শেষ দু'দিনে আসাম ও মেঘালয়ে বন্যায় মৃত ৩১, ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ১৯ লক্ষ মানুষ

বাজলী জেলার প্রায় ৩.৫০ লক্ষের বেশি মানুষ ঘর ছাড়া রয়েছেন। প্রায় ৩ লক্ষ মানুষ দাড়ং জেলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। আসামের প্রায় ৪৩ হাজার হেক্টর জমি জলের তলায় চলে গেছে।
শেষ দু'দিনে আসাম ও মেঘালয়ে বন্যায় মৃত ৩১, ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ১৯ লক্ষ মানুষ
ছবি - সংগৃহীত

যতদিন যাচ্ছে আসাম ও মেঘালয়ার বন্যা পরিস্থিতি তত খারাপ হচ্ছে। শেষ দু’দিনে মোট ৩১ জনের মারা যাওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে। প্রায় ১৯ লক্ষ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আসামে। চলতি বছরে বন্যার জেরে আসামে প্রায় ৫৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।

উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলিতে লাগাতার বর্ষণের জেরে লাখ লাখ মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছেন। প্রায় ৩০০০ গ্রাম জলের তলায়। ব্যাহত হয়েছে রেল পরিষেবা থেকে শুরু করে সড়কপথ সবই। শেষ দু’দিনে আসামে বন্যার কবলে পড়ে প্রাণ হারিয়েছেন ১২ জন মানুষ। মেঘালয়ে ১৯ জন প্রাণ হারান। আসামের ২৮ টি জেলার ১৯ লক্ষ মানুষ ব্যাপকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। আসামের জেলাগুলির মধ্যে সবথেকে বেশি বিপর্যস্ত হয়েছে বাজলী জেলা। পাশাপাশি বক্সা, বারপেটা, বিশ্বনাথ, বনগাইগাঁ, চিরাঙ্গ, ধুবরি, কামরূপ, শোনিতপুর, নলবাড়ি সহ একাধিক জেলাও বিপর্যয়ের কবলে।

বাজলী জেলার প্রায় ৩.৫০ লক্ষের বেশি মানুষ ঘর ছাড়া রয়েছেন। প্রায় ৩ লক্ষ মানুষ দরং জেলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। আসামের প্রায় ৪৩ হাজার হেক্টর জমি জলের তলায় চলে গেছে। প্রশাসনের তরফ থেকে ৩৭৩ টি ত্রাণশিবির খোলা হয়েছে। আসামের নদীগুলির মধ্যে ভয়ঙ্কর চেহারা নিয়েছে কোপিলি নদী। এছাড়াও ব্রহ্মপুত্র, মানস, পাগলাদিয়া, গৌরাঙ্গ সহ অনেক নদের জল বিপদসীমার ওপর দিয়ে বইছে।

অপরদিকে, মেঘালয়ে একদিনে ৮১১.৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়ে রেকর্ড সৃষ্টি করেছে। মাত্র দুই দিন পর, মেঘালয়ের চেরাপুঞ্জিতে শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত ৯৭২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে, যা ১৯৯৫ সালের পর জুনমাসে সর্বোচ্চ এবং ১২২ বছরের মধ্যে তৃতীয় সর্বোচ্চ। মেঘালয়ের শাসকদল রাজ্যের চারটি অঞ্চল খতিয়ে দেখার জন্য চারটি কমিটি গঠন করেছে। প্রতিটি কমিটির নেতৃত্বে থাকবেন একজন করে ক্যাবিনেট মন্ত্রী। ধসের কারণে ৬ নং জাতীয় সড়ক ভারী যান চলাচলের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। যেটা ত্রিপুরা, দক্ষিণ আসাম, মিজোরাম এবং মেঘালয়ের কিছু অংশের সংযোগকারী পথ।

আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা শুক্রবার ট্যুইট করে প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাস দেওয়ার কথা জানান। তিনি বলেন, ‘আজ সকাল ৬টায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীজি আমাকে ফোন করে রাজ্যের বন্যা পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চান। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে মানুষ যে অসুবিধার সম্মুখীন হচ্ছে তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকে সমস্ত সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন’।

শেষ দু'দিনে আসাম ও মেঘালয়ে বন্যায় মৃত ৩১, ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ১৯ লক্ষ মানুষ
Agnipath: 'অগ্নিপথ' ঘিরে অগ্নিগর্ভ বিহার, বিক্ষোভের আগুনে জ্বলছে একাধিক ট্রেন

GOOGLE NEWS-এ আমাদের ফলো করুন

Related Stories

No stories found.
People's Reporter
www.peoplesreporter.in