
প্রয়াত হয়েছেন প্রখ্যাত তবলাবাদক উস্তাদ জাকির হুসেন। সঙ্গীত শিল্পীর মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করেছেন তাঁর তবলা প্রস্তুতকারক (যাঁর কাছ থেকে তিনি তবলা তৈরি করাতেন) হরিদাস ভাটকার। এক সর্বভারতীয় সংবাদ সংস্থাকে হরিদাস জানান, ‘আমি প্রথমে তাঁর বাবা আল্লা রাখার জন্য তবলা তৈরি করতে শুরু করি। ১৯৯৮ সাল থেকে জাকির হুসেনের জন্য তবলা তৈরি করি’।
মুম্বাইয়ের কাঞ্জুরমার্গে নিজের কর্মশালা থেকেই সাক্ষাৎকার দিচ্ছিলেন ৫৯ বছরের হরিদাস ভাটকার। উস্তাদ জাকির হুসেন বিখ্যাত পিয়ানো প্রস্তুতকারক স্টাইনওয়ের সাথে তুলনা করে হরিদাসের নাম দিয়েছিলেন 'তবলার স্টাইনওয়ে'। একাধিক সাক্ষাৎকারে ভাটকারের কাজের প্রশংসা করেছেন জাকির। তাঁর জন্য বৃত্তিরও ব্যবস্থা করেছিলেন তিনি।
জাকিরের মৃত্যুর পর স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে ভেজা চোখে হরিদাস জানান, চলতি বছর আগষ্ট মাসে জাকির হুসেনের সঙ্গে তাঁর শেষ দেখা হয়েছিল। তিনি বলেন, ‘গুরু পূর্ণিমার সময় আমরা একটি হলে দেখা করি, সেখানে তাঁর অনেক ভক্তও ছিল। পরের দিন আমি নেপিয়ান সি রোডের পাড়ায় সিমলা হাউস কো-অপারেটিভ সোসাইটিতে তাঁর বাড়িতে গিয়েছিলাম। সেদিন কয়েক ঘন্টা আমাদের মধ্যে আলোচনা হয় অনেক বিষয় নিয়ে’।
পশ্চিম মহারাষ্ট্রের মিরাজের বাসিন্দা হরিদাস ভাটকার বলেন, ‘তিনি কী ধরণের তবলা চান এবং কখন চান সে সম্পর্কে তিনি খুব খুঁতখুঁতে ছিলেন। তিনি বাদ্যযন্ত্রের 'টিউনিং' দিকটির প্রতি অনেক মনোযোগ দিতেন’। ভাটকারের মতে, ‘নতুন যন্ত্রের পাশাপাশি পুরানো যন্ত্রের প্রতিও জাকির হুসেনের আগ্রহ ছিল। সেই পুরানো যন্ত্রগুলো আমাকে দিয়েই মেরামত করাতেন’। ভাটকারের দাবি, জাকির হুসেন তাঁর জীবন তৈরি করে দিয়েছিলেন। গত দুই দশকে অসংখ্য তবলা তৈরি করেছেন তিনি উস্তাদের জন্য। বংশ পরম্পরায় তবলা তৈরির কাজ করেন ভাটকার। তাঁর বাবা এবং দাদু দুজনেই এই কাজ করতেন। তাঁর দুই ছেলেও এখন এই কাজ করেন।
রবিবার আমেরিকার সান ফ্রান্সিসকোর এক হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে বয়স হয়েছিল ৭৩। দীর্ঘ দিন ধরেই রক্তচাপজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন কিংবদন্তী তবলাবাদক। সম্প্রতি হৃদ্যন্ত্রে সমস্যা দেখা দেওয়ায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। আইসিইউতে চলছিল চিকিৎসা। কিন্তু রক্তচাপ ও হৃদযন্ত্রের সমস্যার কোনও উন্নতি হয়নি। চিকিৎসকদের সমস্ত প্রচেষ্টাকে ব্যর্থ করে দিয়ে রবিবার তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন