

পেশাদার ক্যারিয়ারকে বিদায় জানালেন ভারতের ব্যাডমিন্টন তারকা সাইনা নেহওয়াল। দীর্ঘদিন ধরে ইনজুরি এবং ফিটনেস সমস্যায় জর্জরিত ছিলেন তিনি। ২০২৩ সালে সিঙ্গাপুর ওপেনে শেষ খেলেছিলেন তিনি। এরপর হাঁটুর গুরুতর সমস্যা তাঁকে কোর্ট থেকে দূরে সরিয়ে রেখেছিল। অবশেষে ৩৫ বছর বয়সে ব্যাডমিন্টন থেকে অবসর নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি।
যদিও এই সিদ্ধান্ত কোনও সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে ঘোষণা করেননি তিনি। সম্প্রতি এক পডকাস্টে একথা জানিয়েছেন তিনি। তাঁর মতে, হাঁটুর চোটের কারণে উচ্চ-তীব্রতার প্রশিক্ষণ ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠছিল তাঁর পক্ষে।
তিনি বলেন, “আমি তো গত দু’বছর আগে ব্যাডমিন্টন ছেড়ে দিয়েছি। আসলে আমি নিজের ইচ্ছায় এই খেলা শুরু করেছি, নিজের ইচ্ছাতেই ছাড়ব। তাই আলাদা করে অবসর ঘোষণা করার প্রয়োজন ছিল না। যদি আপনি বুঝতে পারেন যে আর খেলতে পারছেন না, তাহলে ওখানেই শেষ করা উচিত। সেটাই সবচেয়ে ভালো।”
এরপর তিনি বলেন, “আমার তরুণাস্থি পুরোপুরি ক্ষয় হয়ে গেছে, আমার আর্থ্রাইটিস হয়েছে। আমার বাবা-মা এবং আমার কোচদের এটা জানা দরকার ছিল এবং আমি শুধু তাদের বলেছিলাম, 'সম্ভবত আমি আর এটা চালিয়ে যেতে পারব না, এটা কঠিন।'’’
“আমার মনে হয়নি, অবসর ঘোষণা করাটা এত বড় কোনো ব্যাপার। আমি শুধু অনুভব করেছিলাম আমার সময় শেষ হয়ে গেছে; কারণ আমি আর বেশি চাপ নিতে পারছিলাম না, আমার হাঁটু আগের মতো চাপ নিতে পারছিল না। বিশ্বের সেরা হওয়ার জন্য আপনাকে আট থেকে নয় ঘণ্টা প্রশিক্ষণ নিতে হবে। আমার হাঁটু এক-দুই ঘণ্টার মধ্যেই জবাব দিয়ে দিচ্ছিল, ফুলে যাচ্ছিল; এরপর চালিয়ে যাওয়া খুব কঠিন হয়ে পড়েছিল। তাই আমি ভাবলাম, আর নয়,’’ জানান একসময় বিশ্বের একনম্বর ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড়।
ভারতীয় ব্যাডমিন্টনের ইতিহাসে সোনালী অধ্যায় রচনা করেছিলেন সাইনা নেহওয়াল। ব্যাডমিন্টনে ভারতকে প্রথম অলিম্পিক পদক এনে দিয়েছিলেন তিনি। ২০১২ সালে, লন্ডন অলিম্পিক্সে ব্রোঞ্জ পদক জিতে ইতিহাস রচনা করেছিলেন।
এছাড়াও নিজের দীর্ঘ এবং বর্ণাঢ্য কেরিয়ারে একাধিক আন্তর্জাতিক পদক জিতেছেন তিনি। ২০১৭ সালে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে ব্রোঞ্জ এবং ২০১৮ সালে কমনওয়েলথ গেমসে স্বর্ণপদক সহ মোট পাঁচটি পদক জিতেছিলেন। এশিয়ান গেমসেও একাধিক পদক জিতেছেন।
২০১৫ সালে তিনি বিশ্বের এক নম্বর মহিলা শাটলার হয়ে ওঠেন। তাঁর অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ভারত সরকারও তাঁকে অসংখ্য মর্যাদাপূর্ণ পুরষ্কারে ভূষিত করে। ২০০৯ সালে তিনি অর্জুন পুরষ্কার, ২০১০ সালে মেজর ধ্যানচাঁদ খেলরত্ন পুরষ্কার, একই বছর পদ্মশ্রী এবং ২০১৬ সালে পদ্মভূষণে ভূষিত হন। সাইনা নেহওয়ালের কৃতিত্ব ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন