এসএফআই নেত্রী ঐশী ঘোষের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানা বাতিল করে দিল দিল্লীর আদালত। ২০২১ সালে দিল্লীর বঙ্গভবনের সামনে এক প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার অভিযোগে এসএফআই নেত্রীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছিল। সেই মামলার কারণেই গত মঙ্গলবার দিল্লিতে সিপিআইএম অফিস একেজি ভবনে হানা দিয়েছিল পুলিশ। এরপরেই আদালতের দ্বারস্থ হন ঐশী ঘোষ। বৃহস্পতিবার ঐশীর আবেদনের ভিত্তিতে ওই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা বাতিল করে দিয়েছে আদালত।
ঐশী ঘোষের আবেদনের ভিত্তিতে বুধবার পাটিয়ালা হাউস কোর্টের বিচারক গ্রেপ্তারি পরোয়ানাতে সাময়িক স্থগিতাদেশ জারি করে তাঁকে সশরীরে আদালতে হাজিরার নির্দেশ দেন। বৃহস্পতিবার ঐশী ঘোষ আদালতের নির্দেশ মেনে হাজিরা দিলে ১০০০ টাকা জরিমানার শর্তে তাঁর গ্রেপ্তারি পরোয়ানা বাতিল করার নির্দেশ দেয় আদালত। জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বিজয়শ্রী রাঠোর গ্রেপ্তারি পরোয়ানা বাতিল করেছেন।
গ্রেপ্তারি পরোয়ানা বাতিলের পর বৃহস্পতিবার ঐশী ঘোষ বলেন, "২০২১ সাল থেকে এই মামলা চলছে এবং আমার বিরুদ্ধে জারি করা জামিন-অযোগ্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানা আজ বাতিল করা হয়েছে। গতকাল আদালত এর ওপর স্থগিতাদেশ দিয়েছিল এবং আজ তা বাতিল করা হলো। পরবর্তী শুনানি নভেম্বরে নির্ধারিত হয়েছে এবং আমাদের লিগাল টিম এই মামলার ওপর নিবিড়ভাবে নজর রাখছে।
তিনি আরও বলেন, গতকালের সাংবাদিক সম্মেলনেও আমরা বলেছিলাম যে, মাসের পর মাস ধরে আমরা এই মামলা সংক্রান্ত নথিপত্র বা প্রমাণাদি পাচ্ছিলাম না এবং বিষয়টি কেবলই ঝুলিয়ে রাখা হচ্ছিল। আজ আমরা সেই নথিপত্র হাতে পেয়েছি এবং আমাদের লিগাল টিম পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
গত মঙ্গলবার দিল্লীর একেজি ভবনে ঐশী ঘোষকে গ্রেপ্তার করতে গেলে সিপিআইএম সাংসদ জন ব্রিটাস আপত্তি জানান। তিনি পুলিশদের অনুমতি ছাড়া দলীয় অফিসে প্রবেশ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। পাশাপাশি পুলিশ কেন ইউনিফর্ম ছাড়া এবং ব্যক্তিগত নাম্বার প্লেটের গাড়ি ব্যবহার করে গ্রেপ্তার করতে এসেছে সে প্রশ্নও তোলেন। তীব্র প্রতিরোধের মুখে পড়ে ঐশী ঘোষকে গ্রেপ্তার না করেই ফিরে যেতে বাধ্য হয় দিল্লি পুলিশ।
ঘটনার পর এক বিবৃতিতে সিপিআইএম জানায়, একটি রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ে এই নির্লজ্জ অনুপ্রবেশ এবং ছাত্র বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে চলমান প্রতিহিংসামূলক অভিযান গণতান্ত্রিক অধিকারের ওপর মোদী সরকারের ক্রমবর্ধমান আক্রমণকে উন্মোচিত করে। ছাত্রদের ন্যায্য উদ্বেগের সমাধান করার পরিবর্তে, রাষ্ট্র ভিন্নমতকে ভয় দেখাতে, স্তব্ধ করতে এবং অপরাধ হিসেবে গণ্য করতে পুলিশি ক্ষমতা ব্যবহার করছে।
সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক ছাত্র আন্দোলনে সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন ঐশী ঘোষ। নীট প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদ এবং শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে সিজপির প্রতিবাদ আন্দোলনেও তিনি সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছিলেন এবং অনশনে বসেন।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন