

‘খবরটা ভুয়ো নয়, একশো ভাগ সত্যি’ - নির্বাচন কমিশনের দাবি অস্বীকার করে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির কথা নিজেই জানালেন কবি শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার বিকেলে নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় কবি লেখেন, “আমার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। খবরটা ভুয়ো নয়, একশো ভাগ সত্যি। আপাতত এটুকুই। বাকি কথা পরে হবে।“
বুধবার সকালেই বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে দাবি করা হয়, কয়েক বছরের পুরনো এক মামলার জেরে শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। খবর প্রকাশ্যে আসতেই কমিশনের বিরুদ্ধে তোপ দেগে সরব হয়েছিলেন বাংলার সংস্কৃতিপ্রিয় ব্যক্তিরা এবং কবির অনুরাগীরা। প্রবল তোপের মুখে পড়ে বেলার দিকে কমিশন জানায়, এই খবর ভুয়ো।
রাজ্যের নির্বাচন কমিশনের সোশ্যাল মিডিয়া পেজ থেকে লেখা হয়, “নির্বাচনী প্রক্রিয়া সম্পর্কে কিছু ব্যক্তি এবং গণমাধ্যমের একাংশ ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল তথ্য শেয়ার করছে, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী কর্মকর্তার কার্যালয় এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে। এই ধরণের কার্যকলাপ কেবল বিভ্রান্তিকরই নয়,বরং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি জনগণের আস্থাকেও ক্ষুণ্ণ করে। মিথ্যা এবং যাচাইবিহীন তথ্য ছড়ানোর জন্য দায়ী ব্যক্তিদের জন্য কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।” তবে এদিন বিকেলে কমিশনের এই দাবি উড়িয়ে কবি নিজেই জানালেন, তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে।
উল্লেখ্য, কয়েক বছর আগে ‘অভিশাপ’ নামে কবির লেখা এক কবিতাকে ঘিরেই এই বিতর্কের সূত্রপাত বলে জানা গেছে। ২০১৭ সালে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে যোগী আদিত্যনাথ-এর শপথগ্রহণের পর এই কবিতাটি ফেসবুকে পোস্ট করেছিলেন তিনি। অভিযোগ ওঠে, এই কবিতার মাধ্যমে হিন্দুদের ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করা হয়েছে, হিন্দু ধর্মের প্রতীক ‘ত্রিশূল’ নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করা হয়েছে। কবিতাটি ফেসবুক থেকে তুলে দেওয়া হয়। কবির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়। তাঁকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি পর্যন্ত দেওয়া হয়। একাধিক জায়গায় বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন হিন্দুত্ববাদীরা।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন