টানা ৮০ দিন ধরে চলা কৃষক আন্দোলনের "সাপোর্ট সিস্টেম" বাড়ির মহিলারাই

সাধারণত, ‘গৃহবধূ’ হিসেবেই নামাঙ্কিত এই মানুষগুলোই আজ টানা ৮০দিন ধরে চলা আন্দোলনের 'সাপোর্ট সিস্টেম'।
টানা ৮০ দিন ধরে চলা কৃষক আন্দোলনের "সাপোর্ট সিস্টেম" বাড়ির মহিলারাই
কৃষি আইনের বিরুদ্ধে আন্দোলনে মহিলারাফাইল ছবি

বাড়ি সামলানো, বাচ্চাদের দেখভাল, রান্না করার পাশাপাশি দিল্লি সীমান্তে আন্দোলনরত কৃষকদের আসল মেরুদণ্ড এঁরাই। সাধারণত, ‘গৃহবধূ’ হিসেবেই নামাঙ্কিত এই মানুষগুলোই আজ টানা ৮০দিন ধরে চলা আন্দোলনের 'সাপোর্ট সিস্টেম'। আন্দোলনের ধারা এখন আরও বৃহত্তর হতে শুরু করেছে।

মীরাটের আমহেরা আদিপুর-এর বাসিন্দা গীতা সিং জানিয়েছেন, আবহাওয়ার কারণে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হওয়া সত্ত্বেও সরকারের কাছ থেকে কোনওরকম ক্ষতিপূরণ পায়নি তাঁরা। বাড়ির কাজ সামলানোর জন্য দিল্লিতে এসে কেন্দ্রের কৃষি আইনের বিরুদ্ধে আন্দোলনে সামিল হতে পারেননি, কিন্তু নিজের হাতে তৈরি মিষ্টি আন্দোলনরত কৃষকদের কাছে পৌঁছে নিজের সমর্থনের কথা পৌঁছে দিতে চেয়েছেন গীতা।

গীতা জানিয়েছেন, 'আমার স্বামী অসুস্থ এবং ছেলে কলেজে পড়ে। মেয়েরা যেতে পারেনা, তাই আমি ঠিক করেছি এই ঠান্ডায় যারা দিল্লিতে আন্দোলন চালাচ্ছেন, তাঁদের জন্য কিছু পাঠাবো। আমরা জানি, এই তিনটি কৃষি আইন কৃষকদের ভিতর থেকে একেবারে শেষ করে দেবে। তাই এই আইনের বিরোধিতা করছি। যতদিন পর্যন্ত সরকার এই তিনটি কৃষি আইন প্রত্যাহার না করে নেবে, ততক্ষণ এই আন্দোলন চলবে। সব রকমভাবে এই প্রতিবাদে সমর্থন জানাতে তৈরি আমরা। এর জন্য যতদিন দরকার, ততদিন ঠান্ডায় বসে আন্দোলন চালাবে আমাদের কৃষক ভাইরা।''

মীরাটের ৬০ কিমি. দূরে অবস্থিত সাকোতি গ্রামে ১৫টি পরিবারের মহিলারা আখের জমিতে চাষের কাজ করছেন। তাদের সাহায্য করতে কোনও পুরুষ নেই। তাদের বাড়ির পুরুষ সদস্যরা গাজিপুর সীমান্তে আন্দোলনে সামিল হয়েছেন। আখের জমিতে চাষের কাজ করা রাজবতী ধনখড়ের স্বামীও গাজিপুর সীমান্তে আন্দোলনে সামিল হয়েছেন। রাজবতী জানিয়েছেন, এখনই যদি মাঠ থেকে আখ কাটা না হয়, তাহলে আখের মিষ্টতা নষ্ট হয়ে যাবে। তাহলে আর ছেলে মেয়েদের খাওয়াতে পারবোনা। কিন্তু কালা কৃষি আইন বাতিলের দাবিতে আন্দোলন করতেই হবে। তাই নিজের স্বামীকে পাঠিয়েছেন রাজবতী। তাঁর কটাক্ষ, এখনই আখ না কাটলে সরকারের চা-ও চিনির অভাবে মিষ্টতা হারাবে।

শুধু রাজবতী বা গীতাই নয়, এরকম হাজার হাজার গৃহবধু অজান্তেই কৃষক আন্দোলনের মেরুদন্ড হয়ে উঠেছেন।

No stories found.
People's Reporter
www.peoplesreporter.in