

পথকুকুর সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে অভিনেত্রী শর্মিলা ঠাকুরকে ভর্ৎসনা করল সুপ্রিম কোর্ট। অভিনেত্রীর আইনজীবী মারফত তাঁকে বলা হয়েছে, তিনি বাস্তব থেকে অনেক দূরে রয়েছেন।
গত বছর সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল রেল স্টেশন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, আদালত, হাসপাতালের পাবলিক প্লেসগুলি পথকুকুর-মুক্ত করা হোক। কুকুরদের নির্বীজকরণ করে শেল্টারে পাঠানো হবে, পুরোনো জায়গায় আর তাদের ফেরানো চলবে না। আদালতের যুক্তি ছিল, পথকুকুরদের কামড়ানোর ঘটনাই শুধু বাড়ছে না, তাদের কারণে দুর্ঘটনার সংখ্যাও বাড়ছে। সুপ্রিম কোর্টের এই রায় নিয়ে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়। পথে নামেন কুকুর-প্রেমীরা। একাধিক মামলা দায়ের হয় সুপ্রিম কোর্টে। তার মধ্যে অভিনেত্রী শর্মিলা ঠাকুরের মামলাও ছিল। পথকুকুরদের প্রতি মানবিক হওয়ার আবেদন জানিয়েছিলেন তিনি।
শুক্রবারের শুনানিতে অভিনেত্রীর আইনজীবী পথকুকুরদের বাঁচানোর জন্য একটি কমিটি গড়ার পক্ষে সওয়াল করেন। ‘বন্ধুত্বপূর্ণ’ কুকুরের উদাহরণ দিতে গিয়ে এইমসে বহু বছর ধরে বসবাস করা গোল্ডি নামের এক কুকুরের উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘‘পথ কুকুরদের জন্য একটি কমিটি তৈরি করতে পারলে ভালো হতো। এই কমিটি কোনও প্রতিষ্ঠানে আশ্রিত পথকুকুরদের আচরণ বোঝার চেষ্টা করবে। তা হলে কোনও পথকুকুর আক্রমণাত্মক নাকি সকলের সঙ্গে মিলেমিশে চলে, সেটা সহজেই বোঝা যাবে। গোল্ডি নামের একটি কুকুরের কথা উল্লেখ করতে পারি, যে বহু বছর ধরে এইমস চত্বরে থাকে।’’
এরপরই আদালত বলে, “ও (গোল্ডি) কি হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারেও যায় নাকি? রাস্তার প্রতিটি কুকুরের শরীরেই এক ধরণের পোকা থাকে। আর হাসপাতালে পোকাযুক্ত কোনও কুকুরের উপস্থিতি ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনবে। আপনি কি বুঝতে পারছেন?”
আদালত আরও বলে, ”আপনি বাস্তব থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন। হাসপাতাল চত্বরে থাকা কুকুরদের নিয়ে বাড়াবাড়ি করবেন না।”
অভিনেত্রীর আইনজীবী পরামর্শ দেন, যে সব পথকুকুরের কামড়ানোর ইতিহাস রয়েছে, তাদের চিহ্নিত করতে রঙিন কলার পরানো হোক। তিনি জানান, জর্জিয়া, আর্মেনিয়ার মতো বহু দেশে এমন পদ্ধতি চালু রয়েছে। আইনজীবীকে ফের কড়া ভাষায় শীর্ষ আদালত বলে, “ওই দেশগুলির জনসংখ্যা কত? বাস্তবোচিত কথা বলুন।“
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন