মাইক্রোচিপের ঘাটতি, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি - সেপ্টেম্বরে কমল গাড়ি বিক্রি
ছবি প্রতীকীছবি সংগৃহীত

মাইক্রোচিপের ঘাটতি, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি - সেপ্টেম্বরে কমল গাড়ি বিক্রি

মাইক্রোচিপের ঘাটতির পাশাপাশি জ্বালানির চড়া দামের কারণে প্রধান প্রধান গাড়ি নির্মাতাদের অন্য বছরের তুলনায় সেপ্টেম্বরের বিক্রি কমেছে অনেকটাই।

মাইক্রোচিপের ঘাটতির পাশাপাশি জ্বালানির চড়া দামের কারণে প্রধান প্রধান গাড়ি নির্মাতাদের অন্য বছরের তুলনায় সেপ্টেম্বরের বিক্রি কমেছে অনেকটাই। সেমিকন্ডাক্টর বা মাইক্রোচিপের ঘাটতির প্রভাব পড়েছে উৎপাদনে। ফলে বাড়ছে অপেক্ষার সময়। বাড়াতে হচ্ছে দাম।

মারুতি সুজুকি, হুন্ডাই মোটর, টাটা মোটরস এবং মাহিন্দ্রার মতো বড় গাড়ি কোম্পানি জানিয়েছে উৎপাদন কমায় কমেছে ডেলিভারি। ভিতরের কমব্যাসন ইঞ্জিন উৎপাদনে সেমিকন্ডাক্টরের বড় ভূমিকা আছে। এটি যে কোন গাড়ির সবধরনের সেন্সর ও কন্ট্রোলের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। বর্তমানে এই ঘাটতির জন্য একাধিক আসল উপকরণ নির্মাতা উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে। ফলে জনপ্রিয়, নানা বৈশিষ্ট্য সমৃদ্ধ হাই এন্ড মডেলের জন্য অপেক্ষা বেড়ে গেছে।

এর ফল স্বরূপ যাত্রীবাহী গাড়ির জগতে সামনের সারিতে থাকা মারুতি সুজুকির সেপ্টেম্বরে বিক্রি কমে দাঁড়িয়েছে ৮৬,৩৮০টি। গত বছর সেপ্টেম্বরে যা ছিল ১৬০,৪৪২।

কোম্পানি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে মোট বিক্রির মধ্যে দেশের বাজারে বিক্রি হয়েছে ৬৬,৪১৫টি, অন্য আসল উপকরণ নির্মাতাকে দেওয়া হয়েছে ২৪০০টি এবং রফতানি হয়েছে ১৭,৫৬৫টি। বিবৃতিতে বলা হয়েছে ২০২১এর সেপ্টেম্বরে কোম্পানির বিক্রি কমেছে ইলেক্ট্রনিক উপাদানের ঘাটতির ফলে। তবে কোম্পানি তার মোকাবিলায় সম্ভাব্য সবরকম ব্যবস্থা নিয়েছে।

হুন্ডাই মোটর ইন্ডিয়া জানিয়েছে এবছর সেপ্টেম্বরে পৌনপুনিক বিক্রি কমে দাঁড়িয়েছে ৪৫,৭৯১। ২০২০তে এই সংখ্যা ছিল ৫৯,৯১৩। ঘরোয়া বাজারে বিক্রি গত বছর সেপ্টেম্বরে ছিল ৫০,৩১৩, এ বছর সেপ্টেম্বরে কমে হয়েছে ৩৩,০৮৭। একইভাবে গত বছর রফতানি হয়েছিল ১২,৭০৪, সে জায়গায় গত সেপ্টেম্বরে রফতানি হয়েছে ৯৬০০।

যদিও টাটা মোটরসের সেপ্টেম্বরের বিক্রি গত বছরের ৪৪,৪১০ থেকে বেড়ে হয়েছে ৫৫,৯৮৮, তবুও কোম্পানির এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর গিরিশ ওয়াঘ জানিয়েছেন সারা বিশ্বেই সেমিকন্ডাক্টরের ঘাটতিতে ভুগতে হচ্ছে গাড়ি শিল্পকে।

তিনি বলেছেন,পূর্ব এশিয়ায় বিধি নিষেধের ফলে সরবরাহে ঘাটতির প্রভাব পড়েছে উৎপাদন ও ডেলিভারিতে। পরিস্থিতির দোলাচলতার জন্য গ্রাহকদের সুবিধার্থে বহুমুখী দৃঢ় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

আরও এক বড় গাড়ি কোম্পানি মাহিন্দ্র অ্যান্ড মাহিন্দ্রর সেপ্টেম্বরের হিসাব অনুযায়ী বিক্রি কমেছে ১২শতাংশ। ২০২০র সেপ্টেম্বরে বিক্রি হয়েছিল ১৪,৮৫৭টি আর এবছর সেপ্টেম্বরে হয়েছে ১৩,১৩৪টি।

এই কোম্পানির চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার( অটোমোটিভ ডিভিশন) বিজয় নাকরা বলেছেন, গোটা বিশ্বেই সেমিকন্ডাক্টরের ঘাটতি অসুবিধার সৃষ্টি করেছেগাড়ি শিল্পের জন্য।তাঁরা যথাসম্ভব বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছেন পরিস্থিতি সামলাতে।

এর মধ্যে কিয়া ইন্ডিয়ার সেপ্টেম্বরে বিক্রি হয়েছে ১৪,৪৪১টি। বছর ভিত্তিক হিসাবে এই কোম্পানি দেশে চতুর্থ সর্বোচ্চ গাড়ি নির্মাতা। বাজারে অংশীদারিত্ব ১.৪শতাংশ বেড়ে হয়েছে ৭.৮শতাংশ।

কিয়া ইন্ডিয়ার ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং বিক্রয় ও বিপণন বিভাগের প্রধান হরদীপ সিং ব্রার বলেছেন, সরবরাহ শৃঙখলে ব্যাঘাত ঘটায় গত মাসে শিল্পের মনোবল ধাক্কা খেয়েছে। ব্রার আরও বলেছেন উৎসবের মরশুম আসছে, তাঁদের আশা সেমিকন্ডাক্টর সরবরাহে উন্নতি ঘটবে। এখনকার মতো উৎপাদন স্বাভাবিক রাখার ও অপেক্ষার সময় কমানোর চেষ্টা চলছে।

ইক্রার ভাইস প্রেসিডেন্ট রোহন গুপ্তা বলেছেন সেমিকন্ডাক্টর ঘাটতির জন্য ২০২১এর সেপ্টেম্বরে দেশে যাত্রীবাহী গাড়ির বিক্রি সার্বিকভাবে অনেকটাই কমেছে। উৎসবের মরশুমে গাড়ির জন্যে অপেক্ষার সময় আরও বাড়বে।

তাঁর বক্তব্য ডিলারদের ঘরেও গাড়ির সংখ্যা কম, ডিসকাউন্টের পরিমাণ কমেছে অনেকটাই। অক্টোবরে পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও সেমিকন্ডাক্টরের ঘাটতি মিটতে পারে বছর শেষে।

- with inputs from IANS

GOOGLE NEWS-এ আমাদের ফলো করুন

Related Stories

No stories found.