I-N-D-I-A: অ্যাবসলিউটলি মিথ্যে, আমার সঙ্গে কোনও আলোচনাই হয়নি - মমতার কাঠগড়ায় কংগ্রেস ও ইন্ডিয়া মঞ্চ
মঙ্গলবার গুয়াহাটিতে রাহুল গান্ধী বলেছিলেন, “মমতাজির সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত ও দলের সম্পর্ক খুব ভালো।“ রাহুলের এই মন্তব্যের পরই মনে করা হচ্ছিল তাহলে লোকসভা নির্বাচনে বাংলায় তৃণমূল এবং কংগ্রেস জোট করে লড়তে পারে। কিন্তু বুধবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেই সম্ভাবনা কার্যত খারিজ করে দিলেন।
রাহুলের ন্যায় যাত্রা প্রসঙ্গে মমতা জানান, ‘‘এই যে আমাদের রাজ্যে আসছে, আমাকে তো এক বারও বলেনি।’’ মুখ্যমন্ত্রীর এই কথাতেই ইন্ডিয়া জোটের দুই শরীক কংগ্রেস ও তৃণমূলের সম্পর্ক কার্যত পরিস্কার।
ভারত জোড়ো ন্যায় যাত্রা আপাতত আসামে রয়েছে। মঙ্গলবার গুয়াহাটিতে রাহুল বলেছিলেন, ‘‘মমতাজির সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত ও দলের সম্পর্ক (রিস্তা) খুবই ভাল। হ্যাঁ, কিছু কিছু ক্ষেত্রে এই রকম (বিতর্ক) হয়। আমাদের কেউ কিছু বলে দেন। ওঁদের কেউ কিছু বলেন। এটা অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু সে সব এতে (আসন বোঝাপড়ায়) বাধা হয়ে দাঁড়াবে না।’’
এরপরেই রাহুলকে বাংলায় লোকসভা নির্বাচনে কংগেস-তৃণমূল জোট হচ্ছে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানিয়েছিলেন, ‘‘আমাদের (কংগ্রেস-তৃণমূলের) যে আসন বোঝাপড়ার প্রক্রিয়া রয়েছে, তা চলছে। তার ফলাফল আসবে। ওই বিষয়ে আমি এখানে কোনও মন্তব্য করব না।’’
বুধবার বর্ধমানে প্রশাসনিক সভায় যোগ দিতে যাওয়ার আগে মুখ্যমন্ত্রীকে আসন বোঝাপড়া প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে, তিনি জানান, ‘‘আমার কারও সঙ্গে কোনও কথা হয়নি। আমার প্রস্তাব প্রথম দিনেই প্রত্যাখ্যান করেছে! আমার সঙ্গে কারও কোনও আলোচনা হয়নি। অ্যাবসোলিউটলি মিথ্যা কথা।’’
বৃহস্পতিবার রাহুলের ন্যায় যাত্রা বাংলায় প্রবেশ করছে। আর তার একদিন আগে মুখ্যমন্ত্রীর কথাতে স্পষ্ট কংগ্রেসের এই ন্যায় যাত্রায় অংশ নিচ্ছে না তৃণমূল।
মমতার কথায়, ‘‘আমরা আঞ্চলিক দলগুলো ভোটের পরে কী সিদ্ধান্ত নেব, তা ভোটের পরেই ঠিক করব। আমি তো ওদের (কংগ্রেসকে) বলেছিলাম ৩০০ আসনে লড়তে। বাকিটা আমরা সকলে মিলে লড়তাম।”
বুধবারের মমতার বক্তব্যের পর এটা স্পষ্ট যে, লোকসভা নির্বাচনে বাংলায় কংগ্রেস-তৃণমূল জোট হচ্ছে না। তৃণমূল ৪২ টি আসনেই লড়বে।
সোমবার পার্ক সার্কাসের মঞ্চ থেকেও মমতা ‘ইন্ডিয়া’র সমালোচনা করেছিলেন। কংগ্রেসের নাম না করেও বলেছিলেন, ‘‘আমি বলেছিলাম, যে রাজ্যে, যে আঞ্চলিক দল শক্তিশালী, তারা সেই রাজ্যে লড়ুক। আর আপনারা ৩০০ আসনে একা লড়াই করুন। আমরা সাহায্য করব। তারা বলছে, তাদের মর্জিমতো হবে।’’
SUPPORT PEOPLE'S REPORTER
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন

