ন্যায্য মজুরি-সামাজিক সুরক্ষার দাবিতে দিল্লিতে বিক্ষোভ-জমায়েত অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের

২০২০-২১ সালের ১৫ তম অর্থ কমিশন সুপারিশ করেছিল - অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলির মাধ্যমে 'পুষ্টি প্রকল্প' জোরদার করতে রাজ্যগুলিকে ৭,৭৩৫ কোটি টাকা দেওয়া দরকার। কিন্তু, সেই সুপারিশ গ্রহণ করেনি কেন্দ্র।
অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের জমায়েত
অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের জমায়েতছবি - নিউজক্লিক

ন্যায্য মজুরি, গ্র্যাচুইটি, সামাজিক সুরক্ষা সহ একাধিক দাবিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দিল্লিতে জমায়েত হয়েছেন কয়েক হাজার অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীরা। একইসঙ্গে তাঁরা শিশুদের জরুরি পুষ্টি খাতে সরকারের কাছে অর্থ বরাদ্দ বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন।

ভারতে ছয় বছর বয়সী শিশুদের, গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী মায়েদের স্বাস্থ্য এবং পুষ্টি প্রদান কর্মসূচিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীরা। মহামারী করোনার আগে এই ICDS বা অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীরা শিশুদের পুষ্টি, প্রাক-স্কুল শিক্ষা সম্পর্কিত বিষয়ে তদারকি করতেন। কিন্তু, তাঁদের পূর্বের সকল কাজের সঙ্গে স্বাস্থ্য পরিষেবা দিতে হচ্ছে অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের।

২০২১ সালে এই প্রকল্পে আরও তিনটি পুষ্টি এবং শিশু সেবা প্রোগ্রাম যুক্ত করেছে সরকার। নতুন নামকরণ করা হয়েছে - সক্ষম অঙ্গনওয়াড়ি প্রকল্প এবং পোষান-২। পোষান প্রোগ্রামের পুরো কথা হল - প্রাইম মিনিস্টারস ওভারআর্চিং স্কিম ফর হোলিস্টিক নারিশমেন্ট (POSHAN)। এই প্রকল্পের পরিকাঠামো উন্নয়ন, সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি, উন্নতমানের ২ লক্ষ নতুন কেন্দ্র গড়ে তোলা, ১০০ টি জেলার প্রতি বিশেষ নজর দেওয়ার প্রতি আবেদন জানিয়েছেন অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীরা।

একইসঙ্গে অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীরা দাবি জানিয়েছেন, অবিলম্বে শূন্যপদ পূরণের পাশাপাশি তাঁদের ন্যায্য মজুরি প্রদান করতে হবে। ২০২১ সালের মার্চ মাসে, অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের শূন্যপদের সংখ্যা ছিল ৭১,৮০১ টি। শুধু তাই নয়, এই সময়কালে পরিকাঠামো ও অর্থের অভাবে প্রায় ১২,০০০ টি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র বন্ধ ছিল। যেগুলি এখনও চালু হয়নি।

জানা যাচ্ছে, অঙ্গনওয়াড়িকে শক্তিশালী করার জন্য কেন্দ্রকে সুপারিশ করেছিল ২০২০-২১ সালের ১৫ তম অর্থ কমিশন। যেখানে বলা হয়েছিল অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলির মাধ্যমে 'পুষ্টি প্রকল্প' জোরদার করতে রাজ্যগুলিকে ৭,৭৩৫ কোটি টাকা দেওয়া দরকার। কিন্তু, অর্থ কমিশনের সেই সুপারিশ গ্রহণ করেনি কেন্দ্র।

দেশের জাতীয় বাজেট তহবিল বরাদ্দ অনুযায়ী, ভারত ২০২০-২১ সালে ICDS এবং অন্যান্য ছোট ছোট প্রকল্পগুলি চালাতে অঙ্গনওয়াড়িগুলিতে প্রায় ২০,০০০ কোটি টাকা খরচ করেছে। গত কয়েক বছরে এই তহবিল বরাদ্দ ক্রমাগত বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু, আরপরেও ন্যায্য মজুরি, গ্র্যাচুইটি, সামাজিক সুরক্ষা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছে অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীরা।

জানা যাচ্ছে, ২০১৬-১৭ সালে অঙ্গনওয়াড়িগুলির জন্য কেন্দ্রের বাজেট বরাদ্দ ছিল ১৫,২৩৯ কোটি টাকা। পরের বছর ২০১৭-১৮ সালে তা কিছুটা বাড়িয়ে করা হয়- ১৬,৫৪৮ কোটি টাকা। ২০১৮-১৯ সালে এই বরাদ্দ বেড়ে হয় ১৬,৮৮২ কোটি টাকা। ২০২১-২২ সালে এই বরাদ্দ সবচেয়ে বেশি ৩০০০ কোটি টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ২০,২০০ কোটি টাকায় পৌঁছয়। তথ্য অনুযায়ী ২০২২-২৩ সালের সর্বশেষ বাজেট পর্যন্ত এই পরিসংখ্যান একই রয়েছে।

- with inputs from Newsclick

অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের জমায়েত
প্রচারেই বেশি নজর! ‘বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও’ প্রকল্পের ৫৪ শতাংশই খরচ বিজ্ঞাপনে

GOOGLE NEWS-এ আমাদের ফলো করুন

Related Stories

No stories found.
People's Reporter
www.peoplesreporter.in