Bangladesh: নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলনে নামছে বাম জোট ও গণতন্ত্র মঞ্চ

গত আগস্ট মাসে আত্মপ্রকাশ করা গণতন্ত্র মঞ্চে রয়েছে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল, নাগরিক ঐক্য, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, গণসংহতি আন্দোলন, গণ-অধিকার পরিষদ, ভাসানী অনুসারী পরিষদ ও রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন।
Bangladesh: নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলনে নামছে বাম জোট ও গণতন্ত্র মঞ্চ
ফাইল ছবি

 বাংলাদেশে আর মাত্র ১ বছর বাকি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের। জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশব্যাপী আন্দোলনে নামছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও জোটগুলো। গত প্রায় এক মাস ধরে সারাদেশের ছয়টি সাংগঠনিক বিভাগে সমাবেশ কর্মসূচি পালন করছে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি। যা আগামী ১০ ডিসেম্বর ঢাকা বিভাগীয় গণসমাবেশের মধ্য দিয়ে শেষ হবে। এবার সরকারের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে আন্দোলনে নামার ঘোষণা দিয়েছে বামপন্থী দলগুলোর বৃহত্তর রাজনৈতিক মোর্চা 'বাম গণতান্ত্রিক জোট' এবং সাতটি রাজনৈতিক দলের নতুন জোট 'গণতন্ত্র মঞ্চ'।

বাম জোটের পক্ষ থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, আগামী ১৫ নভেম্বর থেকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত নির্বাচনের আগে সরকারের পদত্যাগ, সংসদ ভেঙে দিয়ে নির্দলীয় তদারকি সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি, নিত্যপণ্যের লাগামহীন দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদ, সারাদেশে রেশন ব্যবস্থা ও ন্যায্যমূল্যের দোকান চালু, পাচারের টাকা ফেরত ও ঋণখেলাপিদের কাছে থেকে টাকা উদ্ধারসহ বেশ কিছু দাবিতে দেশব্যাপী আন্দোলন কর্মসূচিতে যাচ্ছে তারা। এছাড়াও এসব দাবি নিয়ে আগামী ২ ডিসেম্বর ঢাকায় সমাবেশ ও বিক্ষোভ কর্মসূচির সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাম জোট।

গত ১১ নভেম্বর বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) কার্যালয়ে হওয়া এক সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

জোটের পক্ষ থেকে দেওয়া বিজ্ঞপ্তিতে সরকারের কাছে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন ব্যবস্থার সংস্কার ও নির্বাচনকালীন সময়ের নির্দলীয় তদারকি সরকারের রূপরেখা নিয়ে আলোচনা শুরুর আহ্বান জানানো হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে মুক্তবাজারের নামে লুটপাটের ধারা পরিচালিত হওয়ায় সংকট তীব্র হয়েছে। দুঃশাসনের অবসানের সাথে ব্যবস্থা বদলের মাধ্যমে এ সমস্যার সমাধান করতে হবে। এ জন্য বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষকে নিজ নিজ দাবিতে সংগঠিত হয়ে রাজপথে নামার আহ্বান জানাচ্ছি।

বিবৃতিতে সরকার বিরোধী দলগুলোর বিভিন্ন সভা-সমাবেশে বাধাদান, মিথ্যা মামলা, হুমকি ও নানাভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শনের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলা হয়, 'স্বৈরাচারী আচরণ করে বেশিদিন ক্ষমতায় থাকা যায় না।'

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সরকার সংকট মোকাবিলায় কার্যকর ভূমিকা না নিয়ে দুর্ভিক্ষের হুমকি দিয়ে এক শ্রেণির লুটেরাদের লুটপাটের সুযোগ করে দিয়ে নিজেই অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করছে। লুটের টাকা উদ্ধার করছে না, আইএমএফ-এর কাছে থেকে শর্তযুক্ত ঋণ নিয়ে দেশকে আরও ঋণের জালে আবদ্ধ করে ফেলছে।

