

মহমেডান স্পোর্টিং ক্লাবের সভাপতি হলেন জনতা পার্টির নেতা তথা বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। দীর্ঘদিন সভাপতি পদে থাকা আমিরুদ্দিন ববি (এমএমআইসি) পদত্যাগ করার পরই এই পরিবর্তনের পথ প্রশস্ত হয়। শনিবার দুপুরে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁকে ঐতিহ্যবাহী ক্লাবের সভাপতি ঘোষণা করা হয়। অতীতে শেয়ার ছাড়া নিয়ে ইনভেস্টরদের সঙ্গে বিবাদ বাঁধে মহমেডান কর্তাদের। একে একে সব স্পনসর ইনভেস্টর ক্লাবের সঙ্গ ছাড়ে। কিন্তু ক্লাব চালাতে হিমসিম খান কর্তারা।
এদিন হুমায়ুন কবীর বললেন, '১৩৫ বছরের মহমেডান ক্লাব। কেউ একা সামলাতে পারবে না। কাজ করলে ভুল হবেই। ক্লাব আমার হাতে দায়িত্ব দিয়েছে। মোহনবাগান, ইস্টবেঙ্গলের মত আমরাও সব ধরনের প্রতিযোগিতায় খেলবো। সমর্থকদের অনুরোধ সোশ্যাল মিডিয়ায় কিছু নেগেটিভ লিখবেন না। কলকাতা লিগের ফান্ড দরকার। খুব তাড়াতাড়ি আর্থিক দিকটা সামলে উঠতে পারব আশা রাখছি। তবে ক্লাবে রাজনীতি চলবে না। ময়দানের লোকেরাই ক্লাব করবে।'
এরপর তিনি বলেন, 'রাজনীতির লোকেরা প্রশাসনে এলে কিন্তু অসুবিধা নেই। কল্যাণ চৌবে ফেডারেশন সভাপতি থাকার সময় রাজনীতি করেন না। বাহ্ অমিত শাহর ছেলে ক্রিকেটে থাকার সময় রাজনীতি করেন না। আমিও ক্লাবে রাজনীতি করবো না। ক্লাবের বাইরে বা বিধানসভায় রাজনীতি করবো।'
তিনি জানান, মহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবকে আরও শক্তিশালী ও উন্নত পর্যায়ে নিয়ে যাওয়াই তাঁর প্রধান লক্ষ্য। তিনি বলেন, ঐতিহ্যবাহী এই ক্লাব শুধুমাত্র কলকাতার নয়, সমগ্র দেশের ক্রীড়াপ্রেমীদের কাছে এক আবেগের নাম। সেই ঐতিহ্যকে অক্ষুণ্ণ রেখে ভবিষ্যতের জন্য একটি শক্তিশালী কাঠামো গড়ে তুলতে তিনি কাজ করবেন।
হুমায়ুন কবীর আরও জানান, ক্লাবের সার্বিক উন্নয়নের স্বার্থে তিনি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা চাইবেন। ক্লাবের পরিকাঠামো উন্নয়ন, খেলোয়াড়দের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন ক্রীড়া বিভাগকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে আলোচনা করা হবে বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন।
মহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব দেশের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী ফুটবল প্রতিষ্ঠান। ভারতীয় ফুটবলের ইতিহাসে ক্লাবটির অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক সময়ে ক্লাবের সাফল্য এবং সমর্থকদের আবেগ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। এই পরিস্থিতিতে নতুন সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন ক্রীড়ামহলের একাংশ।
ক্লাবের সদস্যদের আশা, নতুন নেতৃত্বের হাত ধরে মহামেডান স্পোর্টিং আরও সাফল্যের পথে এগিয়ে যাবে এবং জাতীয় স্তরে নিজেদের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করবে। এখন সকলের নজর থাকবে নতুন সভাপতির আগামী দিনের পরিকল্পনা ও পদক্ষেপের দিকে।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন