Karnataka: কর্ণাটকে ‘Vigilante Justice’-র রমরমা, উদ্বিগ্ন দেশের শিক্ষাবিদ-সমাজকর্মীরা

অধ্যাপক রাধা কৃষ্ণ জানান, ‘এটি সাধারণভাবে চোখের বদলে চোখ নেওয়ার তত্ত্ব। আমাদের মনে রাখা উচিত, মহাত্মা গান্ধী বলেছিলেন যে এই পদ্ধতি পুরো বিশ্বকে অন্ধ করে দেবে!’
ছবি প্রতীকী
ছবি প্রতীকীফাইল ছবি সংগৃহীত

কর্ণাটকে ‘Vigilante Justice’ বা ‘নীতি পুলিশের’ যে রমরমা শুরু হয়েছে, তা নিয়ে উদ্বিগ্ন দেশের শিক্ষাবিদ থেকে সমাজকর্মীরা।

সম্প্রতি, রাজ্যজুড়ে যেভাবে হিজাব বিতর্ক, মুসলিম ব্যবসায়ীদের বয়কট, হিন্দু কর্মীদের হত্যা এবং মুসলিম যুবকদের প্রতিশোধমূলক হত্যাকাণ্ড ঘটে চলেছে তা দেশের মানুষের উপর ব্যপক প্রভাব ফেলেছে। তাঁদের বিবেককে নাড়িয়ে দিয়েছে।

আর, এই ধরণের ঘটনার জন্য ক্ষমতাসীন বিজেপিকে দায়ী করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা দাবি করেছেন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার (পুলিশ-প্রশাসনের) ব্যর্থতা, রাজনৈতিক অনৈক্য, দুর্নীতি এবং সংবেদনশীলতা কমে আসার কারণে এই প্রবণতা তৈরি হয়েছে।

বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, লেখক ও অধ্যাপক রাধা কৃষ্ণ জানান, ‘আমাদের সমাজের মধ্যে ‘Vigilante Justice’ বা (নীতি পুলিশ) শব্দ থাকা উচিত নয়।’

তিনি বলেন, ‘যখন কোনও ব্যক্তি বা গোষ্ঠী আইন রক্ষার নামে অন্য ব্যক্তি বা সম্প্রদায়ের উপর নজরদারি চালায়। তারপর, আইনি ব্যবস্থাকে এড়িয়ে, নিজেদের ক্ষোভ মেটাতে স্বঘোষিত বিচারক হয়ে শাস্তি প্রদান করে, তখন তাকে (Vigilante Justice) বলা হয়।’   

তিনি জানান, ‘এটি সাধারণভাবে চোখের বদলে চোখ নেওয়ার তত্ত্ব। আমাদের মনে রাখা উচিত, মহাত্মা গান্ধী বলেছিলেন যে এই পদ্ধতি পুরো বিশ্বকে অন্ধ করে দেবে!’

বিশিষ্ট এই শিক্ষাবিদের মতে, সাম্প্রতিককালে দেশজুড়ে সম্প্রদায়গত ‘অনার কিলিং’ (honour killing) হচ্ছে। এছাড়া, গো-মাংস ভক্ষণ ও গো রক্ষার নামে হিংসা বৃদ্ধি পেয়েছে।

‘দুর্ভাগ্যজনকভাবে, এই ধরণের ঘটনায় উস্কানি দিচ্ছে রাজনীতিবিদরা। যারা ছলে-বলে-কৌশলে না হলে, জোরপূর্বক সমাজে বিভাজন ঘটিয়ে ক্ষমতা দখল করতে চান। এরা বেশিরভাগই হলেন কুটিল প্রকৃতির।’

অধ্যাপক রাধা কৃষ্ণ আরও জানান, ‘এটা সত্য যে, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ব্যর্থতার কারণে তথাকথিত বর্বর এবং নৃশংস হিংসাত্মক কর্মকাণ্ড হয় বা এটিকে ব্যর্থ করতে রাজনৈতিক খেলা হয়।’

দৃঢ়তার সঙ্গে তিনি বলেন, ‘হিন্দু ধর্ম বা অন্যান্য ধর্মকে রক্ষা নয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করাই হল সরকারের কাছে আসল 'ধর্ম' হল।’

জিজ্ঞাসার সুরে প্রবীণ এই শিক্ষাবিদ বলেন, ‘যদি কেউ কোনও নারীকে ধর্ষণ করে, তাহলে কি আমরা গিয়ে ধর্ষকের পরিবারের নারীকে ধর্ষণ করে সুপার রেপিস্ট হয়ে যাই? খুনের বদলে খুনের প্রতিশোধ নেওয়া যায় কি? এই ঘটনা একটি সভ্য সমাজকে বর্বর সমাজে পরিণত করবে।’

তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, 'নিজেদের একটি সভ্য, বিকশিত, পারস্পরিক শ্রদ্ধাশীল সমাজে পরিণত হওয়ার জন্য কয়েক শতাব্দী সংগ্রাম করেছে মানবজাতি। শেষ পর্যন্ত, সত্য ও অহিংসার মাধ্যমে প্রকৃত ন্যায়বিচারের রক্ষাকর্তা (real vigilante justice) হওয়ার পথ দেখিয়েছেন মহাত্মা গান্ধী। কিন্তু দুর্ভাগ্য, রাজনৈতিক গোষ্ঠীগুলি এখন 'অন্যকথা' চিন্তা করছে বলে মনে হচ্ছে।'

কর্ণাটক কংগ্রেসের লিগ্যাল সেলের সাধারণ সম্পাদক সূর্যমুকুন্দরাজ বলেন, ‘দেশে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে আইন আছে। শাস্তি দেওয়ার জন্য একটি সম্পূর্ণ (বিচার) ব্যবস্থা রয়েছে।’

একইসঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘যদি প্রাইভেট দলগুলি ‘ন্যায়বিচার’ দেওয়ার নামে আইন নিজের হাতে তুলে নেয় (vigilante justice), তাহলে আইন, আদালত এবং পুলিশি ব্যবস্থার প্রয়োজন আছে কি?’

- with inputs from IANS

GOOGLE NEWS-এ আমাদের ফলো করুন

Related Stories

No stories found.
People's Reporter
www.peoplesreporter.in