'গণতন্ত্র মঞ্চ'র আন্দোলন কর্মসূচি:

এদিকে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচন, জাতীয় সরকার গঠনসহ বেশ কিছু রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক সংস্কারের দাবি নিয়ে আগামী ১৮ নভেম্বর থেকে জেলায় জেলায় সমাবেশের ডাক দিয়েছে নতুন রাজনৈতিক জোট 'গণতন্ত্র মঞ্চ'।

গণতন্ত্র মঞ্চ সূত্র জানায়, বিভাগীয়, জেলা শহর ও ঢাকায় প্রতিটি থানায় সভা-সমাবেশ, পথসভা, মতবিনিময় সভা করার বিষয়ে জোটের নেতারা একমত হয়েছেন। একই সঙ্গে সরকারবিরোধী অন্য দলগুলোর সঙ্গে মতবিনিময় ও সংলাপ চালিয়ে যাচ্ছে তাঁরা। বেশ কয়েকটি দলকে জোটে নেওয়ার বিষয়েও আলাপ-আলোচনা চলছে।

গণতন্ত্র মঞ্চের নেতারা জানান, যুগপৎ আন্দোলনের বিষয়ে অপর দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করাই রাজনৈতিক মতবিনিময়ের অন্যতম উদ্দেশ্য। একই সঙ্গে গণতন্ত্র মঞ্চ আন্দোলনে কোন প্রক্রিয়ায় যুক্ত হতে চাইছে, সে বিষয়ে অন্য দলগুলোকে বোঝানোও মতবিনিময়ের অন্যতম লক্ষ্য।

নেতারা বলছেন, নির্বাচনের আগে সরকারকে পদত্যাগ, নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ বা অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের অভিন্ন দাবি রয়েছে। পাশাপাশি দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট পার্লামেন্ট, ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার ভারসাম্যসহ রাষ্ট্র ও প্রশাসনের সংস্কারের প্রস্তাব নিয়েও দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করছেন।

গণতন্ত্র মঞ্চের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সরকারবিরোধী বৃহত্তর আন্দোলনে যত দল, সংগঠন ও ব্যক্তিকে সম্পৃক্ত করা যায়, সে চেষ্টার অংশ হিসাবে তারা বিএনপির বাইরে আলাদা করে এই রাজনৈতিক আলোচনার উদ্যোগ নিয়েছেন।

এ প্রসঙ্গে গণতন্ত্র মঞ্চের অন্যতম শরিক দল বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘জোটের বিভিন্ন শরিক দলের নেতাদের সাথে ও জোটের বাইরের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সাথে আলোচনা করে ইতিবাচক মনে হয়েছে। ভবিষ্যৎ সরকার পরিবর্তন বা সাংবিধানিক সংস্কার বা রাষ্ট্র, প্রশাসন ও অন্যান্য পরিবর্তনের অধিকাংশ প্রশ্নের সঙ্গে তাদের নীতিগত ঐকমত্য আছে। এখন আলোচনা করে যুগপৎ আন্দোলনের ধরন কী হবে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব।’

উল্লেখ্য, গত আগস্ট মাসে আত্মপ্রকাশ করা রাজনৈতিক জোট গণতন্ত্র মঞ্চে রয়েছে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি), নাগরিক ঐক্য, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, গণসংহতি আন্দোলন, গণ-অধিকার পরিষদ, ভাসানী অনুসারী পরিষদ ও রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন।

Bangladesh: নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলনে নামছে বাম জোট ও গণতন্ত্র মঞ্চ
টুইটার, ফেসবুকের পর এবার গণছাঁটাই আমাজনে, চলতি সপ্তাহেই কোম্পানির ইতিহাসে সবথেকে বড় ছাঁটাই

GOOGLE NEWS-এ আমাদের ফলো করুন

Related Stories

No stories found.
People's Reporter
www.peoplesreporter.in