Uttar Pradesh: এবার ফিরোজাবাদের নাম বদল করে 'চন্দ্র নগর' রাখার প্রস্তাব

এই প্রস্তাবের খসড়া তৈরি করেছেন লক্ষ্মী নারায়ণ যাদব। তাঁর দাবী - ফিরোজাবাদের প্রাচীন নাম ছিল 'চন্দর নগর' এবং আকবর পঞ্চদশ শতাব্দীতে এই নাম বদল করে ফিরোজাবাদ রাখেন। ইরফান হাবিব জানিয়েছেন এই দাবী ভুল।
Uttar Pradesh: এবার ফিরোজাবাদের নাম বদল করে 'চন্দ্র নগর' রাখার প্রস্তাব
ফাইল ছবি, গ্রাফিক্স সুমিত্রা নন্দন

আরও এক নামবদলের সামনে দাঁড়িয়ে বিজেপি শাসিত উত্তরপ্রদেশ। যোগী আদিত্যনাথ পরিচালিত এই রাজ্যে এবার ফিরোজাবাদের নবনির্বাচিত জেলা পরিষদ জেলার নাম পরিবর্তন করে 'চন্দ্র নগর' রাখার প্রস্তাব পেশ করেছে।

সদর ব্লকের প্রধান, লক্ষ্মী নারায়ণ যাদব, যিনি এই প্রস্তাবের খসড়া তৈরি করেছেন, তাঁর দাবী - ফিরোজাবাদের প্রাচীন নাম ছিল 'চন্দর নগর' এবং আকবর পঞ্চদশ শতাব্দীতে এই নাম বদল করে ফিরোজাবাদ রাখেন। যদিও ঐতিহাসিক ইরফান হাবিব জানিয়েছেন এই দাবী সম্পূর্ণ ভুল এবং এই দাবীর কোনও ঐতিহাসিক ভিত্তি নেই।

ফিরোজাবাদ জেলা পরিষদের চেয়ারপার্সন হর্ষিতা সিংহ বলেন, "শনিবার প্রথম জেলা পরিষদ বোর্ড সভায়, ফিরোজাবাদের নাম পরিবর্তন করে চন্দ্র নগর করার প্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদিত হয়। আমরা এ ব্যাপারে রাজ্য সরকারকে বিস্তারিত সুপারিশ পাঠাব। আমরা জেলার আসল নাম ফিরিয়ে আনার জন্য রাজ্য কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি অনুসরণ করবে।"

প্রসঙ্গত, ফিরোজাবাদ কাঁচের জিনিসপত্র, বিশেষ করে চুড়ির জন্য বিখ্যাত।

ফিরোজাবাদ জেলা প্রশাসনের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে উল্লেখ করা হয়েছে, "এই শহরের প্রাচীন নাম ছিল 'চন্দর নগর'। আকবরের রাজত্বকালে ১৫৬৬ সালে ফিরোজাবাদ নাম দেওয়া হয় মুঘল সম্রাটের সামরিক কর্মকর্তা ফিরোজ শাহের নামে। কথিত আছে রাজা টোডরমাল গয়া তীর্থযাত্রার সময় এই শহরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন। ডাকাতরা সেইসময় লুটপাট চালায়। ওইসময় তাঁর অনুরোধে আকবর ফিরোজ শাহকে এখানে পাঠিয়েছিলেন। ফিরোজ শাহের সমাধি এবং কাটরা পাঠাননের ধ্বংসাবশেষ এর প্রমাণ।"

যদিও এই প্রস্তাব নিয়ে সমাজবাদী পার্টি, বহুজন সমাজ পার্টি এবং কংগ্রেসের জেলা সভাপতিরা তীব্র আপত্তি তুলেছেন। সমাজবাদী পার্টির সদস্যরা জানান, বিরোধী দলের কেউ উপস্থিত না থাকায় এই প্রস্তাব পেশ করা হয়।

কংগ্রেসের জেলা সভাপতি সন্দীপ তিওয়ারি বলেন, "এটা দুঃখজনক যে ক্ষমতাসীন বিজেপি সদস্যরা জেলায় ব্যাপক জলাবদ্ধতা, রাস্তাঘাট, জল সমস্যা এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়ে উদ্বিগ্ন নয়। তবে, তারা রাজনৈতিক লাভের জন্য জেলার নাম পরিবর্তন করতে চায়। কারণ সামনেই নির্বাচন।"

প্রখ্যাত ঐতিহাসিক এবং এএমইউ অধ্যাপক ইরফান হাবিব অবশ্য বলেন, "ফিরোজাবাদ চন্দওয়ার নগর নামে পরিচিত ছিল এমন কোন ঐতিহাসিক প্রমাণ নেই। ফিরোজাবাদ নামটি ফিরোজ শাহ তুঘলকের আমলে অস্তিত্ব লাভ করেছিল। আকবর নাম পরিবর্তন করে ফিরোজাবাদ রেখেছিলেন বলে যে প্রচার করা হচ্ছে তা ভুল।"

যোগী আদিত্যনাথ সরকার ইতিমধ্যেই এলাহাবাদের নাম পরিবর্তন করে প্রয়াগরাজ, ফৈজাবাদকে অযোধ্যা এবং মুঘলসরাইকে দীনদয়াল উপাধ্যায় নগর করেছে।

- with inputs from IANS

GOOGLE NEWS-এ আমাদের ফলো করুন

Related Stories

No stories found.
People's Reporter
www.peoplesreporter.in