উড়ছে ড্রোন, পুলিশ পিকেটিং - ডিপিএল'র জমি বিক্রি করবে রাজ্য! বাস্তুচ্যুত হওয়ার আশঙ্কায় বাসিন্দারা

২০১৭ সালে পুরভোটের আগের ডিপিএলের জমিতে বসবাসকারীদের কাছে জল এবং বিদ্যুতের ব্যবস্থা করে দিয়ে তাদের আইনগত বৈধতা দিয়েছিল প্রশাসন।
উড়ছে ড্রোন, পুলিশ পিকেটিং - ডিপিএল'র জমি বিক্রি করবে রাজ্য! বাস্তুচ্যুত হওয়ার আশঙ্কায় বাসিন্দারা
ছবি- প্রতীকী

মাথার ওপর ড্রোন আর নীচে পুলিশের পিকেটিং। ডিপিএল জমি বিক্রির জন্য এমনই ব্যবস্থা নিতে চলেছে রাজ্য। প্রশ্ন হচ্ছে, শিল্পে ব্যবহারের জন্য বিপুল পরিমাণ জমি কাকে দেওয়া হবে? মাটিতে নজরদারি চালাতে প্রতিরোধ আসতে পারে বুঝেই এই পদক্ষেপ করা হচ্ছে। এই প্রসঙ্গে সিটু নেতা পঙ্কজ রায় সরকার জানান, সরকার ভীতির পরিবেশ তৈরি করতে চাইছে। কাদের হাতে এক হাজার একর শিল্পের জমি তুলে দিতে চাইছে রাজ্য? প্রশ্ন তার।

ডিপিএলের জমিতে বসবাসকারী মানুষদের সম্পর্কে খুঁটিনাটি তথ্য সংগ্রহ করবে এই ড্রোন। তারপরে তৈরি হবে রিপোর্ট। সূত্রে জানা গিয়েছে, আপাত ডিপিএলে কারখানা সংলগ্ন পিয়ালা গ্রামের উপর দিয়ে এরিয়াল সার্ভে করা হবে। পিয়ালা গ্রামের ৩৪ একর জমির ওপর সমীক্ষা চালানো হবে। উচ্ছেদের আগে ড্রোনকে হাতিয়ার করে আগামী দু-তিনদিনের মধ্যেই এই কাজ শেষ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ড্রোন ব্যবহার করে এভাবে বাস্তুচ্যুত করার কাজের আগে কখনও হয়নি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তৃতীয়বার মুখ্যমন্ত্রী হয়ে ক্ষমতায় আসার পর এখন গরিব মানুষকে ঘরছাড়া করতে নেমেছে। এক আধিকারিকের কথায়, নবান্ন থেকে আমাদের ওপর চাপ আসছে। যে কোনও মূল্যে এই জমি দখলমুক্ত করে সরকার হাতে তুলে দিতে হবে।

২০১৭ সালে পুরভোটের আগের ডিপিএলের জমিতে বসবাসকারীদের কাছে জল এবং বিদ্যুতের ব্যবস্থা করে দিয়ে তাদের আইনগত বৈধতা দিয়েছিল প্রশাসন। ২০১৫ সালে রাজ্য মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত ছিল, ১৫ বছরের বেশি সময় ধরে বসবাসকারীদের জল, বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে স্বীকৃতি দেওয়া হবে। পিয়ালা গ্রামের অজিত রুইদাস বলেন, 'আমরা ত্রিশ-পয়ত্রিশ বছর ধরে এখানে আছি। কয়েকদিন আগে তার দিয়ে ঘিরে দিয়ে ডিপিএল বলেছে আমাদের জায়গা। জমি উচ্ছেদে কথা কিছু বলেনি। এখন উচ্ছেদ করার কথা বলা হলে তার আগে আমাদের পুনর্বাসন দিতে হবে।'

জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার নবান্নে ডিপিএলের জমি বিক্রি নিয়ে উচ্চ পর্যায়ে বৈঠক হয়। বৈঠকের আগে রাজ্যের হাতে ডিপিএল কতটা জমি তুলে দেবে, তার পরিমাণ জানানো হয়েছিল। ২০০ একর জমির পরিমাণ শুনে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিল রাজ্য। জমির পরিমাণ কম কেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। নবান্ন থেকে পশ্চিম বর্ধমান জেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, সরেজমিনে জমি খতিয়ে দেখার। তবে গোটা পরিকল্পনার সঙ্গে ডিপিএলের পুনরুজ্জীবনের বিষয়টি যে জড়িত নয়, সে সম্পর্কে নিশ্চিত বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

GOOGLE NEWS-এ আমাদের ফলো করুন

No stories found.
People's Reporter
www.peoplesreporter.in