Farm Laws Repealed: তিন কৃষি আইন বাতিলের দাবীতে ঐতিহাসিক কৃষক আন্দোলন - এক নজরে

শুক্রবার ৩ আইন বাতিলের ঘোষণা পর্যন্ত কৃষকরা আন্দোলন চালিয়েছেন। এই সময় ঘটনাবহুল। সবটুকু একজায়গায় নিয়ে আসা সম্ভব নয়। তবুও এখানে মোটামুটি তারিখ ধরে কৃষি আন্দোলনের ১ বছরের হিসেব দেওয়ার চেষ্টা রইলো।
Farm Laws Repealed: তিন কৃষি আইন বাতিলের দাবীতে ঐতিহাসিক কৃষক আন্দোলন - এক নজরে
ঐতিহাসিক কৃষক আন্দোলনফাইল ছবি সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি শুক্রবার যে তিনটি আইন বাতিল করা হবে বলে জানিয়েছেন, তা হল – ফার্মার্স প্রোডিউস ট্রেড অ্যান্ড কমার্স (প্রোমোশন অ্যান্ড ফেসিলিটেশন) বিল ২০২০, ফার্মার্স (এমপাওয়ারমেন্ট অ্যান্ড প্রোটেকশন) এগ্রিমেন্ট অন প্রাইস অ্যাসুরেন্স অ্যান্ড ফার্ম সার্ভিসেস বিল ২০২০ এবং এসেন্সিয়াল কমোডিটিস (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল ২০২০।

এই অর্ডিন্যান্স জারির পর থেকে দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন কৃষক সংগঠন একযোগে আন্দোলন চালিয়েছে এক বছরের বেশি সময় ধরে। শুক্রবার সেই তিন আইন বাতিল করার ঘোষণা পর্যন্ত কৃষকরা আন্দোলন চালিয়ে গেছে। দীর্ঘ এই সময় একাধিক ঘটনা ঘটেছে। যার সবটুকু একজায়গায় নিয়ে আসা হয়তো সম্ভব নয়। তবুও এখানে মোটামুটি তারিখ ধরে কৃষি আন্দোলনের এক বছরের একটা হিসেব দেওয়ার চেষ্টা রইলো।

৫ জুন, ২০২০: কেন্দ্র তিনটি অর্ডিন্যান্স নিয়ে আসে এবং দাবি করে যে এর ফলে দীর্ঘদিন ধরে অমীমাংসিত থাকা বিষয়ে সংস্কার আসবে। কৃষকরা ভালো দামে পণ্য বিক্রি করতে পারবেন।

জুলাই-আগস্ট ২০২০: তিনটি কৃষি আইনের বিরুদ্ধে পাঞ্জাবের কিছু অংশে বিক্ষোভ শুরু হয়।

১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২০: সরকার লোকসভায় তিনটি বিল পেশ করে।

১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২০: লোকসভা বিতর্ক ছাড়াই তিনটি খামার আইন পাস করে।

২০ সেপ্টেম্বর, ২০২০: ধ্বনি ভোটের মাধ্যমে রাজ্যসভায় তিন বিল পাস হয়।

২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২০: পাঞ্জাবের কৃষকরা রেল রোকো আন্দোলনের ডাক দেয়।

২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২০ : রাষ্ট্রপতি তিন কৃষি আইনে তার সম্মতি দেন।

নভেম্বর ২০২০: সংযুক্ত কিষাণ মোর্চা গঠিত হয়। একাধিক কৃষক সংগঠনের এই মঞ্চে দেশের বহু কৃষক সংগঠন যোগ দেয়।

২৬ নভেম্বর, ২০২০: দিল্লি অভিমুখে কৃষকদের পদযাত্রা শুরু হয়। পুলিশ বাধা দেয়। জাতীয় সড়ক খুঁড়ে এবং রাস্তায় পেরেক পুঁতে দিয়ে কৃষকদের আটকানোর চেষ্টা করা হয়।

২৭ নভেম্বর, ২০২০: শেষ পর্যন্ত, কৃষকরা সিঙ্ঘু সীমান্ত, টিকরি সীমান্ত, গাজীপুর সীমান্তে ট্রাক্টর এবং ট্রলি নিয়ে আসে, মঞ্চ তৈরি করে। আন্দোলনরত কৃষকদের জন্য লঙ্গর তৈরি হয়।

নভেম্বর ২৮, ২০২০: কৃষকরা বুরারিতে গিয়ে অবস্থান করলে সরকার কৃষকদের সঙ্গে আলোচনা করার শর্ত দেয়। কৃষকরা সরকারি শর্তের বদলে রামলীলা ময়দানে অবস্থান করতে চান।

৩ ডিসেম্বর, ২০২০: সরকার কৃষকদের সাথে আলোচনা শুরু করে। কৃষক নেতৃত্ব তিনটি আইন সংশোধনের সরকারি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে।

৮ ডিসেম্বর, ২০২০: তিন কৃষি আইন বাতিলের দাবীতে ভারত বনধ। বনধে সমর্থন জানায় বাম কংগ্রেস সহ একাধিক বিরোধী দল এবং বিভিন্ন ট্রেড ইউনিয়ন।

১১ ডিসেম্বর, ২০২০: তিন কৃষি আইন বাতিলের দাবীতে ভারতীয় কিষান ইউনিয়ন (বিকেইউ) সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়।

৭-১২ জানুয়ারী, ২০২১: সুপ্রিম কোর্ট শুনানির জন্য মামলা গ্রহণ করে; তিনটি কৃষি আইনের বাস্তবায়নে স্থগিতাদেশ জারি করে এবং সুপারিশ করার জন্য একটি কমিটি নিয়োগ করে।

২০-২৫ জানুয়ারী, ২০২১: কৃষকরা ১৮ মাসের জন্য কৃষি আইন স্থগিত রাখার সরকারি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে এবং তিন কৃষি আইন বাতিল করার জন্য জোর দেয়।

জানুয়ারী ২৬, ২০২১: প্রজাতন্ত্র দিবসে কৃষকদের ট্র্যাক্টর সমাবেশ; পুলিশের সাথে সংঘর্ষ; বিক্ষোভকারীদের একটি দল লালকেল্লায় পৌঁছে যায় এবং জাতীয় পতাকার সাথে খালসা পতাকা উত্তোলন করে।

২৭শে জানুয়ারী, ২০২১: লাল কেল্লার ঘটনার একদিন পরে, দিল্লি পুলিশ জোরপূর্বক কৃষকরা যে যে সীমান্ত অঞ্চলে অবস্থান করছিলো সেই সমস্ত সীমান্তে ব্যারিকেড স্থাপন করে।

১৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২১: বেঙ্গালুরু-ভিত্তিক তরুণ কর্মী দিশা রবি কৃষক আন্দোলনের সমর্থনে 'টুলকিট' সম্পাদনা ও ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য গ্রেপ্তার হন।

৫ মার্চ, ২০২১: তিন আইন প্রত্যাহারের দাবিতে পাঞ্জাব বিধানসভা কর্তৃক প্রস্তাব গৃহীত হয়।

১৯ মার্চ, ২০২১: সুপ্রিম কোর্টের নিযুক্ত কমিটি তার প্রতিবেদন জমা দেয়।

২৭ মে, ২০২১: কৃষকরা আন্দোলনের ছয় মাস উপলক্ষে 'কালা দিবস' পালন করেন।

জুন ৫, ২০২১: কৃষি বিলের অর্ডিন্যান্স জারির এক বছর পূর্তিতে কৃষকদের পক্ষ থেকে 'সম্পূর্ণ ক্রান্তিকারি দিবস' (সম্পূর্ণ বিপ্লব দিবস) পালন করা হয়।

২০ জুলাই, ২০২১: সংসদে কৃষিমন্ত্রী জানান কৃষি আইনের বিরুদ্ধে আন্দোলনরত কৃষকদের মৃত্যু বা অসুস্থ হওয়ার কোনও রেকর্ড নেই। জবাবে সাংবাদিক সম্মেলনে অল ইন্ডিয়া কিষান সভার সাধারণ সম্পাদক হান্নান মোল্লা বিস্ময় প্রকাশ করে জানান, এখনও পর্যন্ত আন্দোলনরত ৫৮২ জন কৃষকের মৃত্যু হয়েছে দিল্লির বিভিন্ন সীমান্তে।

২২ জুলাই, ২০২১: সংসদের বর্ষা অধিবেশনের সময় যন্তর মন্তরে সমান্তরালভাবে 'কিষাণ সংসদ' শুরু হয়।

৭ আগস্ট, ২০২১: ১৪ বিরোধী দলের নেতৃত্ব 'কিষাণ সংসদ' যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

৫ সেপ্টেম্বর, ২০২১: মুজাফফরনগরে 'কিষাণ মহাপঞ্চায়েত' অনুষ্ঠিত হয়; কৃষকরা উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথকে লখনউ থেকে এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে দিল্লি থেকে ক্ষমতাচ্যুত করার ঘোষণা করে।

২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২১: কৃষকদের কনসোর্টিয়ামের 'ভারত বন্ধ'-এ দেশ জুড়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। কৃষকরা দিল্লিতে প্রবেশ না করলেও, উত্তর-পশ্চিম ভারতের রাজ্যগুলিতে বেশি সংখ্যায় কৃষকরা যোগ দিতে শুরু করেন।

৭ সেপ্টেম্বর, ২০২১: কর্নালে কিষান মহাপঞ্চায়েত অনুষ্ঠিত হয়।

৪ অক্টোবর, ২০২১: লখিমপুর খেরিতে প্রতিবাদী কৃষকদের উপর গাড়ি চালিয়ে দেওয়া হয়। যে ঘটনায় আন্দোলনরত চারজন কৃষক নিহত হন। ঘটনায় মূল অভিযোগ ওঠে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর ছেলের ওপর।

১৭ নভেম্বর, ২০২১: সুপ্রিম কোর্ট লখিমপুর খেরি মামলার তদন্তের জন্য হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি নিয়োগ করে।

১৯ নভেম্বর, ২০২১: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ঘোষণা করেন যে তিনটি খামার আইন বাতিল করা হবে। কৃষক নেতৃত্বের পক্ষ থেকে জানানো হয় সংসদে আইন বাতিলের ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।

GOOGLE NEWS-এ আমাদের ফলো করুন

Related Stories

No stories found.
People's Reporter
www.peoplesreporter.in