

স্কুল ফি দিতে না পারায় বসতে দেওয়া হয়নি পরীক্ষায়। শুধু তাই নয়, অপমান করে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। সেই কারণে আত্মহত্যা করল উত্তরপ্রদেশের প্রতাপগড় জেলার ১৭ বছরের এক ছাত্রী। এমনটাই অভিযোগ এনেছে ওই ছাত্রীর পরিবার।
ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার। প্রতাপগড়ের ‘কমলা শরণ যাদব ইন্টার কলেজ’ নামক বিদ্যালয়ে সেদিন একটি পরীক্ষা ছিল। সেই পরীক্ষায় ফি বাবদ ৮০০ টাকা দিতে পারেনি ওই ছাত্রী। তাই তাকে পরীক্ষায় বসতে না দেওয়া অভিযোগ ওঠে। এমনকি ওই ছাত্রীর মা স্কুল ম্যানেজার সন্তোষ কুমার যাদব, অফিসার দীপক সরোজ এবং প্রিন্সিপাল রাজকুমার যাদব এবং অন্যদের বিরুদ্ধে ছাত্রীটিকে অপমান করার অভিযোগও তুলেছেন।
অপমানিত ছাত্রী স্কুল থেকে বাড়ি ফিরেই এই ঘটনা ঘটিয়েছে বলে জানা গেছে। ছাত্রীর মা জানিয়েছেন, "আমি মাঠে কাজ করছিলাম। বাড়ি ফিরে দেখি মেয়ে আত্মহত্যা করেছে"। জানা গেছে, বাড়ি থেকেই ওই ছাত্রীর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এই অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১০৭ ধারায় কোনও নাবালক/নাবালিকাকে অত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
আইনজীবী তথা স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য মহম্মদ আরিফ বলেছেন, "শিক্ষার নামে শিক্ষার্থীদের অপমান করা হলে প্রশাসনকে অবশ্যই এগিয়ে আসতে হবে। দোষীদের শাস্তি দিতে হবে যাতে শিক্ষার ব্যবসা যারা চালায় তাদের শাস্তি হয় এবং শিশুরা সুশিক্ষা পায়"।
প্রতাপগড়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দুর্গেশ সিং বলেছেন, এই মামলার তদন্ত শুরু হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, "নিহত মেয়েটির মা জানিয়েছেন, স্কুলে দু’মাসের ফি বকেয়া ছিল। গত মাসে তিনি কোনও ভাবে ১০০০ টাকা জমা দিতে পেরেছিলেন। আরও ৮০০ টাকা জমা দিতে হতো। কিন্তু শনিবার ব্যাঙ্ক বন্ধ থাকায় সেই টাকা তিনি দিতে পারেননি। এই নিয়ে স্কুলে অপমানিত হওয়ার কারণেই ছাত্রীটি আত্মঘাতী হয়েছে বলে অভিযোগ। আমরা স্কুলের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখছি। এই ঘটনার আরও তদন্ত করা হচ্ছে"।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন