রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং চেচেন নেতা রমজান কাদিরভের কড়া সমালোচক, শিল্পী, ব্যঙ্গচিত্রকর রবার্ট কুজোভকভ (Robert Kuzovkov) পোল্যান্ডে অজ্ঞাতপরিচয় আততায়ীর গুলিতে নিহত হলেন। পোল্যান্ডের বিয়ালা পোডলাস্কা শহরে সোমবার তাঁকে গুলি করে হত্যা করা হয়। জানা যাচ্ছে, ৪৪ বছর বয়সী এই শিল্পীকে লক্ষ্য করে পাঁচটি গুলি চালানো হয়েছিল। যার একটি সরাসরি তাঁর মাথায় লাগে।
দ্য গার্ডিয়ানে প্রকাশিত এক প্রতিবেদন অনুসারে, নিহত ব্যক্তিকে রবার্ট কুজোভকভ বলে শনাক্ত করা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট পুতিন এবং চেচেন নেতা কাদিরভের কড়া সমালোচক এই শিল্পী সেমিয়ন স্ক্রেপেটস্কি (Semyon Skrepetsky) ছদ্মনামেও পরিচিত ছিলেন। তবে শুধু পুতিন বা কাদিরভ নয়, বিশ্বের একাধিক নেতৃত্বের ব্যঙ্গচিত্রও তিনি এঁকেছিলেন। যার মধ্যে আছে ইউক্রেনের রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির জেলেন্সকি, প্রয়াত রুশ বিরোধী নেতা আলেক্সেই নাভালনি প্রমুখ।
২০২১ সাল পর্যন্ত কুজোভকভ রাশিয়াতে থাকলেও তারপর তিনি দেশত্যাগ করে পোল্যান্ডে বসবাস করতে শুরু করেন। রাশিয়া ত্যাগ করার পর পোল্যান্ডে তাঁকে রাজনৈতিক আশ্রয় দেওয়া হয়। তিনি রাশিয়ার আলতাই অঞ্চলের বাসিন্দা ছিলেন। রুশ প্রেসিডেন্টের সমালোচনা করা এবং ব্যঙ্গচিত্র আঁকবার পর রাজনৈতিক নিপীড়নের আশঙ্কায় তিনি দেশ ছাড়েন।
কুজোভকভ-এর এই হত্যাকান্ডের পেছনে চেচেন নেতা কাদিরভের হাত আছে বলে মনে করছেন বেশ কিছু রুশ শিল্পী। তাঁদের মতে যেভাবে কুজোভকভকে হত্যা করা হয়েছে তাতে স্পষ্টই কাদিরভের নির্দেশে পরিচালিত কর্মকান্ডের ছায়া দেখতে পাওয়া যাচ্ছে।
এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত দুই বেলারুশিয়ান ব্যক্তিকে আটক করেছে পোল্যান্ডের পুলিশ। এই হত্যাকান্ডের তদন্ত করছে পোল্যান্ডের পুলিশ।
স্ক্রিপেটস্কির ব্যঙ্গাত্মক কার্টুনে ভ্লাদিমির পুতিনকে জোসেফ স্তালিনের বাহুবন্ধনে, লুকাশেঙ্কোকে এক বালতি আলুসহ অ্যাডলফ হিটলারের রূপে এবং কাদিরভ ও তাঁর ছেলে আদমকে শূকরের শুঁড়সহ চিত্রিত করেছিলেন। যে কার্টুন নিয়ে তুমুল বিতর্ক শুরু হয়।
তিনি রাশিয়ার বিরোধীদলীয় নেতা আলেক্সি নাভালনি এবং সাধারণ ইউক্রেনীয়দের নিয়েও ব্যঙ্গ করেছিলেন; এছাড়া পোল্যান্ডে তাঁর বসবাসের ঠিকানাটি অনলাইনে সবার জন্য উন্মুক্ত ছিল। তাঁর সব কাজ টেলিগ্রাম ও ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশ করা হতো।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন