সরকারের 'স্কিৎজোফ্রেনিয়া'র জন্য ভারতে ভয়াবহ চেহারা নিয়েছে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ - অমর্ত্য সেন

মোদী সরকারকে আক্রমণ করে তিনি বলেন, গোটা বিশ্বের কাছে থেকে কৃতিত্ব নিতে চেয়েছিল কেন্দ্র সরকার। যেন ভারতই গোটা বিশ্বকে রক্ষা করবে। সেই ফাঁকেই ভারতে কোভিডের দ্বিতীয় ঢেউ ব‍্যাপক আকার ধারণ করে।
অমর্ত্য সেন
অমর্ত্য সেনফাইল ছবি সংগৃহীত
Published on

কোভিডের ছড়িয়ে পড়া আটকানোর পরিবর্তে নিজেদের কাজের কৃতিত্ব আদায়ে বেশি মনোনিবেশ করেছে ভারত সরকার। এই "স্কিৎজোফ্রেনিয়ার" ফলেই ভারতের কোভিড পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। এভাবেই মোদী সরকারের সমালোচনা করলেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন। বর্তমান ভারত সরকারকে "কনফিউজড" সরকার বলেও কটাক্ষ করেছেন তিনি।

শুক্রবার রাষ্ট্রীয় সেবা দল আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মোদী সরকারের কঠোর সমালোচক হিসেবে পরিচিত অমর্ত্য সেন বলেন, "ভারতে মহামারী ছড়িয়ে পড়া আটকানো নিশ্চিত করার পরিবর্তে, সরকার কী করেছে তার কৃতিত্ব অর্জনে বেশি মনোযোগ দেখিয়েছে। এটা একধরনের স্কিৎজোফ্রেনিয়া। সরকারের এই স্কিৎজোফ্রেনিয়ার কারণেই ভারতে ভয়াবহ চেহারা নিয়েছে কোভিডের দ্বিতীয় ঢেউ।"

প্রসঙ্গত, স্কিৎজোফ্রেনিয়া এক ধরণের মানসিক রোগ। যেখানে রোগীর ঠিক-ভুল যাচাই করার ক্ষমতা চলে যায় এবং রোগী একপ্রকার ভ্রমের মধ্যে থাকে।

অমর্ত্য সেনের কথায়, করোনা মহামারীর সাথে লড়াইয়ে ভারত অনেক সুবিধাজনক অবস্থানে ছিল। কারণ, ভারতের নিজস্ব টিকা প্রস্তুতকারক কোম্পানি রয়েছে। ভারতীয়দের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও তুলনামূলকভাবে বেশি। কিন্তু তা সত্ত্বেও ভারতে কোভিড ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এর কারণ বর্তমান সরকারের "কনফিউজড" মনোভাবাপন্ন স্বভাব।

মোদী সরকারকে আক্রমণ করে তিনি বলেন, গোটা বিশ্বের কাছে থেকে কৃতিত্ব নিতে চেয়েছিল কেন্দ্র সরকার। যেন ভারতই গোটা বিশ্বকে রক্ষা করবে। সেই ফাঁকেই ভারতে কোভিডের দ্বিতীয় ঢেউ ব‍্যাপক আকার ধারণ করে। প্রচুর ভারতবাসীর মৃত্যু হয়।

সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত না নিতে পারার অক্ষমতার জন্যই কারণেই স্কিৎজোফ্রেনিয়ার প্রসঙ্গ তোলেন অমর্ত্য সেন। অর্থনীতিবিদ অ্যাডাম স্মিথের মন্তব্য উদ্ধৃত করে তাঁর কটাক্ষ, "কেউ ভালো কাজ করলে, আপনা আপনিই কৃতিত্ব অর্জন করবে।"

SUPPORT PEOPLE'S REPORTER

ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন

Related Stories

No stories found.
logo
People's Reporter
www.peoplesreporter.in