

ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাস জুড়ে চলছে বিস্ফোরণ। বেশ কয়েকমাস ধরে আমেরিকার হুমকি এবং তাদের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতির পরেই এই বিস্ফোরণ শুরু হয়েছে ভেনেজুয়েলা জুড়ে। গতকালই ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো জানিয়েছিলেন, মাদক চোরাচালান দমনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে ভেনেজুয়েলা প্রস্তুত। এদিনের বিস্ফোরণের পরেই প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো দেশে জরুরি অবস্থা জারি করেছেন।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সিবিএস নিউজের প্রতিবেদন অনুসারে, ভেনেজুয়েলার ওপর আক্রমণের নির্দেশ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সিবিএস আরও জানিয়েছে, বড়োদিনের সময়েই এই আক্রমণের কথা ছিল। যদিও তখন আবহাওয়া অনুকূল না থাকায় সেই সিদ্ধান্ত থেকে পিছু হটা হয়।
ভেনেজুয়েলার ওপর মার্কিন আক্রমণের ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বলিভিয়ার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ইভো মোরালেস। নিজের এক্স হ্যান্ডেলে এক বিবৃতিতে তিনি জানিয়েছেন, "আমরা ভেনেজুয়েলায় মার্কিন বোমা হামলার তীব্র নিন্দা জানাই। এটি সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনের একটি নৃশংস কাজ যা এর সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করে।ভেনেজুয়েলার জনগণের প্রতিরোধে আমাদের পূর্ণ সংহতি। ভেনেজুয়েলা একা নয়!"
বিস্ফোরণের পর এক সরকারি বিবৃতিতে ভেনেজুয়েলা জানিয়েছে, এই হামলার উদ্দেশ্য ছিল দেশের সম্পদ, বিশেষ করে তেল ও খনিজ পদার্থ দখল করা এবং বলপূর্বক ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক স্বাধীনতা ক্ষুণ্ণ করা। ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ খারিজ করে সরকার জানিয়েছে, এ ধরনের প্রচেষ্টা সফল হবে না।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, গত দু’শতাব্দীরও বেশি স্বাধীনতার পরেও জনগণ ও তাদের বৈধ কর্তৃপক্ষ সার্বভৌমত্ব এবং নিজেদের অধিকার রক্ষায় অবিচল রয়েছে। বাইরের শক্তিগুলো একটি ফ্যাসিবাদী গোষ্ঠীর সাথে জোট বেঁধে ঔপনিবেশিক যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়ার এবং শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের ষড়যন্ত্র করছে। যদিও পূর্ববর্তী প্রচেষ্টার মতোই এই প্রচেষ্টাও ব্যর্থ হবে।
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে কারাকাসের মূল সামরিক ক্যাম্প ফরচুনা লক্ষ্য করেই এই হামলা চালানো হয়েছে। যদিও কারা এই হামলা চালিয়েছে সে সম্পর্কে এখনও কোনও নিশ্চিত খবর পাওয়া যায়নি। সংবাদ সংস্থা এপি-র প্রতিবেদন অনুসারে ওই অঞ্চলে কমপক্ষে ৭টি বিস্ফোরণ হয়েছে।
গত কয়েকমাস ধরেই মার্কিন অবরোধের মুখে আছে ভেনেজুয়েলা। পাশাপাশি ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বেশ কিছু ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞাও জারি করা হয়েছে।
ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো বারবার অভিযোগ জানিয়েছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাঁর সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে বিভিন্ন রকমের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। মাদুরোর অভিযোগ, ভেনেজুয়েলার বিশাল তেল ভান্ডারের দখল নিতে চাইছে আমেরিকা এবং সেই কারণেই ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে অবরোধ তৈরি করা হয়েছে।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে মাদুরো জানিয়েছেন, আমেরিকা যে কোনও ভাবে ভেনেজুয়েলার দখল নিতে চাইছে। সেই কারণেই হুমকি, অর্থের লোভ এবং বলপ্রয়োগ চলছে।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন