

শোকে ভরা হাসপাতালের করিডর। কিন্তু তারই মাঝে আশার প্রতীক হয়ে উঠেছে ১০ মাস বয়সী এক শিশু। পাঠানমথিট্টার মাল্লাপ্পল্লির বাসিন্দা আলিন শেরিন আব্রাহাম কেরালার সবচেয়ে কনিষ্ঠ অঙ্গ দাতা হিসেবে স্বীকৃতি পেল। তার অঙ্গগুলি আরও দুই শিশু সহ মোট পাঁচজনকে নতুন জীবন দেবে।
গত ৫ ফেব্রুয়ারি দুপুরে কোট্টায়াম থেকে এম.সি. রোড হয়ে তিরুভাল্লা যাওয়ার সময় এক সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয় আলিন। বিপরীত দিক থেকে আসা একটি গাড়ি আলিনদের গাড়িকে ধাক্কা দেয়। শিশুটির পাশাপাশি তার মা, ঠাকুরদা, ঠাকুরমা ও পরিবারের আরও কয়েকজন গুরুতর আহত হন।
আলিনকে প্রথমে চাঙ্গানাসেরি এবং সেখান থেকে তিরুভাল্লার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় ৭ ফেব্রুয়ারি কোচির অমৃতা হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয় তাকে। ১৩ ফেব্রুয়ারি চিকিৎসকরা তার ব্রেন ডেথ ঘোষণা করে। সন্তানকে হারিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়ে তার পরিবার। কিন্তু শোকের মাঝেও, তার বাবা অরুণ আব্রাহাম এবং মা শেরিন অ্যান জন তার অঙ্গ দান করার ইচ্ছা জানান।
অমৃতা হাসপাতালেই অঙ্গগুলি উদ্ধার করা হয়েছে। দান করা অঙ্গগুলির মধ্যে রয়েছে একটি লিভার, দুটি কিডনি, একটি হার্টের ভালভ এবং দুটি কর্নিয়া।
তিরুবনন্তপুরমের KIMS হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৬ মাস বয়সী এক শিশুর শরীরে আলিনের লিভার প্রতিস্থাপন করা হবে। মরণোত্তর অঙ্গদানের মাধ্যমে লিভার পাওয়া রাজ্যের সবচেয়ে ছোট গ্রহীতা হবে ওই শিশুটি। দুটি কিডনি তিরুবনন্তপুরম মেডিকেল কলেজ SAT হাসপাতালের পেডিয়াট্রিক নেফ্রোলজি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন একটি শিশুকে দেওয়া হবে। হার্টের ভালভটি তিরুবনন্তপুরমেরই শ্রী চিত্রা ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন একজনের শরীরে প্রতিস্থাপন করা হবে। কর্নিয়া দুটি এই মুহূর্তে অমৃতা হাসপাতালেই সংরক্ষিত থাকবে।
অঙ্গ বহনকারী অ্যাম্বুলেন্সটি কোচি থেকে তিরুবনন্তপুরমে ৩ ঘন্টা ১৫ মিনিটে পৌঁছে যায়। যেখানে কোচি থেকে তিরুবনন্তপুরম যেতে স্বাভাবিকভাবে ৬ ঘণ্টা সময় লাগে। এটি কুন্নুমপুরম, এডাপ্পল্লী, ভিত্তিলা, ত্রিপুনিথুরা, কোট্টায়ম, ভেঞ্জারমুডু এবং কাজাক্কুট্টাম হয়ে গিয়েছিল। অ্যাম্বুলেন্সটির যাতায়াত মসৃণ করতে ওইসময় এই রুটে যান চলাচল বন্ধ রেখেছিলেন আমজনতা। স্বরাষ্ট্র দপ্তরের সহায়তায় কে-সোটো (কেরালা রাজ্য অঙ্গ ও টিস্যু প্রতিস্থাপন সংস্থা) এর নেতৃত্বে এই অভিযানটি সমন্বিতভাবে পরিচালিত হয়েছিল।
কেরালার স্বাস্থ্যমন্ত্রী বীণা জর্জ এই চরম শোকের মুহূর্তেও এমন মানবিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য আলিনের অভিভাবকদের কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। অ্যাম্বুলেন্স চালক, স্বাস্থ্যকর্মী, পুলিশ কর্মী এবং জনসাধারণকেও ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি যারা এই অভিযান সম্পন্ন করতে সহায়তা করেছেন।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন