'শেষ পর্যন্ত লালঝান্ডার মিছিলে, লড়াইয়ে থাকব' - ২৩ দিন পর বাড়ি ফিরলেন নিখোঁজ DYFI কর্মী দীপক পাঁজা

শুক্রবার বালি স্টেশন সংলগ্ন এলাকা থেকে তাঁকে উদ্ধার করেন স্থানীয় সিপিআইএম কর্মী অচিন গাঙ্গুলি। তৎক্ষণাৎ রাজ‍্য কমিটির নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা করে হাওড়া জেলা পার্টি অফিসে নিয়ে আসা হয় তাঁকে।
'শেষ পর্যন্ত লালঝান্ডার মিছিলে, লড়াইয়ে থাকব' - ২৩ দিন পর বাড়ি ফিরলেন নিখোঁজ DYFI কর্মী দীপক পাঁজা
হাওড়া জেলা সিপিআই(এম) অফিসের সামনে দীপক পাঁজার সঙ্গে দলীয় কর্মীরানিজস্ব চিত্র

"পুলিশ এর থেকে বেশি মারলেও সিপিআইএমের মিটিংয়ে আবার আসব। মৃত্যুর আগে পর্যন্ত লালঝান্ডার মিছিলে থাকব, লড়াইয়ে থাকব।" - জানালেন দীপক পাঁজা। গত ১১ ফেব্রুয়ারি বামেদের নবান্নে অভিযানে গিয়ে নিখোঁজ দীপকের খোঁজ মিলেছে শুক্রবার। প্রায় ২২ দিন যাবত নিখোঁজ থাকার পরেও এতটুকুও কমেনি তাঁর মনের জোর।

কর্মসংস্থানের দাবিতে গত ১১ ফেব্রুয়ারি নবান্ন অভিযানের ডাক দিয়েছিল বাম ছাত্র যুবরা। স্থানীয় নেতৃত্বের সঙ্গে সেই অভিযানে গিয়েছিলেন পাঁশকুড়ার বাহারপোতা গ্রামের বাসিন্দা দীপক পাঁজা। বাম ছাত্র যুবদের সেই শান্তিপূর্ণ মিছিলের ওপর নির্মমভাবে লাঠিচার্জ করে পুলিশ। ব্যবহৃত হয় কাঁদানে গ‍্যাস ও জলকামান। এইসময়েই দলছুট হয়ে যান দীপক। তারপর থেকেই দীর্ঘ ২২ দিন নিখোঁজ ছিলেন তিনি।

শুক্রবার বালি স্টেশন সংলগ্ন এলাকা থেকে তাঁকে উদ্ধার করেন স্থানীয় সিপিআইএম কর্মী অচিন গাঙ্গুলি। তৎক্ষণাৎ রাজ‍্য কমিটির নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা করে হাওড়া জেলা পার্টি অফিসে নিয়ে আসা হয় তাঁকে। শনিবার সকালে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দীপককে বাড়ি আনতে হাওড়া জেলা সিপিআই(এম) অফিসে পৌঁছান স্থানীয় সিপিআই(এম) নেতা প্রবীর পাইক, রবীন্দ্রনাথ সামন্ত এবং আশিস মাইতি।

শনিবারই হাওড়া জেলা সিপিআইএমের পক্ষ থেকে দীপক পাঁজার যাবতীয় শারীরিক পরীক্ষা করানো হয়। তাঁর হাতে গুরুতর আঘাত রয়েছে। দীপক পাঁজার বক্তব্য অনুসারে, নবান্ন অভিযানের দিন পুলিশের লাঠিচার্জের ফলে তাঁর হাতে চোট লেগেছিল।

নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে বিগত ২২ দিন অবর্ণনীয় কষ্টের মধ্যে কেটেছে তাঁর। পিপলস্ রিপোর্টারের প্রতিনিধিকে দীপক জানান, ওই দিন পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছুঁড়তেই তার চোখ জ্বালা করে। এর ওপর পুলিশ লাঠিচার্জ করলে সে অন‍্যদের থেকে দলছুট হয়ে যায়। কাঁদানে গ্যাসের প্রভাবে বেশ কিছুক্ষণ অচেতন অবস্থায় ছিলেন বলে দাবি করেন তিনি। জ্ঞান ফিরতে পরিচিত কাউকে আশেপাশে দেখতে না পেয়ে একাই বাড়ি ফেরার জন্য হাওড়া স্টেশনের উদ্দেশ্যে রওনা দেন তিনি। কিন্তু স্টেশনে পৌঁছে ভুল লাইনের ট্রেনে উঠে পড়ায় আর বাড়ি ফিরতে পারেননি তিনি।

এই ২২ দিন রাস্তাতেই উদভ্রান্তের মতো কাটিয়েছেন দীপক পাঁজা। অনেকের কাছে সহযোগিতা চেয়েছেন। কিন্তু কেউই সহযোগিতা করেননি বলে অভিযোগ তাঁর। নবান্ন অভিযানের ভয়াবহ স্মৃতি তখনও দগদগে থাকায় পুলিশের কাছেও ভয়ে যাননি তিনি। ট্রেনযাত্রীরা দয়া করে যা খেতে দিয়েছেন তাই খেয়েছেন। তাঁর কথায়, পুলিশ যদি ওইদিন না লাঠিচার্জ করত, তাহলে তিনি হারিয়ে যেতেন না।

GOOGLE NEWS-এ আমাদের ফলো করুন

No stories found.
People's Reporter
www.peoplesreporter.in