Telangana: মহাত্মা গান্ধীর হত্যাকারী গডসের মতাদর্শকে সরাসরি সমর্থন করছেন মোদী - কে টি আর

গডসেকে স্বাধীন ভারতের প্রথম সন্ত্রাসবাদী হিসাবে বর্ণনা করে রামা রাও বলেন, "আমি খুব স্পষ্টভাবে জানাচ্ছি, প্রধানমন্ত্রী সরাসরি জাতির পিতা মহাত্মা গান্ধীর হত্যাকারীর আদর্শকে অনুমোদন এবং সমর্থন করেন।"
Telangana: মহাত্মা গান্ধীর হত্যাকারী গডসের মতাদর্শকে সরাসরি সমর্থন করছেন মোদী - কে টি আর
কে টি আরফাইল ছবি, কে টি আর-এর ট্যুইটার হ্যান্ডেলের সৌজন্যে

মহাত্মা গান্ধীর হত্যাকারী নাথুরাম গডসের মতাদর্শকে সমর্থন করছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রবিবার তেলেঙ্গানা রাষ্ট্র সমিতির (টিআরএস) কার্যনির্বাহী সভাপতি কে টি রামা রাও দেশের সাম্প্রতিক সাম্প্রদায়িক হানাহানির ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর “নীরবতা”র নিন্দা করে একথা জানিয়েছেন।

জিগনেশ মেভানি মোদী সম্পর্কে যা বলেছিলেন তা পুনর্ব্যক্ত করে, টিআরএস নেতা মোদী সরকারের উদ্দেশ্যে বলেন, গুজরাটের বিধায়ককে আসাম পুলিশ গ্রেপ্তার করার মতো তাঁকেও গ্রেপ্তার করার সাহস দেখাক।

গডসেকে স্বাধীন ভারতের প্রথম সন্ত্রাসবাদী হিসাবে বর্ণনা করে রামা রাও বলেন, "আমি খুব স্পষ্টভাবে জানাচ্ছি, প্রধানমন্ত্রী আসলে স্পষ্টভাবে এবং সরাসরি জাতির পিতা মহাত্মা গান্ধীর হত্যাকারীর আদর্শকে অনুমোদন এবং সমর্থন করেন।"

টিআরএস নেতা এবং তেলেঙ্গানার মন্ত্রী হিসাবে জনপ্রিয় কেটিআর, রবিবার হায়দারাবাদে সাংবাদিকদের একটি নির্বাচিত দলের সাথে আলাপচারিতা করছিলেন।

গতকাল তিনি বলেন, "প্রধানমন্ত্রী হিসাবে আপনি যদি গডসের মতাদর্শকে সমর্থন করেন, আপনি যদি আপনার দলের সেইসব সাংসদদের নিন্দা না করেন, যারা প্রকাশ্যে গডসেকে উদযাপন করেন, আমি এর থেকে কী সিদ্ধান্তে আসবো।"

কেটিআর সাম্প্রদায়িক বৈষম্যের ঘটনায় নীরবতার জন্য মোদীর নিন্দাও করে বলেন, "দেশ জুড়ে এমন অনেক ঘটনা ঘটছে যেখানে সমাজের কিছু অংশ হুমকির মুখে এবং নিরাপত্তাহীনতা বোধ করছে। এইসব যখন সম্পূর্ণ প্রকাশ্যে ঘটছে তখন প্রধানমন্ত্রী কীভাবে এইসব বিষয়ে একটি শব্দও উচ্চারণ করছেন না? একটি কথা আছে: আপনি যা অনুমতি দেন আপনি তাই প্রচার করেন। আপনি যদি মৌন থেকে অনুমতি দেন তবে কি আপনি এটার প্রচার করছেন না? আপনি দেশের প্রধানমন্ত্রী এবং শুধুমাত্র বিজেপির নেতা বা আরএসএস মতাদর্শী নন। আমি স্পষ্টভাবে একথা জানাচ্ছি এবং যদি এই বক্তব্য অপরাধমূলক মনে হয় তাহলে তাই হোক।" তিনি আরও বলেন, "আমাদের আগেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যদি আবার গ্রেপ্তার করতে চায়, গ্রেপ্তার করুক।"

কেটিআর বলেন, আমি মনে করিনা দেশে বিজেপির উত্থান হচ্ছে। তাঁর মতে, জনতাকে খেপিয়ে তোলা সবচেয়ে সহজ কাজ, বিশেষ করে সারাদিনের ইলেকট্রনিক মিডিয়া এবং চারপাশে অনেকগুলি ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে।

টিআরএস নেতা বলেন, "আমি বিজেপির উত্থান দেখতে পাচ্ছি না। বরং মুদ্রাস্ফীতি এবং বেকারত্বের বৃদ্ধি হচ্ছে। দেশে বেকারত্ব ৪৫ বছরে সর্বোচ্চ পর্যায়ে, আমি এই সম্পর্কে কথা বলতে চাই। দ্রব্যমূল্যবৃদ্ধি ৩০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। আমি সেই বিষয়ে কথা বলতে চাই।"

কেটিআর অবশ্য দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, বিভেদকামী কৌশল আজ দেশে জয়ী হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, "হিজাব বিতর্ক নয়, আমাদের চাকরিতে নজর দেওয়া উচিত। আমরা হালাল বা ঝাটকা নিয়ে কথা বলব না। আমরা আসল বিষয় নিয়ে বিতর্ক চাই। একজন নেতার বুক ৫৬ ইঞ্চি হলে তা বড় কথা নয়। প্রতিটি গরীবের বুক ৫৬ ইঞ্চি হওয়া উচিত।"

তিনি বলেন, টিআরএস বিজেপির ব্যর্থ মডেলকে উন্মোচন করতে চায় এবং তেলেঙ্গানার সোনালী মডেলকে দেশের সামনে তুলে ধরতে চায়। তিনি আস্থা প্রকাশ করে বলেন, তেলেঙ্গানার সফল মডেল জাতীয় স্তরে এজেন্ডা নির্ধারণ করবে। তিনি বলেন, এই মডেল গুজরাটের "গোলমাল" মডেলের সাথে এক নয়। যে মডেল ব্যবহার করে ২০১৪ সালে মোদী নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন।

তাঁর মতে, "সুস্থ বিতর্ক হওয়া উচিত। তেলেঙ্গানায় যদি ৬ মাসে বিদ্যুতের সমস্যা সমাধান করা যায়, তাহলে সারা দেশে কেন তা করা যাবে না। যদি মাত্র চার বছরে তেলেঙ্গানায় বিশ্বের বৃহত্তম লিফট সেচ প্রকল্প আসতে পারে এবং যদি প্রতিটি ঘরে পানীয় জল পাওয়া যায়, তাহলে দেশের বাকি অংশে কেন তা ঘটতে পারে না," তিনি উল্লেখ করেন, তেলঙ্গানায় তথ্য প্রযুক্তি এবং কৃষি উভয়ই হাত ধরে বাড়ছে এবং শিল্প ও পরিবেশের সমান যত্ন নেওয়া হচ্ছে।

এর পাশাপাশি কংগ্রেসকে দোষারোপ করে তিনি বলেন, যদি দেশের কিছু অংশে বিজেপিকে অপ্রতিরোধ্য মনে হচ্ছে কংগ্রেসের কারণে। তিনি বলেন, "আমি বলতে চাই যে এটি শুধুমাত্র একটি দলের কারণে এবং তা হল কংগ্রেস। বিভিন্ন ইস্যুকে কেন্দ্রীয় স্তরে তুলে ধরতে কংগ্রেসের অক্ষমতার কারণেই বিজেপিকে অপ্রতিরোধ্য দেখাচ্ছে।"

তিনি বিশ্বাস করেন যে, যে যে রাজ্য কংগ্রেসের সাথে বিজেপির সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা, সেই সেই রাজ্যে বিজেপি শক্তিশালী। "যেখানেই একটি বিচক্ষণ রাজনৈতিক দল এবং ভালো নেতার সঙ্গে বিজেপির লড়াই হয়েছে সেখানেই বিজেপি পরাস্ত হয়েছে। পাঞ্জাব, তেলেঙ্গানা এবং দিল্লিতেও এটি ঘটেছে।"

কেটিআর জানিয়েছেন, কংগ্রেসকে ৫০ বছর ধরে পরীক্ষা করা হয়েছে এবং এখন মানুষ তাদের পরিত্যাগ করেছে। প্রশান্ত কিশোর বা অন্য কেউ এলেও আমি কংগ্রেসের জন্য খুব বেশি আশা দেখি না। তিনি মনে করেন যে দেশের সমস্ত রাজনৈতিক দলগুলিই আঞ্চলিক দল এবং কংগ্রেসের পরে বিজেপি একটি অপেক্ষাকৃত বড় আঞ্চলিক দল।

তিনি বলেন, "দক্ষিণ ভারতে একমাত্র কর্ণাটক ছাড়া আরও কোথাও বিজেপি নেই। তেলেঙ্গানায়, তাঁদের চারজন সাংসদ জিতেছেন। এটি একটি বিভ্রান্তি। দক্ষিণ ভারতের কোথাও তাদের পারফরম্যান্সের ক্ষেত্রে ধারাবাহিকতা নেই।"

GOOGLE NEWS-এ আমাদের ফলো করুন

Related Stories

No stories found.