বিড়ি শিল্পে সংকট আনতে পারে নতুন খসড়া বিল

দেশে প্রায় ৮৫ লক্ষ বিড়ি শ্রমিক রয়েছে। উত্তর তেলঙ্গানায় ৮ লাখ পরিবার এই শিল্পের ওপর নির্ভরশীল। আগে মাসে ২৬ দিন কাজ করতেন বিড়ি শ্রমিকরা। কিন্তু জিএসটি বসার পর এইসব শ্রমিকরাই মাসে ১০ থেকে ১২ দিন কাজ পান।
বিড়ি শিল্পে সংকট আনতে পারে নতুন খসড়া বিল
ছবি প্রতীকী সংগৃহীত

বিড়ি শিল্পে বাড়তে থাকা সংকটের ফলে শ্রমিক ইউনিয়নগুলো তামাকজাত শিল্পের সংশোধনী বিল, ২০২০ নিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছে। সম্প্রতি, কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রক এই খসড়া বিলটি পেশ করেছে এবং তা নিয়ে মতামত জানানোর জন্য ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত সময়ও দেওয়া হয়েছে। বিড়ি শ্রমিকদের মতে, বিলটিতে এই নতুন পরিবর্তনগুলো হলে তার ব্যাপক প্রভাব বিড়ি শিল্পে ব্যাপকভাবে পড়বে।

তেলঙ্গানা বিড়ি এবং সিগার ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের কর্মী এস রামা জানিয়েছেন, লাখো বিড়ি শ্রমিকদের উপর এই নতুন সংশোধনের ফলে ব্যাপক প্রভাব পড়বে। তাঁদের কাজের উপরও প্রভাব পড়বে। ২০০৩ সাল থেকে কেন্দ্রীয় সরকারের তামাকজাত নীতির ফলে বিড়ি শিল্প ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে। ২৮ শতাংশ জিএসটি দিতে হয় বিড়ি শিল্পে। বিড়ির প্যাকেটে সতর্কতামূলক বার্তাও আরও বড় করা হয়েছে। এর ফলে বিড়ি বিক্রি কমেছে। বিড়ি শিল্প ও বিড়ি শ্রমিকদের উপর প্রভাবও পড়েছে।

শ্রমিক ইউনিয়নের তরফে জানানো হয়েছে, দেশে প্রায় ৮৫ লক্ষ বিড়ি শ্রমিক রয়েছে। উত্তর তেলঙ্গানায় ৮ লাখ পরিবার এই শিল্পের উপর নির্ভর করে জীবনযাপন করেন। আগে মাসে ২৬ দিন কাজ করতেন বিড়ি শ্রমিকরা। কিন্তু জিএসটি বসার পর এইসব শ্রমিকরাই মাসে ১০ থেকে ১২ দিন কাজ পান। কেন্দ্রীয় সরকার এইসব শ্রমিকরা কীভাবে জীবনযাপন করবে তার দিকে নজর তো দেয়ই না, উপরন্তু নতুন আইন নিয়ে এসে তাদের কাজের জায়গাটাই বন্ধ করে দেবার ব্যবস্থা করছে বলে অভিযোগ করেন রামা। যদি সরকার বিড়ি উৎপাদন কমিয়েই দিতে চায়, তাহলে এইসব শ্রমিকদের বিকল্প কাজের ব্যবস্থাও সরকারকেই করতে হবে বলেও দাবি করেন তিনি।

No stories found.
People's Reporter
www.peoplesreporter.in