SKM: কেন্দ্রের বিশ্বাসঘাতকতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ - ৩১ জুলাই দেশজুড়ে চাক্কা জ্যামের ডাক কিষাণ মোর্চার

ন্যূনতম সমর্থন মূল্যের আইনি গ্যারান্টি, মৃত কৃষকদের ক্ষতিপূরণসহ অন্যান্য দাবিতে আগামী ৩১ জুলাই সকাল ১১টা থেকে দুপুর ৩টার পর্যন্ত সব জাতীয় সড়কে দেশব্যাপী ‘চাক্কা জ্যাম’ কর্মসূচি পালন করা হবে।
ফাইল ছবি
ফাইল ছবি ছবি সৌজন্য দ্য উইক

আগামী ৩১ জুলাই দেশের ৫০০ টি জেলায় "বিশ্বাসঘাতকতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ" সংগঠিত করবে সংযুক্ত কিষাণ মোর্চা (SKM)। ৪০টিরও বেশি কৃষক সংগঠনের যৌথ মঞ্চ এসকেএম-এর পক্ষ থেকে তাদের পরবর্তী আন্দোলনের রূপরেখা ঘোষণা করা হয়েছে।

এই আন্দোলনের অংশ হিসেবে ন্যূনতম সমর্থন মূল্যের আইনি গ্যারান্টি, মৃত কৃষকদের ক্ষতিপূরণসহ অন্যান্য দাবিতে আগামী ৩১ জুলাই সকাল ১১টা থেকে দুপুর ৩টার পর্যন্ত সব জাতীয় সড়কে দেশব্যাপী ‘চাক্কা জ্যাম’ কর্মসূচি পালন করা হবে। এসকেএম রবিবার জানিয়েছে, "সাধারণ জনগণের যাতে এই কর্মসূচিতে কোনও অসুবিধা না হয় তা নিশ্চিত করার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

কেন্দ্রীয় সরকারের "বিশ্বাসঘাতকতায়" হতাশা প্রকাশ করে, এসকেএম জানিয়েছে, "৯ ডিসেম্বর, ২০২১-এ সংযুক্ত কিষাণ মোর্চা আন্দোলন তুলে নেওয়ার সময় কৃষকদের দেওয়া লিখিত প্রতিশ্রুতি কেন্দ্রীয় সরকার সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাখ্যান করেছে। এমএসপি নিয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও কমিটিও গঠিত হয়নি। এমনকি এখনও পর্যন্ত আন্দোলনের সময় কৃষকদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাও প্রত্যাহার করা হয়নি। সরকার বিদ্যুৎ বিল সংসদে আনার চেষ্টা করছে। সরকার কৃষকদের সবচেয়ে বড় দাবি অর্থাৎ ন্যূনতম সহায়ক মূল্যের আইনি গ্যারান্টিও বিবেচনা করতে প্রস্তুত নয়।"

তিন কেন্দ্রীয় কৃষি আইন প্রত্যাহারের জন্য এক বছরব্যাপী আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছে সংযুক্ত কিষাণ মোর্চা। তাদের আন্দোলনের দ্বিতীয় পর্ব আগস্ট মাসের ৭ তারিখ থেকে ১৪ তারিখ পর্যন্ত সারা দেশে "জয় জওয়ান, জয় কিষান" সম্মেলন আয়োজনের মাধ্যমে শুরু হবে। এই সম্মেলনে সাম্প্রতিক অগ্নিবীর বিতর্ককেও তুলে ধরা হবে। এসকেএমের একটি প্রেস বিবৃতি অনুযায়ী সামরিক এই কনভেনশনে প্রাক্তন সেনা ও বেকার যুবকদেরও আমন্ত্রণ জানানো হবে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, "সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে কৃষক সংগঠনগুলি অগ্নিপথ প্রকল্পের বিরুদ্ধে বেকার যুবক এবং প্রাক্তন সেনাদের একত্রিত করবে, যা দেশবিরোধী এবং যুব-বিরোধী এবং পাশাপাশি কৃষক বিরোধী।"

স্বাধীনতার ৭৫ তম বার্ষিকীতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অজয় ​​মিশ্র টেনিকে বরখাস্ত করার দাবিতে আগামী ১৮ থেকে ২০ আগস্ট লখিমপুর খেরিতে ৭৫ ঘন্টার গণধর্না অনুষ্ঠিত হবে। উল্লেখ্য, ৩ অক্টোবর, ২০২১ তারিখে টিকুনিয়া এলাকার এক সাংবাদিক এবং চার কৃষককে হত্যার ঘটনায় মূল অভিযুক্ত কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর ছেলে আশীষ মিশ্র।

ওই বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, "লখিমপুর খেরি হত্যাকাণ্ডের ১০ মাস পরেও কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় অজয় ​​মিশ্র টেনির বহাল থাকা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উপর একটি নিষ্ঠুর পরিহাস।"

কৃষকদের যৌথ মঞ্চের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পাঞ্জাব নির্বাচনের সময় এসকেএম থেকে বেরিয়ে যাওয়া বেশিরভাগ কৃষক সংগঠন মোর্চায় ফিরে এসেছে। যেমন ভারতীয় কিষান ইউনিয়ন (উগ্রাহান)।

এছাড়াও, এসকেএম সম্প্রতি গাজিয়াবাদে তার জাতীয় পর্যায়ের নেতাদের একটি সভা করেছে, যে সভায় "কৃষক ও মানবাধিকার কর্মীদের উপর ক্রমবর্ধমান দমন-পীড়নের" বিরুদ্ধে একটি প্রস্তাব পাস করানো হয়েছে। যেখানে সমাজকর্মী তিস্তা শীতলাবাদ এবং ফ্যাক্ট-চেকার সাংবাদিক মোহাম্মদ জুবেইরের গ্রেপ্তারের প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।

বৈঠকে "উত্তরপ্রদেশের এলাহাবাদে কৃষক নেতা আশিস মিত্তালের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা, বাংলার ফারাক্কায় কৃষি জমির ওপর দিয়ে আদানির হাই-ভোল্টেজ তারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদকারী কৃষকদের উপর লাঠিচার্জ এবং ছত্তিশগড়ে প্রতিবাদী কৃষকদের দমনের” নিন্দা করা হয়েছে৷

রবিবারের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন হান্নান মোল্লা, দর্শন পাল, জোগিন্দর সিং উগ্রাহান, যুধবীর সিং এবং যোগেন্দ্র যাদব সহ ১৫ টি রাজ্য থেকে আগত প্রায় ২০০ জন প্রতিনিধি।

- with inputs from NewsClick

GOOGLE NEWS-এ আমাদের ফলো করুন

Related Stories

No stories found.
People's Reporter
www.peoplesreporter.in