

গ্রেফতার করা হয়েছে নেপালের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলিকে। শনিবার ভোরে তাঁকে তাঁর বাড়ি থেকেই তুলে নিইয়ে যাওয়া হয়েছে। গত বছর নেপালে সংঘটিত হওয়া Gen Z বিক্ষোভে যে হিংসতা ছড়িয়েছিল, প্রাণহানি ঘটেছিল, তার ভিত্তিতে দায়ের হওয়া মামলার জেরেই ওলিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সেইসময় প্রধানমন্ত্রী ছিলেন ওলি। গ্রেফতার করা হয়েছে নেপালের তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখককেও।
কাঠমান্ডু ভ্যালি পুলিশের মুখপাত্র ওম অধিকারী জানিয়েছেন, "আজ সকালেই দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আইন মেনেই পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে।" তাঁদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হলে কয়েক বছরের কারাবাস হতে পারে।
গত বছর সেপ্টেম্বর মাসে এই Gen Z বিক্ষোভের জেরেই নেপালে ওলি সরকারের পতন হয়েছিল। প্রাথমিকভাবে সরকার কর্তৃক সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলির উপর নিষেধাজ্ঞা জারি নিয়ে বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল। এরপর দেশের ক্রমবর্ধমান দুর্নীতি নিয়ে সরব হন বিক্ষোভকারীরা। ক্রমশ সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে বিক্ষোভ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ছেলেমেয়েদের উপর গুলি চালানোর নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল ওলি সরকারের বিরুদ্ধে। ৭০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যুর খবরও সামনে আসে। তাঁদের মধ্যে ১৯ জন ছিলেন তরুণ। প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিতে বাধ্য হয়েছিলেন ওলি। তদন্তকারীদের দাবি, বিপুল মৃত্যু দেখেও গুলি চালানোর নির্দেশ প্রত্যাহার করেননি ওলি।
গত ১৫ মার্চ ফের ভোট হয় নেপালে। Gen Z বিক্ষোভের নেতৃত্ব দেওয়া প্রাক্তন র্যাপার বলেন্দ্র শাহের রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি (আরএসপি) একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে। শুক্রবার নেপালের কনিষ্ঠতম প্রধানমন্ত্রী হিসাবে শপথ নিয়েছেন তিনি। তাঁকে অভিনন্দন জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এর ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী এবং তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে গ্রেফতার করা হল।
এই গ্রেফতারিকে প্রতিহিংসামূলক পদক্ষেপ বলে জানিয়েছেন ওলি। আইনি পথে এর বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাবেন তিনি। অন্যদিকে বর্তমান সরকার এই পদক্ষেপকে ন্যায়বিচারের সূচনা বলে উল্লেখ করেছেন। বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুদান গুরুং সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, “এটা কারও বিরুদ্ধে কোনও প্রতিশোধ নয়। এটা কেবল ন্যায়বিচারের সূচনা। আমি মনে করি, এ বার এই দেশ নতুন দিশা পাবে।“
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন