গুন্ডাদমন বিলের খসড়ায় বলা হয়েছিল, জেলাশাসক, পুলিশ কমিশনার কিংবা ডিআইজি পদমর্যাদার আধিকারিকরা যদি মনে করেন কোনও দাগী অপরাধীর উপস্থিতি নির্দিষ্ট এলাকায় আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটাতে পারে, তাহলে তাঁকে ওই এলাকা বা পুরো জেলা থেকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বহিষ্কারের নির্দেশ (এক্সটার্নমেন্ট) দেওয়া যাবে। এই মেয়াদ সর্বোচ্চ এক বছর পর্যন্ত হতে পারে।
এছাড়াও ওই আইনে বলা হয়, প্রশাসনের কাছে যদি বিশ্বাসযোগ্য তথ্য থাকে যে কোনও ব্যক্তি জননিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারেন বা গুরুতর সমাজবিরোধী কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা করছেন, তবে অপরাধ সংঘটিত হওয়ার আগেই তাঁকে সর্বোচ্চ এক বছর পর্যন্ত আটক রাখা যেতে পারে। গত ২৯ জুন রাজ্য বিধানসভায় পাশ হয় পশ্চিমবঙ্গ পাবলিক সেফটি অ্যান্ড কন্ট্রোল অফ অ্যান্টি সোশ্যাল অ্যাক্টিভিটিজ বিল, ২০২৬।
রাজ্যে গুন্ডা দমন আইন চালু এবং হাইকোর্টে স্থগিতাদেশ চেয়ে মামলা
গত ১৩ জুলাই রাজ্যে গুন্ডাদমন আইন চালু হয় বলে জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। যদিও ওইদিনেই এই আইনের ওপর স্থগিতাদেশ চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়। মামলা দায়ের করার অনুমতি চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তীর ডিভিশন বেঞ্চে আবেদন জানিয়েছিলেন আইনজীবী সব্যসাচী চট্টোপাধ্যায়। মামলা দায়ের করার পরেই শুনানি হবে বলে জানান ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি।
কী জানিয়েছিল আদালত?
গত ৭ আগস্ট এই সংক্রান্ত শুনানিতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী ও বিচারপতি পার্থসারথি চট্টোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চ জানায়, গুন্ডাদমন আইন (West Bengal Public Safety and Control of Anti-Social Activities Act, 2026) সংক্রান্ত বিলে এখনও স্বাক্ষর করেননি রাষ্ট্রপতি। ফলে সেই বিল আইনে রূপান্তরিত হয়নি। তাই এই আইনের বিরোধিতায় মামলা করা যাবে না। আইন হিসেবে চালু হলে পরবর্তী সময়ে এই বিষয়ে আলোচনা চলতে পারে।
কী জানিয়েছিলেন আইনজীবী শামিম আহমেদ?
ওই শুনানির পর আবেদনকারীদের পক্ষের আইনজীবী শামিম আহমেদ বলেন, ‘রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল এবং ডেপুটি অ্যাডভোকেট জেনারেল দুজনেই হাইকোর্টে স্বীকার করেছেন যে এই আইন এখনও রাষ্ট্রপতির অনুমোদন পায়নি। তাই মামলা খারিজ করা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে আদালতে একথা জানানোর পর আদালত জানিয়েছে আইন স্বীকৃতি পেলে এই আইন নিয়ে ফের মামলা করা যাবে।’
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন